তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৩৬তম নেটো শীর্ষ সম্মেলন। প্রথম দিনেই জোট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, নেটোর অনেক মিত্রই যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ায়নি, তাই জোট নিয়ে তিনি খুবই হতাশ।
মঙ্গলবার সম্মেলনে যোগ দিতে আঙ্কারায় পৌঁছান ট্রাম্প। এদিনই প্রথম দিনের অধিবেশন শেষ হয়। মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বুধবার।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, সম্মেলনটি তুরস্কে না হলে হয়তো তিনি এতে অংশই নিতেন না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোয়ানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো।
এ ছাড়া, তুরস্কের ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
তবে সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা উচিত।
অন্যদিকে, সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল নেটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি। জোটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মাত্র পাঁচটি সদস্য দেশ জিডিপির ৩দশমিক ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে।
সদস্য দেশগুলোর প্রতি আরও স্পষ্ট প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। তিনি রাশিয়ার পাশাপাশি চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানকে নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়াও উক্রেইনকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নেটো সদস্যদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
এস্তোনিয়া, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছেন উক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পাশাপাশি জার্মানি, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও কানাডার সঙ্গেও নতুন চুক্তির আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।