শান্তি আলোচনার সময়ে ইরানি নেতৃত্বকে হত্যার পরিকল্পনা, দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলাকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি  এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফকে ইসরায়েল হত্যার পরিকল্পনা করছিলো বলে দাবি করছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যখন একটি অস্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিলো, তখনই ইসরায়েলের সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিলো ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিলো, এই দুই আলোচককে হত্যা করা হলে পুরো শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাবে এবং আবার বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

এই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান ছিলো ভিন্ন। 

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিলো আলোচনা চালিয়ে যুদ্ধ থামানো। অন্যদিকে ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিলো ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল রাখা। 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সহ অন্যান্য কূটনীতিকরা। আলোচনা অনেকটা অস্থির ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে হয়েছিলো বলে দাবি করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েল চেয়েছিলো ইরানের কট্টরপন্থি সরকারকে উৎখাত করতে। তখন আরাগচি বা গালিবাফ ইসরায়েলের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারতো। তবে এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল শুরুতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে টার্গেট করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্র চাইছিলো আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থামাতে, আর ইসরায়েল যুদ্ধকে আরও দীর্ঘমেয়াদে চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে দেখতে শুরু করে।

এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করে, যদি আরাগচি  এবং গালিবাফকে হত্যা করা হয়, তাহলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে যাবে। এমনকি ইরানের প্রতিনিধিদলকে নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন সফরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।