দারিদ্র্য, নিষেধাজ্ঞার পর ভূমিকম্পের ধাক্কায় কোথায় দাঁড়িয়ে ভেনেজুয়েলা

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলা। এর মধ্যেই বুধবারের আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্প যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে। 

আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, দেশটির ৩ কোটি ১৭ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ২ কোটিরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। খাদ্য ও ওষুধের মতো মৌলিক চাহিদাও নাগালের বাইরে।

এমন এক ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটির মেরুদণ্ডকে যেন পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ২৩৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে চার হাজারেরও বেশি মানুষ। হতাহতে সংখ্যা ছাড়িয়ে যেতে পারে এক লাখ। 

তবে শুধু মৃত্যু নয়, এই ভূমিকম্পের আঘাত হতে পারে আরও ভয়াবহ। মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে আগে থেকেই ভঙুর অবস্থায় থাকা ভেনেজুয়েলা। 

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-এর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বুধবারের এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বিশাল বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রভাব 

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে ভেনেজুয়েলার ওপর তেল, আর্থিক খাত ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। উদ্দেশ্য ছিলো প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। 

এসব নিষেধাজ্ঞায় দেশটির তেল রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে বর্তমানে তেল ও জ্বালানি খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে

ভেনেজুয়েলার জনগণ আগে থেকেই তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছিল।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। দীর্ঘদিনে ধরে আমেরিকার চলমান নিষেধাজ্ঞার ফলে আগে থেকেই সেখানে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট। এর মধ্যেই জোড়া ভূমিকম্পে নিজেদের অর্থায়নে জরুরি চাহিদা মেটানো এখন ভেনেজুয়েলার পক্ষে অসম্ভব। যার কারণে বিদেশ থেকে দ্রুত সাহায্য আসা অত্যন্ত জরুরি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে অভিযান চালিয়ে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর বদলে যায় দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। বর্তমানে মাদুরোর সাবেক সহযোগী দেলসি রদ্রিগেজের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্ক তুলনামূলক স্থিতিশীল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন ভেনেজুয়েলাকে সাহায্য করতে যুক্তরাষ্ট্র  সম্পূর্ণ প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম। 

তিনি ট্রুথ সোস্যালে এক পোষ্টে বলেন, “আমি আমাদের সরকারের সব সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আমাদের নতুন ও মহান বন্ধুদের পাশে থাকবো।”

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ওপর থেকে এ বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলার নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক ও ব্যক্তির সাথে লেনদেনের অনুমতি দিয়ে নতুন লাইসেন্স জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। 

তবে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্তি এবং টেকসই বিনিয়োগের জন্য ভেনেজুয়েলাকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা-মুক্ত করা প্রয়োজন।

'সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি'-র অর্থনীতিবিদ র‍্যাচেল জিয়েম্বা আল জাজিরাকে বলেন, "ভেনেজুয়েলা পুনর্নির্মাণের জন্য বিদেশি সহায়তা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য। তবে এই বৈশ্বিক তহবিল ও জরুরি সামগ্রীর প্রবাহ সচল করতে দেশটির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরও কিছু অ্যাডজাস্টমেন্ট আনা প্রয়োজন।"

তেল অবকাঠামো 

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো তেল খাত। দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ লাখ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে ভেনেজুয়েলা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের রিজার্ভও লাতিন আমেরিকার এই দেশটিতে। ভূমিকম্পে অবশ্য দেশটির মূল জ্বালানি অবকাঠামোর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।

দেশের অন্যতম প্রধান তেল শোধনাগার 'এল পালিটো শোধনাগার'। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি কারাবোবো রাজ্যে অবস্থিত হলেও সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে শোধনাগারটি।

ভেনেজুয়েলার অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তেল

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ‘মরন পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স’। বুধবার এই কারখানার একটি স্টোরেজ ট্যাংকে সামান্য লিকেজ বা ফুটো দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার থেকেই সেখানে পুনরায় তেল উৎপাদন শুরু হয়েছে।

মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। তারা জানিয়েছে যে, তাদের সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সচল রয়েছে। এছাড়া শেল, এনি এবং রেপসল-এর মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো নিশ্চিত করেছে যে তাদের সকল কর্মী সুরক্ষিত আছেন।

ইউএসজিএস বলছে, এই দুর্যোগের কারণে ভেনেজুয়েলার মোট জিডিপির প্রায় ১ থেকে ৭ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে দেশটির জিডিপির আকার প্রায় ১১১ বিলিয়ন ডলার।

ভূমিকম্পের পর পুরো এলাকায় খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষুধার্ত মানুষদেরকে দোকান লুটপাট করতে দেখা গিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, হাসপাতাল এবং আবাসন খাত পুনর্নির্মাণের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল প্রয়োজন হবে।

উদ্ধার অভিযান ও বৈশ্বিক সহায়তা 

ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও জানান, কারাকাসের কাছে ভেনেজুয়েলার প্রধান প্রবেশদ্বার 'সিমোন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর' মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আক্রান্ত অঞ্চলে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠাতে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর সহায়তা করবে।

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে এমফিবিয়াস ট্রান্সপোর্ট শিপ, ইউএসএস ফোর্ট লাউডারডেলসহ একাধিক বিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মেক্সিকো, কাতার, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও এল সালভাদরের মতো দেশও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে বিশেষ উদ্ধারকারী দল রওনা হয়েছে

আর্থিক অনুদান, জরুরি ত্রাণ সামগ্রী এবং একটি ফিল্ড হাসপাতাল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও।

এ ছাড়া একটি সামরিক বিমানে করে দেশটির ৫৭ জন উদ্ধারকর্মী এবং ৪০ জন ফায়ার ফাইটার ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “ফ্রান্স তার ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে দাঁড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ফ্রান্সের ৮৫ জন বিশেষ উদ্ধারকারীর একটি দল অবিলম্বে সেখানে মোতায়েন করা হবে।”

একটি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল, মেডিকেল টিম, ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের দল পাঠাচ্ছে ফ্রান্স। 

রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও ভেনেজুয়েলার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ইউরো আর্থিক সহায়তার একটি প্যাকেজ পাঠিয়েছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য গভীর উদ্বেগ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। 

ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী রাষ্ট্র কলম্বিয়া, জরুরি ত্রাণের পাশাপাশি অনুসন্ধান কাজের জন্য ৬০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এবং ৪টি প্রশিক্ষিত কুকুর পাঠিয়েছে।

ইইউ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ বা আবেদন পেলেই তারা বড় ধরনের সহায়তা সচল করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। 

জাপানের সুপরিচিত বেসরকারি সংস্থা 'পিস উইন্ডস' ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এই সংস্থা মূলত  জরুরি মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়ে কাজ করে। 

ভেনেজুয়েলার মিত্র দেশ চীন জানিয়েছে যে তারা তাদের সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই-ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে তাদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।  

হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পের ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে। ভূমিকম্পে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরে পরিণত হয়েছে উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরা। 

লা গুয়াইরার বাসিন্দারা ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাদের প্রতিবেশীদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শহরের জোসে মারিয়া ভার্গাস হাসপাতালে উপচে পড়ছে আহত রোগীদের ভিড়। ভেতরে জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে পুলিশ।

মোরন শহরের হাসপাতালের একজন ডাক্তার বার্তাসংস্থা রয়টার্সেকে জানান, তাদের হাসপাতালে গজ, থার্মোমিটার, গ্লাভস, প্লাস্টার ও ব্যথানাশক ওষুধসহ মৌলিক চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম সংকট রয়েছে। 

ভূমিকম্পের পর হাসপাতালটিতে ১১২ জনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মাথার খুলি ফেটে এবং অন্যান্য গুরুতর আঘাতে ৩ শিশুসহ ৯ জন মারা গেছেন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, কেবল লা গুয়াইরা অঞ্চলেই ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে পড়েছে। 

খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার কার্য চলছে

দেশটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, মারাত্মক ক্ষতির কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কারাকাসের অবস্থিত ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মাইকেতিয়া।

দেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

এছাড়াও ভূমিকম্পের জন্য দেশব্যাপী রেল যোগাযোগ এবং জরুরি নয় এমন সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এক সপ্তাহের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথাও জানিয়েছেন রদ্রিগেজ।

দেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ভেনেজোলানা দে টেলিভিশনকে বলেন, শক্তিশালী এই দুটি ভূমিকম্পের পর অন্তত ৩০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা জানিয়েছে ইউএসজিএস। সংস্থাটি বলছে, এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

তবে বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কেঁপে উঠেছে ব্রাজিল-কলম্বিয়াও 

ভূমিকম্প দুটি এতটাই শক্তিশালী ছিলো যে, কারাকাস থেকে দক্ষিণে ১ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে আমাজন বনের ভেতরে অবস্থিত ব্রাজিলের মানাউস শহরেও এটি অনুভূত হয়েছে। সেখানে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসে।

কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকেও শত শত কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানায়, দেশটির কিছু অংশে ভূকম্পন টের পাওয়া গেছে। সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। 

তবে এই দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় কোনো ব্রাজিলীয় নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রণালয়।

ভূমিকম্পের কারণ

ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত ভেনেজুয়েলা। এ কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার ইতিহাস রয়েছে।

১৮১২ সালে মেরিদা ও কারাকাসে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

১৯৬৭ সালে কারাকাসে আরেকটি ভূমিকম্পে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়ে এবং অন্তত ২৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

বুধবারের ভূমিকম্প দুটির কেন্দ্র খুব একটা গভীরে ছিল না। প্রথমটির কেন্দ্র ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ২০.৩ কিলোমিটার নিচে এবং দ্বিতীয়টি ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। 

ইউএসজিএস জানিয়েছে, বুধবারের দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে বড়টির কারণ ছিলো ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সীমানার কাছাকাছি স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং।

স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট হলো যখন ভূপৃষ্ঠে থাকা দুটি শিলাখণ্ড একটি অপরটির পাশ দিয়ে বিচ্যুত হয়ে চলে যায়। এই বিচ্যুতি দুই ধরণের হয়ে থাকে। শ্যালো স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং এবং ডিপ স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং।

ইউএসজিএস এর মতে ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পের কারণ ছিলো  শ্যালো স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং বা কেন্দ্র অগভীর হওয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে,শ্যালো স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং এর কারণে হওয়া ভূমিকম্পগুলোই বেশি বিধ্বংসী হয়। যা হয়েছে ভেনেজুয়েলার এই জোড়া ভূমিকম্পে। 


(আল জাজিরা, রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে)