এফএ থেকে এইচএসসি: ১৬৫ বছরের ইতিহাস

কবে থেকে এইচএসসি পরীক্ষা চালু হলো, কারাই বা প্রথম এই পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনলাইনে বিস্তর ঘাঁটাঘাঁটি করতে হলো। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ক্যালেন্ডার বা কার্যক্রমের নথিতে শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া গেলো। অনলাইনে থাকা বিবর্ণ পৃষ্ঠার সেই পিডিএফ খুলতেই সামনে এল শিক্ষার্থীদের নাম, পরীক্ষার বিধি, পাঠ্যবইয়ের তালিকা। তারপর প্রশ্নপত্র। আজকের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পূর্বসূরি এফএ-তে কী পড়ানো হতো, কী জানতে চাওয়া হতো, তার অনেকটাই তুলে ধরা আছে সেখানে।

যেমন, প্রথম পরীক্ষার একটি প্রশ্নে বাংলা কবিতার ছন্দ ব্যাখ্যা করতে বলা হচ্ছে ইংরেজিতে। আরেকটিতে জানতে চাওয়া হচ্ছে, স্বপ্ন দেখার সময় মানুষের মনের অবস্থা কেমন থাকে। বিপন্ন একজন মানুষের প্রতি নিজের ভেতর সহমর্মিতা জাগাতে চাইলে কী করা যায়, এমন প্রশ্নও আছে। ইংরেজি পরীক্ষায় মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট খুলে বসতে হচ্ছে। গণিতে সমাধানের পাশাপাশি চাই প্রমাণ, ব্যাখ্যা ও যুক্তি।

পাতা উল্টাতে উল্টাতে পাওয়া গেলো আরও পরিচিত একটি ঘটনা: প্রশ্নফাঁস। প্রথম এফএ পরীক্ষার সময়েই প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল যে পরীক্ষা এক মাস পিছিয়ে দিতে হয়।

১৮৬১ সালের সেই প্রথম এফএ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পর্যন্ত ১৬৫ বছর। এই দীর্ঘ পথে পরীক্ষার নাম বদলেছে, পাঠ্যক্রম বদলেছে, বদলেছে পরীক্ষার নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। দেশভাগ হয়েছে, স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে। যে পরীক্ষার প্রথম আসরে ছিলেন মাত্র ১৬৩ জন, তার উত্তরসূরি পরীক্ষায় এখন অংশ নেন লাখো শিক্ষার্থী। একসময় মেয়েদের পরীক্ষায় বসার অধিকার নিয়েই সভা করতে হয়েছিল। আজ ফল প্রকাশের দিনের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের বড় অংশই মেয়ে।

এই ইতিহাস তাই শুধু একটি সার্টিফিকেটের নয়। কারা পড়ার সুযোগ পেলেন, কারা পেছনে পড়ে থাকলেন এবং কারা প্রথম দরজাটি খুলে ভেতরে ঢুকলেন, সেই ইতিহাসও।

এফএ কেন প্রয়োজন হয়েছিল

১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম দিকে মূলত পরীক্ষা গ্রহণ ও ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ছিল। বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীরা পড়তেন। বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করতো পাঠ্যক্রম, নিতো পরীক্ষা এবং দিতো স্বীকৃতি।

এন্ট্রান্স পরীক্ষা পাসের পর কলেজে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীদের এগোতে হতো বিএ পরীক্ষার দিকে। কিন্তু কলেজ শিক্ষার মাঝামাঝি একটি স্বীকৃত ধাপের প্রয়োজন দেখা দেয়। কয়েক বছর কলেজে পড়েও কেউ স্নাতক হতে না পারলে তার সেই শিক্ষার আলাদা সনদ থাকতো না। আবার বিএ পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়েরও একটি ব্যবস্থা দরকার ছিল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের স্মারকগ্রন্থ ‘হানড্রেড ইয়ার্স অব দ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালকাটা’-এর ৮৮-৮৯ পৃষ্ঠায় এই নতুন পরীক্ষার পরিকল্পনা ও নিয়মের বিবরণ পাওয়া যায়। এন্ট্রান্স ও বিএর মাঝখানে একটি পরীক্ষা রাখার পরিকল্পনা নিয়ে ১৮৫৯ সাল থেকেই আলোচনা চলছিল।

এই পরীক্ষাই পরে পরিচিত হয় এফএ নামে।

university-inter-certificate

এফএ মানে কী

এফএ বলতে সাধারণভাবে ফার্স্ট আর্টস (First Arts) বলা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম যুগের নথিতে পূর্ণ নাম পাওয়া যায় ফার্স্ট এগজামিনেশন ইন আর্টস (First Examination in Arts)।

এখানে ‘আর্টস’ শব্দটি আজকের মানবিক বিভাগের সমার্থক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এটি ছিল কলেজশিক্ষার প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা। এর বিষয়বিন্যাসে ভাষা, ইতিহাস, গণিত এবং বিজ্ঞানসংক্রান্ত পাঠও ছিল।

শতবর্ষের স্মারকগ্রন্থ অনুযায়ী, এন্ট্রান্স পাসের পর অধিভুক্ত কলেজে দুই বছর পড়াশোনার সঙ্গে এই পরীক্ষার সম্পর্ক ছিল। পরীক্ষার ফি নির্ধারিত হয়েছিল ১০ টাকা। ইংরেজির সঙ্গে অনুমোদিত তালিকা থেকে আরেকটি ভাষা নেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। তালিকায় গ্রিক, লাতিন, হিব্রু, আরবি, ফারসি, সংস্কৃত, বাংলা, ওড়িয়া, হিন্দি, উর্দু, বর্মি ও আর্মেনীয় ভাষার নাম পাওয়া যায়।

ইতিহাসে ছিল ইংল্যান্ডের ইতিহাস, ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাস এবং প্রাচীন ইতিহাস। গণিত ও প্রাকৃতিক দর্শনের অংশে পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, সমতল ত্রিকোণমিতি ও বলবিদ্যার উল্লেখ রয়েছে।

আজকের উচ্চমাধ্যমিকের সঙ্গে এর অবস্থানগত মিল থাকলেও বর্তমানের হুবহু প্রতিরূপ এটি ছিল না। পাঠ্যক্রম, পরীক্ষার ভাষা, কলেজে প্রবেশের সুযোগ এবং শিক্ষার্থীর সামাজিক পরিচয় ছিল অনেক আলাদা।

প্রথম পরীক্ষা: ১৮৬১ নাকি ১৮৬২ সালে

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের স্মারকগ্রন্থ প্রথম এফএ পরীক্ষার বছর হিসেবে ১৮৬১ উল্লেখ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৬১-৬২ সালের কার্যবিবরণীতেও পরীক্ষাটিকে ১৮৬১ সালের আয়োজন হিসাবে পাওয়া যায়।

তবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় পরীক্ষাবর্ষ ও বাস্তবে পরীক্ষা গ্রহণের সময় আলাদা করে দেখতে হয়। ডিসেম্বরের নির্ধারিত আয়োজন এক মাস পেছালে তা পরের বছরে চলে যায়। এ কারণেই কোথাও ১৮৬১, কোথাও ১৮৬২ সাল সামনে আসে।

প্রথম পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১৬৩ জন। তাদের মধ্যে প্রথম বিভাগে ১৫ জন এবং দ্বিতীয় বিভাগে ৮২ জন উত্তীর্ণ হন। মোট পাস করেন ৯৭ জন। এই পরিসংখ্যান পাওয়া যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যবিবরণীর মুদ্রিত ১৯৭ পৃষ্ঠার সারণিতে।

ওই সারণিতে পরীক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়ও দেওয়া হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৫৪ জন হিন্দু, ২ জন মুসলমান এবং ৭ জন খ্রিষ্টান ছিলেন।

১৮৬২ সালের ৩১এ জানুয়ারির কার্যবিবরণীতে ফলসংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনের উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সভায় প্রতিবেদন পেশের তারিখ এবং জনসাধারণের জন্য ফল প্রকাশের তারিখ একই কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ঢাকার শিক্ষার্থীদের নামও পাওয়া যায়

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে ঢাকা থেকে এফএ পাস করা প্রথম যুগের শিক্ষার্থীদের নাম পাওয়া যায়। ১৮৬১ সালের উল্লেখসহ তালিকায় বিদ্যাধর দাস, কালীনারায়ণ রাহা, মোহিনীমোহন বর্ধন, নবকিশোর সেন, রুদ্রচন্দ্র মল্লিক, শিবচন্দ্র আইচ, শশীভূষণ বসু, সারদানন্দ দাস, তারাপ্রসাদ দত্ত ও উমাকান্ত দাসের নাম শনাক্ত করা যায়। পুরোনো ইংরেজি বানান থেকে বাংলা করার কারণে নামগুলোর উচ্চারণ কিংবা বানানে একটু এদিক-সেদিক থাকতেই পারে বলে ধরে নেওয়া যায়।

তবে ক্যালেন্ডারের এই তালিকাটি একটি ক্রমপুঞ্জিত শিক্ষার্থী-তালিকার অংশ। এটিকে প্রথম পরীক্ষার সম্পূর্ণ ফলের তালিকা বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

ঢাকার ইতিহাসের জন্য নামগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এর থেকে বোঝা যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরীক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে পূর্ববঙ্গের শিক্ষার্থীদের যোগ শুরু থেকেই ছিল।

প্রথম মুসলমান এফএ পাস কে

ক্যালেন্ডারের তালিকায় হামিদউদ্দিন আহমদ, ইংরেজিতে ‘Hameed-ood-deen Ahmed’, নাম পাওয়া যায়। তার সঙ্গে ১৮৬২ সালের এফএ এবং ঢাকার উল্লেখ রয়েছে।

এই নামটি প্রথম যুগের মুসলমান শিক্ষার্থীদের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। কিন্তু হামিদউদ্দিনকে সমগ্র বাংলার প্রথম মুসলমান এফএ পাস ব্যক্তি বলার জন্য প্রথম পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। অনেক খুঁজেও ইংরেজি নামের বানানের সঙ্গে মিল রেখে এই হামিদ সাহেবের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়টি উদ্ধার করতে পারলাম না।

১৮৪৩ সালের সরকারি রেকর্ডে এই নামের বানানে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন আইনি কর্মকর্তা বা সরকারি উকিলের খোঁজ পাওয়া যায়। ওই সময়ে এন্ট্রান্স (আমরা যাকে এখন এসএসসি বলেই চিনি) পাসের জন্য একটি ন্যূনতম বয়সসীমা ছিল বটে (১৫ বছর ৯ মাস), আর এর দুই বছর পর থেকেই এফএ পরীক্ষা দেওয়া যেতো। 

সর্বোচ্চ বয়সের সীমা না থাকায় হামিদউদ্দিনেরও একই লোক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ১৮৬৮ সালের ক্যালকাটা গেজেটে তার নাম পূর্ণিয়া জেলার আরারিয়ার মুন্সেফ বা দেওয়ানি বিচারক হিসেবে স্পষ্টভাবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। ১৮৮৮ সালের অগাস্ট মাসের অফিশিয়াল ক্যালকাটা গেজেটের সিভিল লিস্ট ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ছুটির আবেদনে তার নাম পাওয়া যায়। সেখানে মালদহের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে তার অতিরিক্ত একদিনের ছুটির আবেদনের একটি গেজেট নোটিফিকেশন সংরক্ষিত রয়েছে।

তবে হামিদউদ্দিনের বাড়ি কোথায় ছিল, তা কিন্তু খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ক্যালেন্ডার পাওয়া গেলো, মিললো প্রশ্নপত্রও

পুরোনো প্রশ্নের অনুসন্ধানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডার পাওয়া গেলো। নাম শুনে দিন-তারিখের বই মনে হলেও এসব ক্যালেন্ডার ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম, পাঠ্যক্রম, প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরীক্ষাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকলন। কোনো কোনো খণ্ডে প্রশ্নপত্রও যুক্ত থাকতো।

১৮৬৪-৬৫ সালের ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় ১৮৬৩ সালের এফএ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। এগুলো প্রথম পরীক্ষার প্রশ্ন নয়। তবে প্রথম যুগের এফএ কেমন ছিল, তা বোঝার সরাসরি প্রমাণ।

এই প্রশ্নপত্রে সাহিত্য সম্পর্কে নিজের মতামত দেওয়া, অনুবাদ, ছন্দ বিশ্লেষণ, শব্দের উৎপত্তি এবং বক্তব্য সংক্ষেপ করার কাজ রয়েছে। শুধু কোনো তথ্য মনে রাখা নয়, শেখা বিষয়কে অন্য ভাষায় বা নিজের ভাষায় প্রকাশের ক্ষমতাও যাচাই করা হয়েছে।

বাংলার পরীক্ষায় ইংরেজিতে উত্তর

calendar

বাংলা প্রশ্নপত্রের পরীক্ষক ছিলেন রেভারেন্ড জে ওয়েঙ্গার। প্রথম প্রশ্নেই ‘সদ্ভাবশতক’ বইটি নিয়ে ইংরেজিতে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে বলা হয়েছে। লেখকের নাম, বইটির নামের মধ্যে ‘শতক’ থাকার কারণ, রচনাগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য এবং সেগুলোর উৎস সম্পর্কে লিখতে হবে।

সেখানেই প্রশ্ন শেষ নয়। বইটির গুণাগুণ সম্পর্কে পরীক্ষার্থীর নিজের মতামত এবং সেই মতের কারণও চাওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রশ্নে পয়ার, দীর্ঘললিতা ও একাবলী ছন্দের বৈশিষ্ট্য ইংরেজিতে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। কতটি চরণ, কতটি অক্ষর, মিলের সংখ্যা ও অবস্থান এবং কোথায় কোন যতিচিহ্ন, সবই জানতে হবে। দেওয়া কবিতার অংশ কোন ছন্দে লেখা এবং কোথায় নিয়ম পুরোপুরি মানা হয়নি, সেটিও শনাক্ত করতে হবে।

আরেকটি প্রশ্নে কবিতার অংশ ইংরেজিতে অনুবাদ করতে বলা হয়েছে। এরপর সেই কবিতায় ব্যবহৃত এমন বাংলা শব্দ চিহ্নিত করতে বলা হয়, যেগুলো গদ্যে ব্যবহার করা হবে না অথবা গদ্যে যাদের বানান কিংবা রূপ বদলাবে। পরীক্ষার্থীকে গদ্যের উপযোগী রূপও লিখতে হবে।

শব্দের ব্যুৎপত্তি, প্রতিশব্দ এবং বাংলায় ভাবার্থ লেখার প্রশ্ন ছিল। ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা এবং ধাতু থেকে শব্দ গঠনের প্রশ্নও পাওয়া যায়।

এই প্রশ্নপত্রে বাংলা সাহিত্যচর্চার উপস্থিতি যেমন আছে, তেমনি ইংরেজির কর্তৃত্বও স্পষ্ট। নিজের ভাষার সাহিত্য বোঝার প্রমাণ দিতে হচ্ছে ইংরেজিতে!

ইংরেজির প্রশ্নে মিলটন ও পিথাগোরাস

একই ক্যালেন্ডারের ইংরেজি প্রশ্নপত্রে জন মিলটনের প্যারাডাইস লস্ট-এর ষষ্ঠ খণ্ড থেকে প্রশ্ন পাওয়া যায়। কবিতার পঙ্‌ক্তির অর্থ, ব্যবহৃত শব্দের বিশেষ অর্থ এবং প্রসঙ্গ সম্পর্কে ধারণা প্রয়োজন ছিল।

এ ধরনের প্রশ্নে আলাদা একটি পঙ্‌ক্তি মুখস্থ থাকলেই যথেষ্ট নয়। কে কথাটি বলছে, কোন পরিস্থিতিতে বলছে এবং বৃহত্তর কাহিনির সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, সে সম্পর্কেও বোঝাপড়া দরকার।

গদ্যের অংশে বক্তব্য সংক্ষেপ করার কাজ ছিল। একটি অনুচ্ছেদে পিথাগোরাসের অনুসারীদের আত্মসমীক্ষার প্রসঙ্গ আসে। দিনের কাজ ফিরে দেখা, কোথায় ভুল হলো বা কী করা উচিত ছিল, সেই বক্তব্য বুঝে সংক্ষেপ করতে হতো।

সাহিত্য, ব্যাকরণ ও পাঠ অনুধাবনকে এখানে একই পরীক্ষার মধ্যে রাখা হয়েছে। আজকের সারসংক্ষেপ বা অনুধাবনমূলক প্রশ্নের সঙ্গে এর মিল পাওয়া যায়।

এফএর প্রথম যুগের প্রশ্নপত্রে মানসিক দর্শন ও নৈতিক দর্শনের উপস্থিতিও পাওয়া যায়। ১৮৬৩ সালের সংকলনে মানসিক দর্শনের প্রশ্নপত্রে ৮টি এবং নৈতিক দর্শনে ৯টি প্রশ্ন রয়েছে।

মানুষের চিন্তা, জ্ঞান ও নৈতিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তৎকালীন শিক্ষার্থীর ধারণা যাচাইয়ের একটি ক্ষেত্র ছিল এই বিষয়গুলো।

১৯০৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এফএর জায়গায় আসে ইন্টারমিডিয়েট। কলা ও বিজ্ঞানের জন্য তৈরি হয় পৃথক পরিচয়: ইন্টারমিডিয়েট ইন আর্টস (Intermediate in Arts) বা আইএ এবং ইন্টারমিডিয়েট ইন সায়েন্স (Intermediate in Science) বা আইএসসি।

১৯০৯ সালে এই পরিবর্তনের সমর্থন পাওয়া যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কটন কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে। কটন কলেজের প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, ওই বছর এফএর পরিবর্তে ইন্টারমিডিয়েট ইন আর্টস ও সায়েন্স কোর্স চালু হয়।

‘ইন্টারমিডিয়েট’ অর্থ মধ্যবর্তী। স্কুল এবং স্নাতক শিক্ষার মাঝখানের অবস্থানটি নামের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে।

এটি কেবল নতুন নাম নয়। কলা ও বিজ্ঞানের পৃথক পাঠধারা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষার প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলে। তবে পরীক্ষাটি তখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার অংশ। কলেজে পড়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতেন।

এফএ পাস প্রথম নারী কারা

পরীক্ষার ইতিহাসে নারীদের প্রবেশের গল্পটি আলাদা। তাদের বাধা শুধু কঠিন পাঠ্যক্রম ছিল না। পরীক্ষায় বসার অধিকারই একসময় নিশ্চিত ছিল না।

চন্দ্রমুখী বসুর ১৮৭৬ সালে এন্ট্রান্সে অংশগ্রহণের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও স্বীকৃতির প্রশ্ন সামনে আনে। নারীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের স্মারকগ্রন্থের ১২২ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশে পাওয়া যায়।

কাদম্বিনী বসু (পরে গাঙ্গুলী উপাধি) ১৮৭৮ সালে এন্ট্রান্স পাস করেন। নারীদের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রাক্তনী-বিবরণ অনুযায়ী, চন্দ্রমুখী ১৮৮০ সালে দেরাদুন থেকে এফএ পাস করেন। নারীশিক্ষার একই ইতিহাসে যুক্ত হলেও চন্দ্রমুখী ও কাদম্বিনীর শিক্ষাজীবনের পথ পুরোপুরি এক ছিল না।

দুজন ১৮৮২ সালের বিএ পরীক্ষায় সফল হন এবং ১৮৮৩ সালের সমাবর্তনে ডিগ্রি গ্রহণ করেন। পরীক্ষাবর্ষ ও ডিগ্রি গ্রহণের বছর আলাদা হওয়ায় দুই ধরনের সাল দেখা যায়।

চন্দ্রমুখী পরে এমএ পাস করেন এবং নারীশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কাদম্বিনী এগিয়ে যান চিকিৎসাশিক্ষায়। তাদের অর্জন অন্য মেয়েদের জন্যও উচ্চশিক্ষার পথ প্রশস্ত করে।

মুসলমান নারীদের আরও দীর্ঘ পথ

বাঙালি মুসলমান নারীদের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে ফজিলাতুন্নেসার নাম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার শিক্ষাজীবনের প্রচলিত সময়রেখায় ১৯২১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯২৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৫ সালে বিএ পাসের উল্লেখ পাওয়া যায়।

বেথুন কলেজের নিজস্ব ইতিহাস নিশ্চিত করে, ১৯২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম মুসলমান ছাত্রী হিসেবে তিনি ভর্তি হন এবং ১৯২৫ সালে পাস করেন।

পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে স্নাতকোত্তর পড়েন। তার পরবর্তী শিক্ষাজীবন ও শিক্ষকতা মুসলমান মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বোর্ডের কাঠামোয়

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা বোর্ডের কাঠামোয় আসার প্রক্রিয়াটি একদিনে সম্পন্ন হয়নি। ঢাকার মাধ্যমিক ও ইন্টারমিডিয়েট বোর্ডের ইতিহাসও পাকিস্তান আমলের আগে পর্যন্ত বিস্তৃত। পূর্ব পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি ছিল ১৯৬১ সালের ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্ডিন্যান্স। অধ্যাদেশ নাম্বার ৩৩, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ১৯৬১।

সরকারি আইনসংকলনে সংরক্ষিত পাঠে ইন্টারমিডিয়েট শিক্ষাকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণ, পাঠ্যক্রম নির্ধারণ এবং প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতির মতো দায়িত্বও বোর্ডের ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়েছে।

১৯৬৩ সাল থেকে নাম বদলে এইচএসসি 

হায়ার সেকেন্ডারি সার্টিফিকেটের (এইচএসসি) ইতিহাসে ১৯৬৩ সাল বারবার সামনে আসে। ওই সময়ে শিক্ষাকাঠামো, বোর্ডের প্রশাসন এবং পরীক্ষার পরিচয়ে পরিবর্তন ঘটছিল। যশোর বোর্ডের নিজস্ব ইতিহাসেও ১৯৬৩ সালের অক্টোবরে বোর্ড প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

১৯৬৩ সালে এইচএসসি পাসের উল্লেখ বিভিন্ন ব্যক্তির শিক্ষাজীবনের বিবরণেও রয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এইচএসসি পরীক্ষা 

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শিক্ষাজীবনে বড় বিপর্যয় ঘটিয়েছিল। বহু শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বন্ধ হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী শহীদ হন। পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়, প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীনতার পর আটকে থাকা পরীক্ষা নেওয়া এবং নিয়মিত শিক্ষাবর্ষ ফিরিয়ে আনা, দুটি কাজই সামনে আসে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে বসেন ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে।

সেসময় সাধারণ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার বোর্ড ছিল চারটি: ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা ও যশোর। পরীক্ষার ফলই প্রকাশ হয়েছে ওই বছরেরই এপ্রিল মাসে।

তবে পুরোনো পত্রিকার কাটিংগুলো দেখাচ্ছে, সব বোর্ডের ফল একই দিনে প্রকাশিত হয়নি। কোনো বোর্ডের সংবাদ আগে এসেছে, কোনোটি পরে। আজকের একযোগে ফল প্রকাশের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই সময়কে বোঝা যাবে না।

প্রথমে যশোর, রাজশাহী ও কুমিল্লার সংবাদ পাওয়া যায়। ঢাকা বোর্ডের ফল পাওয়া গেলো ২৮ এপ্রিলের পত্রিকায়।

মনে রাখতে হবে, এটা ১৯৭২ সালের শিক্ষাবর্ষের ফল। ‘যশোর বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার ফল’ শিরোনামের সংবাদ অনুযায়ী, মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩১ হাজার ৭১১ জন। পাস করেন ২৯ হাজার ৪৯ জন। পাসের হার ৯১ দশমিক ৭১ শতাংশ।

মেধাতালিকায় বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম হন পটুয়াখালী কলেজের জোবায়দুল হক, দ্বিতীয় দৌলতপুর বি. এল. কলেজের এস. কে. আলী আকবর এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম।

মানবিক বিভাগে প্রথম দৌলতপুর বি. এল. কলেজের মোহাম্মদ আশরাফুল মকবুল। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন একই কলেজের গোলাম মোস্তফা এবং তৃতীয় ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজের মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম।

বাণিজ্য বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন যথাক্রমে পিরোজপুর কলেজের বেগম মাহমুদা, খুলনা আজম খান কমার্স কলেজের মোহাম্মদ আতাউল ইসলাম এবং (যৌথভাবে) চুয়াডাঙ্গা কলেজের এস. এম. সিদ্দিকুর রহমান ও ভোলা কলেজের শরৎ চন্দ্র দত্ত।

কৃষি বিভাগে প্রথম হন রামনগর আমিনুদ্দিন ও জোহর আলী কলেজের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। হোম ইকোনমিক্স ও ইসলামিক শিক্ষা বিভাগে কেউ প্রথম বিভাগ পাননি বলে সংবাদে উল্লেখ রয়েছে।

এই তালিকায় পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা, চুয়াডাঙ্গা ও মাদারীপুরের উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। মেধার সংবাদ বড় শহরের কয়েকটি কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

রাজশাহী বোর্ডে মোট ৪৪ হাজার ৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন ৪২ হাজার ২৫৯ জন। প্রথম বিভাগে ৩ হাজার ৫২২ জন, দ্বিতীয় বিভাগে ৩২ হাজার ১৯৫ জন এবং তৃতীয় বিভাগে ৬ হাজার ৫৪২ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

কুমিল্লা বোর্ডে পাস করেছিলেন প্রায় ৮৬ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ফজলে আলী প্রথম স্থান অধিকার করেন। তবে কোন বিভাগে, সেটি সংবাদে উল্লেখ করা হয়নি।

ঢাকা বোর্ডের ফল ছাপা হয়েছিল সবচেয়ে পরে। ২৮ এপ্রিল ১৯৭৩-এর পত্রিকায় প্রকাশিত সেই ফল অনুযায়ী, পাসের হার ছিল শতকরা ৮৫ ভাগ।

প্রথম বাক্যে লেখা ছিল: “গতকাল শুক্রবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ গত বছর নভেম্বর মাসে গৃহীত এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে।”

সংবাদে মোট ৭০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০ হাজারেরও বেশি জন উত্তীর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পাসের হার শতকরা ৮৯ এবং প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের শতকরা ৮১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবিক, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, শিল্প, গার্হস্থ্য অর্থনীতি, সঙ্গীত ও ইসলামী শিক্ষা শাখার ফলও দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের পাসের হার শতকরা ৯১ ছিল।

একই সংবাদের পরের অংশে মেধাতালিকায় সর্বোচ্চ স্থান অধিকারীদের পরিচয় রয়েছে। কোথাও ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মিলিত অবস্থান, কোথাও ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম স্থান আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।

মানবিকে সর্বোচ্চ স্থান অধিকারী ঢাকা সরকারি মহাবিদ্যালয়ের মোঃ মহাতাব উদ্দিন চৌধুরী। ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম হন ইডেন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সৈয়দা আরেফা জামান।

বিজ্ঞানে সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান পান ঢাকা সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অ ক ম সেলিম। ছাত্রীদের মধ্যে প্রথম স্থানের বিবরণে ঢাকা সরকারি মহিলা কলেজের সুফিয়া ফেরদৌস চৌধুরীর নাম রয়েছে।

বাণিজ্য বিভাগে প্রথম হয়েছিলেন ঢাকা সরকারি কলেজের আবদুর রশীদ খান।

সংখ্যার আয়নায় ১৬৫ বছর

১৮৬১ সালের প্রথম এফএ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৬৩ জন, পাস করেছিলেন ৯৭ জন। এর মধ্যে প্রথম বিভাগে ছিলেন ১৫ জন এবং দ্বিতীয় বিভাগে ৮২ জন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এইচএসসিতে চারটি বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন কয়েক হাজার থেকে কয়েক ডজন হাজারে। রাজশাহী বোর্ডেই ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেন, পাসের হার ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ; কুমিল্লা বোর্ডে এই হার ছিল প্রায় ৮৬ ও ঢাকা বোর্ডে ৮৫ শতাংশ। আর ২০২৬ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন, যাদের ফল প্রকাশ হবে ৩১এ অক্টোবর ২০২৬। প্রথম এফএর ১৬৩ জন থেকে আজকের ১২ লাখেরও বেশি, এই ব্যবধানই ১৬৫ বছরের সংক্ষিপ্ততম হিসাব।

তবে সংখ্যা কেবল বিস্তারের গল্পই বলে, মানের প্রশ্নটি তার ভেতর থেকে মেলে না। তাই এই ইতিহাস শেষ পর্যন্ত একটি সনদের কাছে আমাদের প্রত্যাশার কথাই মনে করিয়ে দেয়। সনদ যেন শুধু পরের পরীক্ষায় বসার অনুমতি না হয়; তার পেছনে যেন শেখার অভিজ্ঞতা, চিন্তা করার ক্ষমতা এবং নিজের জীবন গড়ার প্রস্তুতি থাকে।