শনিবার স্কুল খোলা থাকলে সহশিক্ষা কার্যক্রমের কী হবে?

রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুলের উত্তরা শাখার শিক্ষার্থী তানজিদ হোসেন দিব্য। পড়াশোনা করছে পঞ্চম শ্রেণিতে। পাশাপাশি সংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করছে তানজিদ। শনিবার নাচ ও গানের রিহার্সেল থাকে তার। 

একই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশারা ইরাবতি। তারও শনিবার থাকে কারাতে ক্লাস। 

কিন্তু এখন তাদের এসব ফেলে ছুটতে হবে ক্লাসরুমে। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১০টি শনিবার (সাপ্তাহিক ছুটির দিন) দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলবে পাঠদান।

রমজান মাসজুড়ে বিদ্যালয়গুলোতে যে ছুটি ছিল, সেই সময়ের ‘শিখন ঘাটতি’ পুষিয়ে নেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে।    

আর এটা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

অভিভাবকরা বলছেন, এই সময়ে শিশুদের তেমন একটা ঘাটতি হয়নি। কারণ অনেক আগে থেকেই রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার রেওয়াজ চলে আসছে। 

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিদের মা নিশাত নিগার চিন্তায় আসেন পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিয়ে। 

বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠানের জন্য দুই ছেলেকে নিয়মিত রিহার্সালে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

“এখন যদি স্কুল খোলা রাখা হয়, তাহলে তারা এই রিহার্সাল থেকে পিছিয়ে পড়বে। সহশিক্ষার এই ঘাটতি পূরণ হবে কীভাবে?,” প্রশ্ন করেন তিনি।  

কারাতের ক্লাস করা ইশারার মা মহুয়া মজুমদারেও রয়েছে উদ্বেগ। 

“এভাবে দুইদিনের মধ্যে একদিন সাপ্তাহিক ছুটি কেটে ক্লাস নেওয়া হলে বাচ্চারা রেস্ট পাবে না। ব্রেইনের উপর বেশি চাপ পড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তারা শিখন ঘাটতি কতটা পুষিয়ে নিতে পারবে তা নিয়ে রয়েছে সন্দেহ,” বলেন এই শিক্ষক। 

রমজানের এই শিখন ঘাটতি ‘অন্যভাবেও’ পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করেন মহুয়া মজুমদার।  এজন্য টার্ম পরীক্ষাগুলোকে কিছুদিন পিছিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।  

সাউথ পয়েন্ট স্কুলের উত্তরা শাখার প্রিন্সিপাল জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, বড় বড় স্কুল গুলোর সাথে পরামর্শ করে তাদের সুপারিশক্রমেই আগামী ১০ শনিবার স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও শিক্ষাথীরা ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। 

শিশুরা সহশিক্ষা কার্যক্রমে পিছিয়ে পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে মূল শিক্ষা ঠিক থাকলে তারপর সহশিক্ষা। 

আর এ জন্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সময় এগিয়ে পিছিয়ে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন তিনি। 

দেশে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮ জন।

তবে শনিবার স্কুল খোলার পক্ষে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। 

আলাপ-কে বলেন, “শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হলে সচ্ছল শিশুদের সহশিক্ষা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটা ঠিক। তারা চাইলে এটা পুষিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু গ্রামের কিংবা অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য সিলেবাস শেষ করা জরুরি। 

একইসঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রমে নির্দিষ্ট কোনো দিন থাকা উচিৎ নয় বলে মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা। 

তিনি বলেন, “শুধু ১০ শনিবার নয়, প্রতি শনিবারই বিদ্যালয় খোলা রাখা উচিৎ। যাতে সন্তানকে স্কুলে দিয়ে কর্মজীবি মায়েরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।” 

আর স্কুলেই যেন সকল সহশিক্ষা কার্যক্রম থাকে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন রাশেদা কে চৌধুরী।