‘‘পরীক্ষা দিয়ে এসে আমার মেয়ে বলছে, সুইসাইড করবে।’’
নিজ বাসায় বসে এমনটাই আলাপ-কে বলছিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী শর্মি দাসের বাবা শ্যামল চন্দ্র দাস।মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার নিয়ম বদলে ফেলেছে সরকার।
‘নিয়মিত’ আর ‘অনিয়মিত’ শিক্ষার্থীদের ভিন্ন দুই নিয়মে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সেই ফাঁদেই পড়ে গেছেন শর্মি দাস, যা তাকে নিয়ে গেছে ‘মানসিক বিপর্যয়ের’ দিকে।
কী হয়েছে শর্মি দাসের সঙ্গে
বিসিএসআইআর স্কুল থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী শর্মি দাস। কিন্তু পরীক্ষা যতই এগিয়ে আসছে, ততই নানা শঙ্কা তাকে ঘিরে ধরেছিল।
শর্মির হাতে ছিলো না পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড। যদিও পরীক্ষার আগে পাওয়া গেছে প্রবেশপত্র।
স্কুলের শিক্ষকদের কাছে, অফিসে ছোটাছুটি করতে থাকেন রেজিস্ট্রেশন কার্ড পাওয়ার আশায়।
কিন্তু হাতে আর আসে না কাঙ্ক্ষিত কার্ড। স্কুল থেকে তাকে জানানো হয়, বাসায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে। সেটা দিয়েই তুমি পরীক্ষা দিতে পারবে।
শর্মি বুঝে পায় না বাসায় আছে কোন রেজিস্ট্রেশন কার্ড!
শেষমেষ বাধ্য হয়ে ২১এ এপ্রিল জেএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড আর এসএসসির প্রবেশপত্র নিয়েই হাজির হন পরীক্ষার কেন্দ্রে।
ঠিক তখনই ‘বিস্ময়কর’ বাস্তবতার মুখোমুখি হন শর্মি।
পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে পেয়ে দেখতে পান, তার প্রশ্নপত্র ২০২৫ সালের সিলেবাসের। তখনই জানতে পারেন, সে নিয়মিত নয়, অনিয়মিত শিক্ষার্থী।
তাই পুরোনো সিলেবাসেই দিতে হবে পরীক্ষা। অথচ তার প্রস্তুতি নতুন সিলেবাসে, স্কুলের পরীক্ষাগুলোতেও সে অংশ নিয়েছে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে।
তাহলে কেন শর্মি দাস ‘অনিয়মিত’ শিক্ষার্থী হলেন?
“আমি পরীক্ষা দিতে বসি, তখন দেখি আমার প্রশ্নে ২০২৫ সাল লেখা। তখন ম্যাডামকে বলি, আমি তো ২০২৬ সালের সিলেবাসে পড়াশোনা করেছি। উনি বললেন, ‘আমাদের তো এখানে কিছু করার নেই। তোমার প্রবেশপত্রেই ২০২৫ লেখা।’ আমি তখন অনুরোধ করে বলি, আমাকে তো স্কুল থেকে এমন কিছু বলেনি। আপনারা আমার স্কুল থেকে কাউকে ডেকে আনেন। তখন তারা আমাদের স্কুলের একজন স্যারকে ডেকে আনেন। ওই স্যারও এসে একই কথা বলেন যে কিছু করার নেই,” আলাপ-কে বলেন শর্মি।
শর্মির অনিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়ার বিষয়ে যা জানা গেলো
শর্মি কেন অনিয়মিত শিক্ষার্থী হয়ে পড়লো? জানতে চাওয়া হয় তার বাবা শ্যামল চন্দ্র দাসের কাছে।
তিনিও মেয়েকে নিয়ে শঙ্কায়। এমনকি মেয়ের মানসিক অবস্থা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন শর্মির মা।
শর্মি ২০২৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়তেন। অসুস্থ থাকার কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারেননি। যদিও সে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়।
কিন্তু শর্মি চেয়েছে আরও ভালোমতো পড়াশোনা করে দশম শ্রেণিতে উঠতে। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন নবম শ্রেণিতেই আবার থেকে যাবেন।
“২০২৪ সালে আমরা শর্মিকে ক্লাস নাইনেই রাখি। নাইনে নতুন করে ভর্তি করাই,” বলেন শ্যামল চন্দ্র দাস।
নবম শ্রেণিতে আবার ভর্তির সময় কি নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, “আমি তো নতুন করে ভর্তি করেছি। নতুন করে সে ক্লাস করছে, নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষাও দিয়েছে, এভাবে সে ক্লাস টেনেও উঠে যায়।”
তাহলে স্কুল থেকে কেন জানায়নি শর্মির অনিয়মিত শিক্ষার্থীর বিষয়ে? এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, শর্মি কখনো বলেনি সে অনিয়মিত শিক্ষার্থী।
স্কুলকে শিক্ষার্থী জানাবে নাকি শিক্ষার্থীকে স্কুল জানাবে? এমনই বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
শর্মির ক্লাস টেনের শ্রেণি শিক্ষক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) আলাপ-কে বলেন, “ও কখনো ক্লাসে আমাকে বলেনি সে অনিয়মিত। আমার ক্লাসে যেহেতু সবাই ক্লাস নাইন থেকে পাস করে এসেছে। তাই আমি ধরেই নিয়েছি এখানে সবাই নিয়মিত শিক্ষার্থী।”
বিসিএসআইআর স্কুলের অফিস সহকারী আশিকুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয় স্কুলের কোন শিক্ষার্থী অনিয়মিত আর নিয়মিত, এমন তালিকা তারা শিক্ষকদের কাছে সরবরাহ করেন কিনা।
“এ ধরনের পদ্ধতি এবারই প্রথম। আগে কখনো এমনটা প্রয়োজন হয়নি,” বলেন তিনি।
আশিকুর রহমান বলেন, “একবার রেজিস্ট্রেশন করলে তিন বছর নতুন রেজিস্ট্রেশন করা যায় না। সেটাও পারা যায়। কিন্তু বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করে পুরোনো রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে হয়। তারা সেই আবেদন করেননি।”
একই বিষয়ে শর্মির বাবা শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, “ক্লাস নাইনে যে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল, সেটা তো আমরা জানতাম না। স্কুল তো আমাদেরকে বলেনি। পুরোনো রেজিস্ট্রেশন থাকলে, বাতিল করবে নাকি রাখবে, এসব বিষয়ে স্কুল তো আমাকে কিছু বলেনি।”
শর্মির রেজিস্ট্রেশন কার্ড প্রথম পরীক্ষা শেষের পর
শর্মি বলেন, তার বন্ধুরা রেজিস্ট্রেশন কার্ড পেলেও তাকে দেওয়া হয়নি। সে যখন শ্রেণি শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন তাকে বলা হয় অফিসে গিয়ে জানাতে। সে অফিসেও যায়। কিন্তু মেলে না রেজিস্ট্রেশন কার্ড।
“আমার মেয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। শেষে তাকে বললো, বাসায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আছে, সেটা দেখো। বাসায় ছিলো জেএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড,” আলাপ-কে বলেছেন শ্যামল চন্দ্র দাস।
রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়াই শর্মি প্রথম পরীক্ষা দিয়েছে। সেটাই বা কীভাবে? এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় শ্যামল চন্দ্র দাসের কাছে।
“আমার মেয়েকে বারবার বলেছে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বাসায় আছে। তো সে ধরে নিয়েছে রেজিস্ট্রেশন কার্ড বাসায় তো জেএসসির। এখন জেএসসি আর এসএসসির রেজিস্ট্রেশন নম্বর একই। সে পরীক্ষার কেন্দ্রে যখন গেলো, তারা রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলিয়ে দেখেছে। কিন্তু এটা যে জেএসসির সেটা খেয়াল করেনি। এটা তো ভয়ঙ্কর বিষয়! কারণ সে তো অ্যারেস্টও হতে পারতো,” বলেন তিনি।
বিসিএসআইআর স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাফর উল্লাহ বলেন, “আমার স্কুল থেকে ২৬২ জন পরীক্ষা দিচ্ছে। ২৬১ জন রেজিস্ট্রেশন কার্ড পেলো, একজন কেন পাবে না?”
তার দাবি, শর্মি নিজেই রেজিস্ট্রেশন কার্ড নেয়নি।
শর্মি নেয়নি কিন্তু স্কুলের কাছে যে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছিলো, সেটা কেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা দেখতে পেলেন না? এই প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
“শর্মি রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিতে এসেছে, কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি। এটা যদি আমাকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়, তাহলে আমি অবশ্যই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো,” আলাপ-কে বলেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাফর উল্লাহ।
শুধু রেজিস্ট্রেশন কার্ড নয়, শর্মির দাবি, তাকে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রবেশপত্রও ক্লাসে দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে অফিস থেকে।
“আমাকে প্রথমে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয়নি। যখন অ্যাডমিট কার্ডের জন্য শ্রেণি শিক্ষকের কাছে যাই, তখন আমাকে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আমি তখন অফিস রুমে যাই। সেখান থেকে আমাকে অ্যাডমিট কার্ড দেয়,” বলেন শর্মি দাস।
শর্মি রেজিস্ট্রেশন কার্ড পেয়েছে প্রথম পরীক্ষা দিয়ে আসার পর। যখন তারা বাবা উদ্যোগী হয়ে স্কুলে এসে অফিসে কথা বলেন।
“পরীক্ষা শেষ করে আমি যখন স্কুলে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, আমার মেয়ের রেজিস্ট্রেশন কার্ড কোথায়? অফিস থেকে জানালো, আপনার মেয়ে রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে গেছে। আমি বললাম, না নেয়নি। নিলে তো থাকতোই। এটা নিয়ে তখন বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তার রুমের ফাইল থেকেই রেজিস্ট্রেশন কার্ড বের করে। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা তাহলে এখন কোথা থেকে বের হলো? আর নতুন রেজিস্ট্রেশনের নামে আমার কাছ থেকে যে টাকা নিলেন সেটা কোথায়? তারা আমার কোনো কথার উত্তর দিতে পারেননি।”
অনিয়মিত শিক্ষার্থীর দেখার দায়িত্ব কার
শর্মি দাস যে অনিয়মিত শিক্ষার্থী, সেটা সে নিজেও জানে না। সে জানে নতুন করে ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছে। সুতরাং সে নিয়মিত শিক্ষার্থী।
তার বাবা শ্যামল দাস বলেন, “অ্যাডমিট কার্ডে ইরেগুলার লেখা ছিল, সেটা তো আমরা খেয়াল করি নাই। আমাদের যখন বাসায় অ্যাডমিট কার্ড পাঠায় তখন বলা হয়, সেখানে বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ ঠিক আছে কিনা দেখে দিতে। আমরা সেটা দেখে দিয়েছি। কিন্তু ইরেগুলার লেখা, সেটা তো আমরা জানি না। স্কুলও তো কখনো বলেনি, তুমি ইরেগুলার। তোমার আলাদা সিলেবাস, তোমার আলাদা প্রশ্ন হবে, সেই গাইড তো স্কুল করেনি।”
এই দায়িত্ব স্কুলের ওপর বর্তায় কিনা?
“স্কুল তো তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না। এখানে শ্রেণি শিক্ষক, বিষয় শিক্ষক এবং অভিভাবক সবারই দায়িত্ব আছে। কেউই তার দায়িত্ব এড়াতে পারবে না,” এই প্রশ্নের উত্তরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাফর উল্লাহর বলেন।
“তার (শর্মির) বাবাকে সাথে নিয়ে আমি ২১এ এপ্রিল ঢাকা বোর্ডে গেছি দরখাস্ত নিয়ে। যেন এই সমস্যাটার একটা সমাধান হয়। এখন তারা আমাদের জানিয়েছে, যেহেতু রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেছে সুতরাং তাদের কিছু করার নেই। আর এই ধরনের সমস্যা নিয়ে শুধু আমি যাইনি, সেখানে আমি আরও ২৪-২৫ জনকে একই বিষয়ে আবেদন নিয়ে যেতে দেখেছি,” তিনি বলেন।
পুরো ঘটনাটিকে ‘শিক্ষকদের চরম দায়িত্বহীনতা’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।
“আমরা ইতোমধ্যেই কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছি। পরীক্ষার পর মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে আমরা এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের গাফিলতি করলো, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিব,” আলাপ-কে বলেছেন তিনি।
তিনি জানান এনসিটিবি (জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড) থেকে ২০২৪ সালের শেষে, ২০২৫ সালে শুরুতে এবং মাঝামাঝি তিন-চারটা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে দায়িত্বে এসেও মোট তিনটা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তি দেয়াই হয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্কুলগুলোকে জানানোর জন্য।
“যাদের রেজিস্ট্রেশন ২০২৩/২৪ সালের কিংবা তার পূর্বের, তাদের অবশ্যই ২০২৫ সালের সিলেবাস অন্তর্গত করতে হবে। আর যারা নিয়মিত অর্থাৎ যাদের সেশন ২৪/২৫ তাদের নতুন সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হবে। এটা কয়েক দফা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়,” বলেন তিনি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আগে যদি আমাদের জানানো হতো যে, শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস পড়েনি। তাহলেও সুযোগ ছিল। প্রতিষ্ঠান আমাদের কিছুই জানায়নি। আমাদের প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী অনিয়মিত। তাদের জন্য প্রশ্ন তো আমরা করেছি। নিয়মিত ১২ লাখ, তাদের জন্যও আলাদা প্রশ্ন করা হয়েছে। এখন পরীক্ষার কেন্দ্রে কেউ যদি এসে বলে আমি পুরনোটা দিব না, নতুনটা দেব- এটা কি সম্ভব?”
এমন কী পরিমাণ অভিযোগ পেয়েছেন, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযোগ এসেছে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পরে। তবে সংখ্যাটা খুব কম। “আমরা ধারণা সবাই পাস করে যাবে। কারণ সব কাছাকাছি সিলেবাস। একটার নাম দিয়েছে পুরাতন, একটার নাম দিয়েছে নতুন।”
গত বছর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার গণমাধ্যমকে বলেছিলেন “আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় যে শিক্ষার্থীরা বসবেন তারা নবম শ্রেণিতে বাতিল হয়ে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু গতবছরের সেপ্টেম্বরে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল হয়ে যাওয়ার পর তারা বিভাগ বিভাজনসহ ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণিতে পড়েছেন। তাই আগামী বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে।”
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘হঠাৎ’ করেই সিলেবাসে বদল আনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, নিয়মিত শিক্ষার্থীরা অর্ধেক সিলেবাসে, আর অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা পুরোনো পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা দেবেন।
নতুন এই নিয়মের বিভ্রান্তির ফাঁদে পড়ে শর্মিদের মতো শিক্ষার্থীদের যে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হলো, সেই দায়িত্ব কার এবং কীভাবে এটা কাটিয়ে ওঠা যাবে, এই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন অনেকেই।