একজন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের অভিযোগ উঠেছে। এতে উদ্বেগ জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট।
অভিযোগটি করেছেন ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্ট তানভীরুল মিরাজ রিপন। যিনি কাজ করেন দ্য ইকোনমিস্ট, স্কাই নিউজের মতো আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে।
রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা ইস্যু ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করছেন কয়েক বছর ধরে।
তিনি অভিযোগ করেন গত ৩০এ মার্চ সোমবার তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা। সেখানে তাকে তার পেশা সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়।
আলাপ-কে রিপন বলেন, “রোহিঙ্গা কনটেক্সটে কিছু প্রশ্ন করেছে। এর ফাঁকে ফাঁকে আমার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে আমাকে ট্রিগার করার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো বিদেশির সাথে দেখা করলে আমাকে নিয়মিত আসতে হবে তাদের অফিসে। অথচ আমি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাজ করি। আমার কাজই বিদেশি কলিগদের সঙ্গে কাজ করা।”
ব্যক্তিগত বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রিপন বলেন, “আমার আদিবাড়িতে আমার মা থাকেন। এই ধরনের বিষয় নিয়ে তিনি ট্রিগার করার চেষ্টা করেছেন, যা ইন্টিমিডেশন।”
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের এশিয়া প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বলেছেন, “সাংবাদিক তানভীরুল মিরাজ রিপনকে করা এই হয়রানি এখানেই শেষ হওয়া উচিত। সংবাদ মাধ্যমকে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রশ্ন বন্ধ করা উচিত। এ ঘটনা মত প্রকাশের অধিকারকে খর্ব করে।
সিপিজে এশিয়ার ভেরিফায়েড ফেইসবুকের পোস্টে তারা বলেছে, “তানভীরুল মিরাজ রিপন টেলিফোনের আমাদের জানিয়েছেন কক্সবাজার ডিজিএফআই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ৩০ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থা ‘তলব’ করে সাংবাদিকদের পেশাগত এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করে প্রশ্ন করা উচিত নয়।”
এ নিয়ে সিনিয়ার সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেছেন, “ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক এবং এটি অতীতের পুনরাবৃত্তি। অতীতে আমরা যে অবস্থায় ছিলাম যে ডিজিএফআই, প্রশাসন গণমাধ্যমের উপরে নজরদারি করা, খবরদারি করা এবং কখনো কখনো জোরপূর্বক কিছু একটা করে ফেলার চেষ্টা করা। এই জায়গা থেকেই তো আমরা চব্বিশে মুক্তি পেতে চেয়েছি।"
এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি শুরু হলে শুরুতেই প্রতিবাদ করা উচিত বলে মনে করেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার।
তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট অথরিটির ব্যাখ্যা দিতে হবে। তারা কী করতে চেয়েছেন কেন করতে চেয়েছেন? বাংলাদেশের গণমাধ্যমের উপর প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি কিংবা হস্তক্ষেপ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি যেন বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে এর জন্য এই কমিউনিটিকে সোচ্চার থাকে। তবে সরকারকে সতর্তক থাকতে হবে।”
সাংবাদিক তানভীরুল মিরাজ বলেন, “এই ধরনের সাংবাদিক হেনস্থার সংস্কৃতি বন্ধ হলেই আমরা ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ দেখতে পারবো। যে ঘটনা আমার সাথে ঘটেছে সে ঘটনা যেনো কোনো সাংবাদিকদের সাথে না ঘটে সেটি নিয়ে আমরা সজাগ আছি। এই ধরনের সংস্কৃতি ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।”