যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান

ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে ৩৭৭ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৩৯৪

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের যাত্রায় গত ১৫ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৯৪ জন নিহত এবং ১,২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫১ জন।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এসব তথ্য তুলে ধরে। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রার শুরু ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে দেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১,০৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হন। নৌপথে আটটি দুর্ঘটনায় আটজন নিহত, ১৯ জন আহত এবং তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মহাসড়কের অবস্থা আগের তুলনায় উন্নত হওয়ায় যানবাহনের গতি বেড়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ঈদযাত্রায় বিআরটিএ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কার্যক্রম দৃশ্যমান থাকলেও যাত্রী সচেতনতা বাড়াতে তেমন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অধিকাংশ রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি চরমে পৌঁছায়। ফলে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে বাস ও ট্রেনের ছাদে, খোলা ট্রাক কিংবা পণ্যবাহী যানবাহনে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।

এ দিকে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপও ছিল উল্লেখযোগ্য। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) একই সময়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২,১৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, গত বছর ঈদুল ফিতরের সময় ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত এবং ৮২৬ জন আহত হয়েছিল। সে তুলনায় চলতি বছর দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি দুটোই বেড়েছে।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যে পরিমাণ হতাহতের খবর পাওয়া যায়, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনায় তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি মানুষ হতাহত হচ্ছেন।