দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের কঠোর সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। একই সঙ্গে সরকারের অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ১৮০ দিনের রোডম্যাপ উপস্থাপনের আলোচনা শুরু হয়েছে।

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “সরকার একটি ‘ক্লিন সরকার’ গঠনের অঙ্গীকার করেছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।”

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, “বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন- সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহিতা চায়, সেক্ষেত্রে আমরা স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যেকোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।”

১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে সাকি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন এবং খুব দ্রুত একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ উপস্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের অগ্রাধিকার, নির্বাচনি অঙ্গীকার এবং তা বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করাই হবে এ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই রোডম্যাপ দেবেন বলেও জানান তিনি।

নুরুল হক নুর জানান, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সামনে পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে বাজার তদারকি জোরদার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচিতে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি আনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, ইতোমধ্যেই সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি যোগ করেন, “রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”