সুইজারল্যান্ডে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের সময় এক অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ১১৫ জন। বৃহস্পতিবার দেশটির ভালাইস অঞ্চলে একটি স্কি রিসোর্টে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখনো অগ্নিকাণ্ডের কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে কোনো হামলা বা ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন তারা।
হতাহতদের মধ্যে একাধিক দেশের নাগরিক থাকতে পারেন উল্লেখ করে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও নিহতদের কারও পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডারিক গিসলার বলেন, এখনো নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। শনাক্তের পর দ্রুত মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত দেবেন তারা।
আহত ও নিহতদের নাগরিকত্ব এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে দেশটির ১৬ জন নাগরিক নিখোঁজ এবং ১২-১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে দেশটির ৮জন নাগরিক নিখোঁজ। নিহতদের মধ্যে তাদের কোনো নাগরিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো দেশই।
জেনেভা ইউনিভার্সিটি হসপিটালের ড. রবার্ট ল্যারিবাউ বিবিসিকে জানান, সেখানে ভর্তি আহতদের অনেকেরই বয়স কম, ১৫-২৫ বছরের মধ্যে। তিনি বলেন, “আগুনটি এত তীব্র ছিল যে শরীরের ভেতরের অঙ্গও পুড়ে গেছে। বিষাক্ত ধোঁয়া তাদের ফুসফুসে ঢুকে গেছে।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৫০ জন উদ্ধারকর্মী সেখানে কাজ শুরু করেন। রাতেই পাঠানো হয় ১৩টি হেলিকপ্টার ও ৪২টি অ্যাম্বুলেন্স।
স্থানীয় গভর্নর ম্যাথায়াস রেইনার্ড বিবিসিকে বলেন, গুরুতর আহতদের ৬০ জনকে ভালাইসের সিওন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, এবং সেখানকার আইসিইউতেও আর জায়গা নেই। তাই স্থানীয়দের নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি যেন হাসপাতালে যেতে না হয়।
আগুন এত তাড়াতাড়ি কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল তা নিয়ে ধারণা দিয়েছে অগ্নি দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ ফায়ার ইনভেস্টিগেটরস। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড হ্যাগার বলেন, “ফ্ল্যাশওভার এফেক্ট”-এর কারণেই আগুনটি এত তীব্র হয়েছিল।
রিচার্ড হ্যাগার বলেন, “ঘটনা শুরু হয় আগুন দিয়ে, তারপর থারমাল রেডিয়েশন সিলিং পর্যন্ত চলে যায় এবং বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তা নিচের দিকে ছড়ায় চেয়ার, টেবিলের মতো দাহ্য জিনিসের দিকে। তাপমাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে সেগুলো পুড়ে গিয়ে দাহ্য গ্যাস তৈরি করতে শুরু করে।”
“এই দাহ্য গ্যাসে খুবই দ্রুত গতিতে আগুন ধরে যায়, এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ঘর পুড়তে থাকে”-বলেন রিচার্ড।