তুরস্কে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন লিবিয়ার সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ আলি আহমেদ আল-হাদ্দাদসহ। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন আরও চারজন উচ্চপদস্থ লিবীয় সামরিক কর্মকর্তা এবং তিনজন ক্রু সদস্য।
সেনাপ্রধানের বহনকারী বিমানটি আঙ্কারা থেকে উড্ডয়নের ৪২ মিনিট পর কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিজনেস জেটটি থেকে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানানো হয়। পরে আঙ্কারার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।
নিহত আল-হাদ্দাদ আলোচনায় আসেন আরব বসন্তের সময়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে নেটো-সমর্থিত বিদ্রোহে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি উৎখাত ও নিহত হওয়ার পর বিভক্ত হয়ে পড়ে লিবিয়া।
তখন বিভক্ত লিবিয়াকে একীভূত করতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চলমান প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন আল-হাদ্দাদ।
কেন এই দুর্ঘটনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে অনুসন্ধান।
তুরস্কের কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার সম্ভাবনা নাকচ করা হয়েছে বরং কারিগরি ত্রুটিকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবেইবা ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-হাদ্দাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলটি দেশে ফেরার পথে ‘মর্মান্তিক’ এই দুর্ঘটনা ঘটে।
“এই ট্র্যাজেডি জাতি, সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের জন্য এক বিরাট ক্ষতি। আমরা এমন মানুষদের হারিয়েছি, যারা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের সেবা করেছেন এবং শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও জাতীয় অঙ্গীকারের উদাহরণ ছিলেন।”