মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে যখন কূটনৈতিক সমাধানের আশা ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছিল, ঠিক তখনই নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা ফিরিয়ে আনলো লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবর। এমন খবরের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে।
সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইসফাহানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে রবিবার লেবাননে ইসরায়েলের পুনরায় হামলাও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছিলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
বাজারের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন করে চাপে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সোমবারের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪১ ডলারে। এর ফলে গত শুক্রবারের দরপতনের ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠে তেলের বাজার।
মাত্র কয়েকদিন আগেও বিনিয়োগকারীরা আশা করছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু নতুন করে সামরিক তৎপরতা সেই আশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। মার্চের পর থেকে চলমান সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এদিকে রবিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি এবং আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক আশাবাদের বিপরীতে মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। লেবানন, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে নতুন ঘটনাপ্রবাহ বিনিয়োগকারীদের মনে করিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখনও শেষ হওয়ার অনেক বাকি।
এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সংকট এবং কয়েকটি উৎপাদনকারী দেশের সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় অতিরিক্ত উৎপাদন বাজারে বড় কোনো স্বস্তি আনতে পারবে না।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোর্হে লিওন রয়টার্সকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপও তত বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।