যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেই আবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পালটাপালটি হামলা

আবারও পালটাপালটি হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও হামলা চালিয়েছে উভয় পক্ষই। এতে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে ইরানের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। 

সেন্টকমের দাবি, হামলায় একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একই সঙ্গে ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে মোট পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। তবে সেগুলো আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায় অথবা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়।

অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তারা একটি আঞ্চলিক দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে কোন দেশে এই হামলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নতুন এই সামরিক উত্তেজনা এমন সময়ে দেখা দিল, যখন কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে চলমান আলোচনা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।  সর্বশেষ দফার আলোচনাও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নৌ অবরোধ আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া বতসোয়ানার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে অচল করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজটি নির্দেশনা না মানায় একটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এর ইঞ্জিন কক্ষে আঘাত করা হয়।

এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো পদক্ষেপের ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখনো একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বারবার অবস্থান পরিবর্তন ও নতুন শর্ত আরোপের অভিযোগ তুলেছে।

ইউএস সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, ভবিষ্যতের যেকোনো ছাড় নির্ভর করবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত শর্ত পূরণের ওপর।

হামলা-পাল্টা হামলার এই নতুন অধ্যায় কূটনৈতিক সমাধানের পথকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে থাকা অবস্থায় উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় সংঘাতের শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।