ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়াকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের পাল্টা প্রস্তাবে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
এর জবাবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, তিনি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া পড়েছেন এবং তা “একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়”। এর আগে চলতি সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ “খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে”।
অন্যদিকে ইসরায়েলের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরানো এবং অবশিষ্ট সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের ১৪ দফা প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থগিত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয় রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে চলাচল করে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলো “কঠোর পরিণতির” মুখে পড়তে পারে।
এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য মধ্যপ্রাচ্যে একটি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে ৪০টির বেশি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা নৌ চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে বসছেন।
তবে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালিতে কোনো ফরাসি বা ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হলে তার “তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত জবাব” দেওয়া হবে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।