তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেইজিং সফরে একাধিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে পারস্পরিক স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়ে একে অপরকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে বাংলাদেশ ও চীন। দুই দেশ ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্ব’ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে ৫ই মে বেইজিং সফরে যান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সফরে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ আবারও ‘ওয়ান চায়না’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে।
ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং বেইজিংই পুরো চীনের একমাত্র বৈধ সরকার। বাংলাদেশ ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ সংশ্লিষ্ট যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে।
চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। যতো দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাখাইন সংকট প্রসঙ্গে চীন বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে তারা আলোচনার মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেইজিং।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’কে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।