যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের নৈশভোজের অনুষ্ঠানে গুলির ঘটনা ঘটেছে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার রাতে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে গুলির এই ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সরিয়ে নেন।
সেসময় হোটেলের নিরাপত্তা তল্লাশি কেন্দ্রের কাছে বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। সাথে সাথেই প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে নেন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা।
ওই সময় আড়াই হাজারেরও বেশি অতিথি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিবিসির ওয়াশিংটন প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল থেকে জানিয়েছেন, গুলির শব্দের পর নৈশভোজে উপস্থিত অতিথিরা টেবিলের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেন আর অনুষ্ঠানস্থলে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
নৈশভোজে উপস্থিত বিবিসির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তারা বুকে হেঁটে টেবিলের তলায় চলে যান, তাদের মনে হচ্ছিল অনেকক্ষণ ধরে তারা এমনভাবে আছেন।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে ৩১ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
গুলির ঘটনায় এক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট আহত হয়েছেন। তবে তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
হামলার ঘটনার পর সিলগালা করা হয়েছে হিলটন হোটেলকে।
এ ঘটনার সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গুলিবর্ষণের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “তেমনটা মনে হয় না।”
তিনিই লক্ষ্য ছিলেন কি না, এ প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার ধারণা।”
যে ঘরে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল সেটি খুব নিরাপদ ছিল বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে গেলেও এই অনুষ্ঠানটি ‘৩০ দিনের মধ্যে আবার আয়োজন করা হবে’ জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেছেন ট্রাম্প।
আরও দুইবার
এই বারের ঘটনা ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে হয়েছিল কিনা, তা জানা না গেলেও, এর আগে অন্তত দুইবার ট্রাম্পের উপস্থিতিতে গুলি ও গুলির চেষ্টা হয়েছে।
প্রথমবার, ২০২৪ সালের ১৩ই জুলাই, পেনসিলভানিয়ার বাটলার এলাকায় এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্পের ওপর গুলি চালানো হয়। সেবার প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হন তিনি।
একটি গুলি তার ডান কান ছুঁয়ে চলে যায়। ট্রাম্প দ্রুত মঞ্চে বসে পড়েন এবং পরে সিক্রেট সার্ভিস সদস্যরা তাকে ঘিরে সরিয়ে নেন।
এরপর ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৪ আরেকটি ঘটনা ঘটে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে নিজের গল্ফ ক্লাবে খেলার সময় ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে আরও একটি হামলার চেষ্টা চালানো হয়। তবে সেবার গুলি ছুঁড়তে পারেনি হামলাকারী।
সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট ঝোপের মধ্যে একটি রাইফেলের ব্যারেল দেখতে পেয়ে গুলি চালালে হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।