ঈদ যতই এগিয়ে এসেছে, ফুটপাত থেকে অভিজাত শপিং মল; সর্বত্রই বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। অর্থাৎ জমে উঠেছে বাজার। আর তাতে ঈদুল ফিতর ঘিরে ফের চাঙ্গা হয়েছে দীর্ঘ দিন স্থবির হয়ে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি।
যদিও ঈদুল ফিতরের অর্থনীতি নিয়ে সরকারিভাবে কোনো গবেষণা নেই। তবে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে- রোজা ও ঈদুল ফিতর ঘিরে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত ২ লাখ কোটি টাকা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।
এবারের ঈদ উৎসবকে ঘিরেও কয়েক লক্ষ কোটি টাকার লেনদেন এবং তা বছরজুড়ে অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কারন বাংলাদেশে ঈদ মানে শুধু উৎসব নয়, এটি অর্থনীতির প্রাণ সঞ্চারেরও সবচেয়ে বড় মৌসুম।
উৎসবের অর্থনীতি
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সাধারণত যে সব পণ্য বেশি বেচাকেনা হয় সেগুলোর মধ্যে পোশাক, জুতা, ব্যাগ, প্রসাধনসহ নানা ব্যবহার্য জিনিস যেমন আছে; তেমনই আছে ফ্রিজ, টিভি, কম্পিউটার, মুঠোফোনসহ নানা ইলেকট্রনিক ডিভাইস।
খাদ্যপণ্যের মধ্যে আছে মিষ্টি, পিঠা, সেমাই, নুডলস, চটপটি, ফলমূল ইত্যাদি। পিঠা-সেমাই, নুডলস-চটপটি ইত্যাদি তৈরির জন্য আবার প্রয়োজন হয় তেল, চিনি, গুড়, মসলা, নারকেল, লেবু, শসাসহ অসংখ্য শিল্প ও কৃষিপণ্য।
উৎসবে এমন শত শত পণ্যের চাহিদা বাড়ে। তাতে স্থানীয় উৎপাদন, পণ্য আমদানি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রি ইত্যাদি খাতে বিপুল অর্থ লেনদেন হয়।
উৎসবকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচলও অনেক বেড়ে যায়। একদল নাড়ির টানে ফেরে ঘরে। আরেক দল আবার ঘুরতে যান বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন স্থানে।
এতে ব্যবহার বাড়ে বিমান, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, মাইক্রোবাস, রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ইজিবাইকসহ নানা বাহনের।
সব মিলিয়ে উৎসব কেন্দ্র করে শিল্পপণ্য, কৃষিপণ্য, আমদানি করা পণ্য ও সেবা খাতে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়।
বাড়তি চাহিদার কারণে পণ্যের জোগানও বাড়ে, যা স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। পণ্য আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রি থেকে সরকার বাড়তি রাজস্ব পেয়ে থাকে।
কেনাকাটার মূল্য পরিশোধ, সেবা মাশুল, স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানো ইত্যাদির জন্য ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কার্ড ইত্যাদির ব্যবহারও আগের চেয়ে বাড়ে।
অন্যদিকে এ সময় বিদেশ থেকেও আসে প্রচুর রেমিট্যান্স, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে করে শক্তিশালী।
উৎসবের মহাকর্মযজ্ঞের সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতির অংশকে উৎসবের অর্থনীতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে জানান, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি আলাপকে বলেন, “ঈদের অর্থনীতির প্রকৃত আকার নির্ধারণ কঠিন। তবে ঈদে সরকারি-বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বোনাস পান, যা সরাসরি ভোক্তা ব্যয়ে চলে যায়। পোশাক শ্রমিকরাও বোনাসের টাকা খরচ করেন নতুন পোশাক, উপহার বা যাত্রা খাতে। ফলে পুরো বাজারই চাঙ্গা হয়ে ওঠে।”
বেড়েছে মূল্য তবে কেনাকাটার ধুম
ঈদ ঘিরে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে কেনাকাটার চাপ। বিশেষ করে পোশাক খাতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়।
দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, এবার ঈদের পোশাক কেনায় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার অর্থ খরচ হবে।
এই সময়ে সারাদেশে ২৫ লাখ দোকানে কেনাবেচা হবে।
জানানো হয়, মুদি থেকে শুরু করে নানা পদের দোকানে বছরের অন্য সময় গড়ে দিনে ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হলেও, ঈদের সময় তা বেড়ে তিন গুণ হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলে ভিড় বাড়ছে প্রতিদিন। বেইলি রোড, গাউছিয়া, নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন বিপণি বিতানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাকিস্তানি থ্রি-পিস ও দেশীয় বুটিকের চাহিদা বেশি থাকছে এবারও।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান ঈদুল ফিতরে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়।
তিনি আলাপকে বলেন, “মানুষের কেনার সামর্থ্য বাড়ছে, অস্বীকারের সুযোগ নেই। ফলে ঈদ অর্থনীতির আকারও বড় হচ্ছে। তবে মানুষের আয়ের বেশির ভাগ খরচ হচ্ছে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে।”
তার ওপর অনেক দিন স্থবির থাকার পর একটি নির্বাচিত সরকার আসায়, এবারের ঈদে আগের চেয়ে বেশি ব্যবসা আশা করছেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন তিনি।
রাজধানীর গাউছিয়া, নিউ মার্কেট ও বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের দোকানদারদের ভাষ্য উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি বিক্রিতে পড়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, এবারের ঈদে তাদের বিক্রি মোটামুটি ভালো হচ্ছে।
অনলাইন কেনাকাটা
থ্রি-পিস থেকে শুরু করে লিপস্টিক, পাঞ্জাবি-শাড়ি, নারীর গহনা, কসমেটিক্স, হস্তশিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব কিছুই অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।
দেশে কয়েক বছর ধরেই অনলাইন কেনাকাটা বেশ জনপ্রিয় হলেও ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা আরও বেশি জমজমাট হয়ে উঠছে।
ঈদের আগে শপিং মল ও বাজারে ভিড় এড়াতে অনেকেই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটা করেন বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদ উপলক্ষে নানা ধরনের ছাড়ের বিজ্ঞাপনও ছিল।
তবে সব অফার যে লাভজনক, তা নয়। ঠকে যাওয়ার শঙ্কাও আছে। তাই অনলাইনে কেনাকাটা করার আগে কিছু বিষয় সতর্কতা বাজায় রাখার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
নিজের সঙ্গে ঘর সাজানো
ঈদকে ঘিরে সৌন্দর্যচর্চা, রূপচর্চা সামগ্রী, গয়নার সঙ্গে বাড়ে ইলেকট্রনিক পণ্যসহ ঘর সাজানো আসবাবপত্র ও নানান পণ্যের বিক্রি।
ডেল্টা ফার্নিশার্সের হেড অব বিজনেস আহসান হাবিব রায়হান আলাপকে বলেন, “এবারের রোজার ঈদে আসবাব বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। যা গত দুই ঈদে নেগেটিভ ছিল।”
অন্যদিকে ঈদ উপলক্ষ্য সাজসজ্জার প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকায় সৌন্দর্যচর্চা খাতে বাড়তি ব্যয় হয়।
ঈদ ঘিরে বিউটি পার্লার ও কসমেটিক্স দোকানগুলোতেও নারী ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে।
গরমের আগে ফ্যান, এসিসহ এবার নানান ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বেড়েছে বলে জানালেন মোহাম্মদপুরে ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি করা বিভিন্ন দোকানি।
এছাড়া, স্মার্টফোন, ওয়্যারলেস ইয়ারফোন ও অন্যান্য গেজেটের চাহিদাও বেড়েছে।
নতুন মডেলের ফোনে ছাড় ও বিশেষ অফার থাকায় বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোবাইল বিক্রেতারা।
ইলেকট্রনিক পণ্য ক্রয়ে নগরবাসীর মধ্যে কিস্তিতে কেনাকাটার প্রবণতা বাড়ছে বলে জানিয়েছে শপিং মল ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো।
মূল্যস্ফীতির চাপ ঈদ বাজারে
তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কিছু ক্রেতা খরচ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে যারা একসঙ্গে কয়েকটি পোশাক কিনতেন, তারা এবার একটি বা দুটি পোশাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন বলেও জানান বিভিন্ন বিক্রয় প্রতিনিধি।
ঢাকার নিউমার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও কেনাকাটার পরিমাণ তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, “মূল্যস্ফীতির চাপ এবারও রয়েছে। এতে আগের তুলনায় আর্থিক বিক্রি বাড়লেও পরিমাণ কিছুটা কম।”
ঈদযাত্রায় আর্থিক লেনদেন
ঈদের ছুটিতে প্রায় ৪-৫ কোটি মানুষ গ্রামের বাড়িতে যান। ফলে পরিবহন খাতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী— এ সময় বাস, ট্রেন ও নৌপথে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়।
তবে তাদের কাছে মোট লেনদেনের কোনো হিসাব নেই।
যদিও ২০২৪ সালের একটি পরিসংখ্যান বলছে ঈদে বিভিন্ন পরিবহন মিলিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া বাবদই জনগণের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকার বেশি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী আলাপকে বলেন, “বাংলাদেশে ঈদ ঘিরে যোগাযোগ সেক্টরে বিপুল টাকা লেনদেন হয়। এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া বাবদও অনেক টাকা চলে যায়। তবে সবমিলে কত টাকার লেনদেন হয় তার কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই।”
২০২৩ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ঈদের আগের চার দিনে ঢাকা ছাড়েন অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ। প্রতি বছরই এই সংখ্যার আশপাশেই থাকে যাত্রী প্রবাহ।
এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢাকা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তাঘাটে, বাস-লঞ্চ-ট্রেন টার্মিনালে সৃষ্টি হয় যাত্রার ঢল। লাখ লাখ মানুষ বাস, ট্রেন, লঞ্চ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছান। এই যাত্রায় গড়ে প্রতিজন মানুষ পরিবহন ভাড়ার পেছনে খরচ করেন কয়েক শ’ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদে শুধু যাতায়াত ভাড়া বাবদই ঈদের আগে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতবদল হয়।
ঈদের পর রাজধানী ফেরত মানুষের একইভাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিবহন খাতে ব্যয় হয়।
ফলে ঈদের আগে ও পরে এই দুই সপ্তাহে আন্তঃজেলা পরিবহন খাত হয়ে ওঠে এক বিশাল আর্থিক চক্রের কেন্দ্রবিন্দু।
এবার দেশীয় পর্যটনে চাহিদা
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে এখনও যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তাতে এবার ব্যবসা বাড়বে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ রাফিউজ্জামান আলাপকে বলেন, “অনেক দিন পর দেশের ভেতরে রাজনৈতিক স্থিরতা এসেছে, আমার মনে হয় এটা দেশের জনপ্রিয় পর্যটনস্পটগুলোতে ভিড় বাড়াবে।”
টানা ছুটির কারণে অনেক হোটেল-মোটেল ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে। তাই এবার এতে বড় ধরনের ব্যবসারই আশা করছেন এই নেতা।
তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
“মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিমানের ফ্লাইট ক্যানসেলসহ নানা কারণে এবারের ঈদে দেশের বাইরের সেভাবে ট্যুর প্ল্যান করছে না। এখানে এবার বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাবে,” বলছেন রাফিউজ্জামান।
এ খাতে ঈদ ঘিরে কত টাকার লেনদেন হয় তার হিসাব জানাতে পারেননি এই নেতা।
তবে দোকান মালিক সমিতির ২০২৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, ঈদ কেন্দ্র করে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
রেমিট্যান্সের পালে হাওয়া
ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্স প্রবাহও বেড়ে যায় জানিয়ে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “প্রবাসীরা গ্রামে থাকা স্বজনদের খরচের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠান। এটি রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঈদ ঘিরে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে মোট ২২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি।
ঈদের সুফল
ঈদুল ফিতরকে ঘিরে যাকাত ও ফিতরা শুধু ধর্মীয় অনুশাসন নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও মানবিক সংহতি তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ধনীদের সম্পদের একটি অংশ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে যাকাত ও ফিতরা সামাজিক বৈষম্য কিছুটা হলেও কমাতে সাহায্য করে।
এতে করে নিম্ন আয়ের মানুষও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে এবং সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি জোরদার হয়।
পরিসংখ্যান বলছে, ঈদকে কেন্দ্র করে, বাংলাদেশে জাকাত ও ফিতরে বাবদ লেনদেন হয় প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা।
যদিও এর বাইরে ঈদকে কেন্দ্র করে অনানুষ্ঠানিকভাবে আরও অর্থ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
সবমিলে ঈদকে কেন্দ্র করে লক্ষ্ কোটি টাকা লেনদেনের যে প্রবাহ তৈরি হচ্ছে তাতে স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরবে বলেই ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।