সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ার প্রভাব বাজারে, রাষ্ট্রের কোষাগারে

ইতোমধ্যেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির বড় প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্তের খাবারের থালায়, বাজারের ব্যাগ, জীবনযাত্রায়।

অন্যদিকে রাজস্ব আয়ে প্রথম ছয় মাসেই ঘাটতি ৬৯ হাজার কোটি টাকা। রাষ্ট্রীয় বাজেট কমাতে হাত দিতে হয়েছে সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ে।

ঠিক এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে বেতন কমিশন। একই সঙ্গে সুবিধা পাবেন পেনশনভোগীরাও।

এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় বাড়বে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আর সব মিলে বেতন আর পেনশনে ব্যয় হবে ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

যা বর্তমান মোট বাজেটের ৩০ শতাংশ।

অর্থনীতিতে বাড়তি এই অর্থ আরেক দফা বাড়িয়ে দিতে পারে মূল্যস্ফীতির চাপ।

অর্থাৎ আপনি যে দামে এখন পণ্য বা সেবা কিনছেন এই বেতন বৃদ্ধি আপনার খরচ বাড়াবে।

তাই বেসরকারি চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী হলে আপনি ভাবুন আপনার আয় সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সমান তালে দ্বিগুণ হবে তো? 

এর সঙ্গে শঙ্কা বাড়তি রাজস্ব আদায়ে সরকার ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে তা সাধারণের আয় ও জীবনযাত্রায় কতটা চাপ সৃষ্টি করবে।

কারণ বাড়তি এই ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়ানোর তাগিদ নতুন সরকারকে নিশ্চিত ভাবেই ফেলবে বড় ধরনের চাপে। বিশেষ করে যখন রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বড় ঘাটতির আভাস দেখা যাচ্ছে।

আয়ের উৎস খুঁজতে আরও বেশি ভ্যাট-ট্যাক্সে সমাধান খুঁজবে সরকার।

যার মানে সরকারি চাকুরিজীবিদের বাড়তি এই বেতন মেটাতে সাধারণ ট্যাক্সপেয়ারদের চাপ আরও বাড়বে।

এমন সব আশঙ্কার কথা জানিয়ে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, রাজস্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার। তারও আগে বাড়তি অর্থ সংকুলানের ভাবনা ভাবার পরামর্শ তাদের। নয়তো ধার-কর্জ করে এই বেতন সরকারকে পরিশোধ করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তারা।

বাজারে প্রভাব পড়বে কতটা?

সরকারের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মধ্যবিত্তের বাজারের ব্যাগে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

তিনি আলাপকে বলেন, “মূল্যস্ফীতির বিষয়টি আপনি একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন না। সাময়িক হলেও বাজারে এর প্রভাব পড়বেই। তবে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে প্রাইভেট সেক্টরের মালিক ও চাকুরিজীবিদের ওপরে।”

এদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির আলোচনাই বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্ট্যাডিজ -এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর।

তিনি আলাপকে বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে এটা শোনা যাচ্ছিল গত কয়েক মাস ধরেই। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তার মানে এর প্রভাব বাজারে পড়ছে।”

এটা বলা হয় ‘ইনফ্লেশন এক্সপেকটেশন’।

তার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, সাধারণত শীতকালীন নানা ধরনের সবজি বাজারে আসায় এ সময় মূল্যস্ফীতি কমে। তবে এবার উলটো হয়েছে। 

তবে বর্তমান সরকার মনে করছে, বেতন বৃদ্ধি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। 

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন “এতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে।”

পঞ্চাশ লাখ কোটি টাকার অর্থনীতিতে এই লক্ষ কোটি টাকার বেতন বৃদ্ধি বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি বাড়াবে বলে মনে করেন না সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানও।

ব্যয় বাড়বে, সংকুলান হবে তো?

দেশের সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ও পেনশেনভোগী রয়েছেন আরও ৯ লাখ। খুব স্বাভাবিকভাবেই সরকারের এমন উদ্যোগে খুশি তারা।

তবে বেতন কমিশনের এমন সুপারিশ আগামী নির্বাচিত সরকারের বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, “এই টাকাতো দিতে হবে ট্যাক্স পেয়ারদের টাকা থেকে। তার মানে রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। এক সঙ্গে বাস্তবায়ন, সরকারকে চাপে ফেলতে পারে।”

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে নতুন করে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার সংকুলান কঠিন হবে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, “রাজস্ব আদায়ের যে চিত্র তাতে সরকারের জন্য এই ব্যয়ের সক্ষমতা আসলে শূন্য।”

তাই রাজস্ব বাড়ানো না গেলে, সরকারের অন্যান্য খরচে বড় ধরনের কাট ছাঁট করতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

বাস্তবতা বলছে, ব্যয় মেটাতে এই বাজেটে সরকার রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ইতোমধ্যেই তার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, প্রথম ছয় মাসেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা।

এদিকে ২০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ মাথায় রেখে সংশোধিত বাজেটে এই খাতের বরাদ্দ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ধরেছে সরকার। আর এই বাড়তি অর্থের সংকুলানের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকারকে খরচ কমাতে হয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে।

অর্থাৎ, ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দ হয় বন্ধ, নয়তো স্থগিত, কিংবা খরচ কমানো অথবা পুরো পরিকল্পনাই হয়ত বাতিল করতে হয়েছে এই বেতন বৃদ্ধির হিসাব মেলাতে।

এখানেই শেষ নয়, সরকার যেখানে বেতন দিচ্ছে অর্থাৎ আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবী, বিভিন্ন বাহিনী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক- সব জায়গায় এর প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন জাহিদ হোসেন। 

কারণ এসব জায়গা থেকেও বেতন বাড়ানোর দাবি উঠবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এই সংকট কাটিয়ে সরকার তার রাজস্ব আয় না বাড়াতে পারলে সরকারি চাকুরিজীবিদের বেতন ভাতার অর্থ পরিশোধে ‘ধার-কর্জ’ করতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাহিদ হোসেন।

নবম বেতন কাঠামো

রেকর্ড বেতন বৃদ্ধি

স্বাধীনতার পর প্রথম পে স্কেল ঘোষণা হয় ১৯৭৩ সালে। যেখানে সরকারি চাকুরিজীবিদের সর্বনিম্ন বেসিক বা মূল বেতন ছিল ১৩০ টাকা।

চলমান অষ্টম পে স্কেলে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে তারা পাচ্ছেন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নবম পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে তাদের বেসিক বা মূল বেতন এটা হবে ২০ হাজার টাকা। 

তার মানে বেতন বৃদ্ধি প্রায় ১৪৩ শতাংশ। তবে সব মিলে তারা পাবেন ৪১ হাজার ৪০৯ টাকা।

অন্যদিকে গ্রেড-১ এ সচিবরা এখন পাচ্ছেন ৭৮ হাজার টাকা। যা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন। অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধি ১০৫ শতাংশ।

নবম পে স্কেলে ১০৫ শতাংশ থেকে ১৪৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ। 

এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে অষ্টম বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার, যাতে গ্রেড ভেদে বেতন বেড়েছিল ৯১ শতাংশ থেকে ১০১ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের রেকর্ড বেতন বৃদ্ধির সুপারিশের কথা জানিয়েছেন বেতন কমিশন।

“সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতনকাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে,” প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান। 

তার মানে কি এতদিন বেতন বাড়েনি সরকারি চাকুরিজীবীরা?

আসলে তা নয়। চলমান পে স্কেলে ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে আসছিলেন তারা। নবম পে স্কেলেও রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ। 

এছাড়াও ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে দুই ঈদের বোনাস থাকছে আগের মতোই। 

তবে বড় পরিবর্তন আসছে বৈশাখি ভাতায়। বেসরকারি চাকুরিজীবীদের এই ভাতা এখনও বাধ্যতামূলক না হলেও, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে আর ২০ শতাংশ নয়, মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ভাতা পাবেন সরকারি চাকুরিজীবীরা বাংলা নববর্ষে।

এছাড়া, জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিরও সুপারিশ করেছে।

বাড়ি ভাড়ার ভাতাও বাড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি এবং প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

আর যাতায়াত ভাতার সুপারিশে নতুন একটি গ্রেড যুক্ত করে রাখা হয়েছে ১০তম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকুরিজীবিদের।

প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে, বেতন কমিশন সংশ্লিষ্ট মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ দুজন সন্তান এই সুবিধা পাবে।

বাড়বে অবসরপ্রাপ্তদের ভাতাও

বেতন কমিশন সুসংবাদ দিচ্ছে অবসরে যাওয়া পেনশনভোগীদের ভাতাও। 

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ছে।

এখন মাসে পেনশন হিসাবে ২০ হাজার টাকার কম যারা পাচ্ছেন তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের বাড়বে ৭৫ শতাংশ।

আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাচ্ছেন তাদেরটা ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ৭৫ বছরের বেশি বয়সি পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

কেন বৃদ্ধি, কবে বাস্তবায়ন?

সরকারি চাকরিজীবীদের মার্জিত জীবনযাপন নিশ্চিত করাটা জরুরি বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি আলাপ-কে বলেন, “সরকারি চাকুরিজীবিদের মার্জিত জীবন যাপন এর জন্য প্রয়োজনীয় বেতন ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে তাদের নজর অন্যদিকে না যায়।”

একই সঙ্গে তাদের জবাবদিহিতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদায়নেরও ব্যবস্থা করতে হবে, বলে জানান এই অর্থনীতিবিদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানালেন, সবশেষ ২০১৫ সালে অর্থাৎ প্রায় ১১ বছর আগে সবশেষ পে স্কেল পেয়েছিলেন তিনি। এরপর সব কিছুর দাম বেড়েছে, অথচ তাদের পে স্কেল নিয়ে ভাবেনি সরকার।

নবম পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।

তবে এখনই এই ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না তার। কারণ চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে বেতন কমিশন। আর এটি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, পে কমিশনের সুপারিশ যাচাই ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো এখনই কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।