ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খায়, বুঝে উঠতে পারে না কোন ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তার জন্য উপযুক্ত। কিংবা অনেকেই চায় ব্যাংকে যাওয়ার আগে অ্যাকাউন্টের ধরন সম্পর্কে ধারণা নিতে।
প্রথমত নানা ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। এরপর কেউ চাইলে ব্যাংকে গিয়ে কিংবা আরও গবেষণা করে অ্যাকাউন্টগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে। চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট আর সঞ্চয়ী বা সেভিংস অ্যাকাউন্ট। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া সাধারণত বেশিরভাগ মানুষই সঞ্চয়ী হিসাবই খুলে থাকে। সঞ্চয়ী হিসাবের মধ্যে আরও অনেক ধরন আছে।
মূলত টাকা সঞ্চয়ের উদ্দ্যেশ্যেই মানুষ সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলে থাকে। এই অ্যাকাউন্টে টাকা জমালে সেই টাকার ওপর একটা নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফাও দেওয়া হয়। এই মুনাফার হার একেক ব্যাংকে একেক রকম। এখানে টাকা জমা ও তোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে। বিশেষ করে যখন ইচ্ছা তখন টাকা তোলা যায় না। ব্যাংক একটা সীমা ঠিক করে দেয়। সপ্তাহে বা মাসে ওই সীমার বাইরে টাকা তুললে, ওই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার ওপর কোনো সুদ দেওয়া হয় না।
সঞ্চয়ী হিসাবের মধ্যে আরও অনেক ধরন আছে। যেমন- স্যালারি অ্যাকাউন্ট, স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট, নারী বা প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট, এমন আরও অনেক। তবে এধরনের অ্যাকাউন্টে জমানো টাকার ওপর মুনাফা দেওয়া হবে কি না সেটা বিভিন্ন ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন নিয়মের ওপর নির্ভর করে।
সঞ্চয়ী হিসাবের আরেকটা ধরন হলো বিমা সঞ্চয়ী হিসাব। এখানে একসাথে সেভিংস অ্যাকাউন্ট আর লাইফ ইন্স্যুরেন্স বা জীবনবিমার সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টধারীর ব্যাংকে জমানো টাকার ওপর যেই সুদ আসে, তা থেকে একটা নির্দিষ্ট সময় পর পর ব্যাংক নিজেই একটা অংশ প্রিমিয়াম বা বিমার কিস্তি হিসেবে কেটে রাখবে।
এছাড়াও বিভিন্ন পেশার মানুষের জন্য বিভিন্ন ধরনের হিসাব আছে। যেমন, কৃষকদের জন্য কৃষিভিত্তিক হিসাব, প্রবাসীদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা স্থায়ী হিসাব, তারপর নিয়মিত বিদেশ সফর করেন, তাদের জন্য রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাব। এসবই সঞ্চয়ী হিসাবের মধ্যে পড়ে।
তাহলে চলতি বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট কাদের জন্য? মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য এই অ্যাকাউন্ট। চলতি হিসাব থেকে যেকোনো সময় টাকা তোলা যায়, আবার যেকোনো সময় টাকা জমাও রাখা যায়। এই অ্যাকাউন্টে ব্যবহারকারীদের জন্য টাকা জমা বা তোলার কোনো লিমিট থাকে না। তবে চলতি হিসাবে অ্যাকাউন্টধারীকে ব্যাংক তার জমানো টাকার ওপর কোনো সুদ বা মুনাফা দেয় না।
একক মালিকানাধীন চলতি হিসাব খুলতে ব্যাংকের নির্দিষ্ট আবেদনপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্রের পাশাপাশি ব্যবসায়িক নথিপত্রও প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ব্যক্তিকে প্রমাণ করতে হবে, তার একটি বৈধ ব্যবসা আছে। একারণে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, নমিনির তথ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রের পাশাপাশি সেই ব্যক্তিকে ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি; ব্যবসার প্রমাণপত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানের ভিজিটিং কার্ড, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের লেটারহেড প্যাড ইত্যাদি জমা দিতে হবে।
এছাড়া সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন সার্টিফিকেট প্রয়োজন না হলেও, চলতি হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন নয়। ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশান নাম্বার বা টিআইএন ছাড়া কারেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার আগে কোন ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিজের জন্য উপযুক্ত সেটা জেনে নেওয়া ভালো। এক এক ধরনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক এক ধরনের সুবিধা ও শর্ত দেওয়া থাকে, যেটা আবার ব্যাংকভেদে ভিন্ন হয়। ব্যবসায়ীদের যখন তখন টাকা তোলার জন্য চলতি অ্যাকাউন্ট বেশি উপযোগী। সাধারণ সঞ্চয়ের জন্য সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট। সঞ্চয়ের জন্য ডিপিএস, এফডিআরের মতো আরও অনেক স্কিমও আছে। সব জেনে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।