উট পালন, মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির হ্যাচারি, অশ্বগন্ধা থেকে ব্লুবেরি, এমনকি ডিমের খোসা থেকে জৈব সার কৃষিঋণের তালিকায় এবার যুক্ত হচ্ছে এমন অনেক খাত, যা এতোদিন এই কর্মসূচির প্রচলিত আওতায় ছিলো না।
শুধু নতুন খাতই নয়, কৃষিঋণের লক্ষ্যমাত্রাও এবার রেকর্ড পরিমাণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
২০২৬–২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরে ছিলো ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকের জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এবারের পরিবর্তন শুধু ঋণের অঙ্ক বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোন খাতে ঋণ যাবে, কারা ঋণ পাবেন, কীভাবে ঋণ পৌঁছাবে এবং সেই অর্থ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, সব ক্ষেত্রেই নতুন কিছু ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
৬০ হাজার কোটি টাকার এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাংকগুলো নিজস্ব শাখা-উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, দলবদ্ধ ঋণ এবং ব্যাংক–এমএফআই (ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান) সংযোগ ব্যবহার করতে পারবে।
তবে নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ মোট লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ৫০ শতাংশ হতে হবে।
তবে শুধু নীতিমালা তৈরিই নয়, প্রকৃত কৃষকের কাছে ঋণ পৌঁছানো এবং ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই নতুন কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
উট পালনেও মিলবে কৃষিঋণ
এবারের কৃষিঋণ নীতিমালায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী সংযোজনগুলোর একটি হলো উট পালন। ২০২৫–২৬ সালের নীতিমালায় প্রাণিসম্পদ খাতের প্রচলিত তালিকায় উট ছিলো না।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার পাশাপাশি উট পালনের জন্যও কৃষিঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় দুম্বা ও উট পালনকে নতুন উপখাত হিসেবে যুক্ত করার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
তবে উট পালনের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট ঋণসীমা বা খরচের ছক দেওয়া হয়নি। কোনো খাতের ঋণের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া না থাকলে ব্যাংক স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা বা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে।
অর্থাৎ- উট পালনে ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ হবে খামারের আকার, প্রকল্পের ব্যয়, উৎপাদন পরিকল্পনা ও ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা বিবেচনায়।
প্রাণিসম্পদ খাতকে এবার কৃষিঋণের বড় অংশের মধ্যে রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকের কৃষিঋণ লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ২০ শতাংশ প্রাণিসম্পদ খাতে বিতরণ করতে হবে।
অর্থাৎ উট পালন নতুন হলেও এটি প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য নির্ধারিত ঋণ প্রবাহের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
হাঁস-মুরগির বাচ্চা ও মাছের পোনা উৎপাদনেও ঋণ
এতো দিন হাঁস-মুরগি পালন বা খামার পরিচালনার মতো কার্যক্রমে ঋণের সুযোগ থাকলেও নতুন নীতিমালায় হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন বা হ্যাচারি কার্যক্রমকে আলাদা করে ঋণের আওতায় আনা হয়েছে।
ফলে শুধু মুরগি বা হাঁস পালন নয়, উৎপাদনের আগের ধাপ এক দিনের বাচ্চা উৎপাদনেও ব্যাংক অর্থায়ন করতে পারবে।
প্রচলিত খামারগুলোর জন্য নীতিমালায় নির্দিষ্ট ঋণসীমার উদাহরণও রাখা হয়েছে। ১ হাজার ব্রয়লার মুরগি পালনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, ১ হাজার লেয়ার মুরগির জন্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা এবং ১ হাজার হাঁস পালনে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের হিসাব দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য খাতেও একইভাবে উৎপাদনের আগের ধাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু মাছ চাষ নয়, হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদনও এবার ঋণের আওতায় এসেছে।
এর ফলে মাছের পুরো উৎপাদনচক্রে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হলো হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন থেকে শুরু করে সেই পোনা দিয়ে মাছ চাষ পর্যন্ত।
নতুন কোনো উপখাতের জন্য নির্দিষ্ট ঋণসীমা না থাকলে সংশ্লিষ্ট কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাংক প্রয়োজনীয় ঋণের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারবে।
ডিমের খোসা থেকে জৈব সারেও মিলবে কৃষিঋণ
কৃষিঋণের আওতা এবার শুধু ফসল উৎপাদন বা পশুপালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কৃষি থেকে তৈরি বর্জ্য ও উপজাতকে কাজে লাগিয়ে নতুন আয় তৈরির উদ্যোগও অর্থায়নের আওতায় আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডিমের খোসা ব্যবহার করে জৈব সার উৎপাদনের প্রকল্পে ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে।
ডিমের খোসায় থাকা ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান কাজে লাগিয়ে জৈব সার তৈরি করা যায়। ফলে পোলট্রি খামার বা ডিম উৎপাদন থেকে তৈরি বর্জ্যকে ফেলে না রেখে তা কৃষিকাজে ব্যবহারযোগ্য উপকরণে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষি বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত।
নীতিমালায় শুধু ডিমের খোসা নয়, নিমপাতা, ছাই, মিশ্র শস্য, ধানের কুড়া, পাটকাঠি, গাছের পাতা ও কলার খোসাসহ বিভিন্ন জৈব উপকরণ ব্যবহার করে সার উৎপাদনের উদ্যোগকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ কৃষির অব্যবহৃত উপকরণকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগিয়ে নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোগ তৈরির পথও খুলছে কৃষিঋণ।
এ ধরনের উদ্যোগে ঋণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষি বর্জ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও জৈব সার উৎপাদনকে ঘিরে ছোট উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ব্লুবেরি-অশ্বগন্ধাসহ নতুন ফসলেও ঋণ
কৃষিঋণের আওতায় এবার এমন কিছু ফসলও যুক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত কৃষিপণ্যের তুলনায় বিকল্প বা বিশেষায়িত বাজারের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
নতুন নীতিমালায় শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা, মিছরি দানা, রোজেলা, শতমূল, গাছ আলু ও ব্লুবেরি চাষের জন্য ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে অশ্বগন্ধা, শিমুল মূল ও শতমূলের মতো ফসল ভেষজ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ব্যবহার হয়। অন্যদিকে ব্লুবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ দেশের কিছু অঞ্চলে নতুন ধরনের বাণিজ্যিক কৃষির সুযোগ তৈরি করছে।
রোজেলা ও গাছ আলুর মতো তুলনামূলক কম প্রচলিত ফসলও নির্দিষ্ট বাজার ও চাহিদাকে কেন্দ্র করে চাষের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ফলে এসব ফসলের চাষে কৃষকের প্রাথমিক বিনিয়োগ, জমি প্রস্তুত, চারা বা বীজ সংগ্রহ এবং উৎপাদন পরিচালনার জন্য ব্যাংক অর্থায়নের সুযোগ থাকবে।
কোনো নির্দিষ্ট ফসলের জন্য ঋণের পরিমাণ নীতিমালায় আলাদা করে নির্ধারণ না থাকলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে ব্যাংক প্রকল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পরিমাণ ঠিক করতে পারবে।
এতে কৃষককে শুধু প্রচলিত ফসলের ওপর নির্ভর না করে বাজারের চাহিদা ও সম্ভাব্য লাভ বিবেচনায় বিকল্প ফসল বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এসব নতুন ফসলের ক্ষেত্রে উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও প্রকল্পের বাস্তবতা যাচাই করে ঋণ দেওয়াটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
ঋণ পেতে সহজ হবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের
নতুন নীতিমালায় প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণেও নমনীয়তা আনা হয়েছে। কৃষক কার্ডের তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহার করে কৃষক শনাক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের জন্য জমি বা স্থাবর সম্পত্তির বদলে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলগত জামানত ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে দলগত উদ্যোগ বাড়াতে দলগত ঋণের সুযোগও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সদস্যসংখ্যা নিয়ে আগের নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে।
২ দশমিক ৫ একর পর্যন্ত জমিতে লবণ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত চাষিদেরও প্রচলিত চার্জ ডকুমেন্টের বাইরে অতিরিক্ত কোনো নথি জমা দেওয়া থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সারা বছর উৎপাদিত ফল যেমন কলা, পেঁপে, আম, লেবু, পেয়ারা ও লিচুর ক্ষেত্রেও ঋণ পরিশোধে বাড়তি নমনীয়তা রাখা হয়েছে। ফল সংগ্রহের পর বাজারজাত করতে যে সময় লাগে, তা বিবেচনায় নিয়ে গ্রেস পিরিয়ড বা ঋণ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা যাবে।
অঞ্চল বুঝে ঋণ দেবে ব্যাংক, বাড়বে নজরদারিও
কৃষিঋণ শুধু বিতরণ করলেই হবে না, ঋণটা যেন প্রকৃত কৃষকের হাতে গিয়ে উৎপাদনে লাগে এবার সেই বিষয়টিতেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নীতিমালায় ঋণ বিতরণে ‘এরিয়া অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যে এলাকায় যে ফসল বা কৃষিপণ্য বেশি উৎপাদিত হয়, সেখানে সেই খাতের ঋণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ জন্য ব্যাংক ক্রপ জোনিং, ‘খামারি’ অ্যাপ এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। কোনো এলাকায় ধান, কোথাও আলু, আবার কোনো অঞ্চলে মাছ বেশি উৎপাদিত হলে জমির পরিমাণ, উৎপাদন ব্যয় ও স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঋণের সীমা ঠিক করতে হবে। প্রয়োজন হলে সেই সীমা বাড়ানো বা কমানোর সুযোগও থাকবে।
তবে শুধু অঞ্চল বুঝে ঋণ দিলেই হবে না, ঋণগ্রহীতা আসলেই কৃষক কি না সেটিও নিশ্চিত করতে হবে ব্যাংককে।
জলবায়ু ঝুঁকিতে কৃষকের পাশে বিমা
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা কৃষকদের সুরক্ষায়ও নতুন নীতিমালায় বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যাংক ও কৃষকের পারস্পরিক সম্মতি ও সমঝোতার ভিত্তিতে কৃষকদের বিমার আওতায় আনার কাঠামো রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে এতে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে, নতুন নীতিমালায় কৃষিঋণের পরিধি যেমন বাড়ানো হয়েছে, তেমনি ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়াকেও কিছুটা সহজ করা হয়েছে। তবে বড় এই কর্মসূচির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ কতটা প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছাবে এবং সেই অর্থ কতটা উৎপাদন বাড়াতে কাজে লাগবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, “কৃষিঋণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঠিক সময়ে এবং প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছে দেওয়া।”
কোনো ব্যক্তি প্রকৃত কৃষক না হয়েও কৃষিঋণ নিলে সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে বলে জানান তিনি।
তার ভাষায়, “এ ধরনের অপব্যবহারকে অর্থপাচারের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যেতে পারে।”
প্রকৃত কৃষক শনাক্ত করার ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক কার্ডকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ড. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষক কার্ডধারীদের ঋণ দেওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।”
তবে কার্ড না থাকলেও ঋণ দেওয়ার আগে ব্যাংককে যাচাই করতে হবে আবেদনকারী প্রকৃত কৃষক কি না। “প্রকৃত কৃষক যাচাই না করে ঋণ দিলে এর দায় ব্যাংককেই নিতে হবে,” বলে সতর্ক করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, সহজ শর্তে পর্যাপ্ত ঋণ প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছালে কৃষি উৎপাদন বাড়বে, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে এবং খাদ্য সরবরাহ বাড়ার মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শেষ পর্যন্ত এই নীতিমালার সাফল্য নির্ভর করবে ৬০ হাজার কোটি টাকা কতটা বিতরণ হলো, তার চেয়ে বেশি কতটা প্রকৃত কৃষকের হাতে গেল এবং সেই টাকা দিয়ে কতটা উৎপাদন বাড়ল তার ওপর। কারণ কৃষিঋণের আসল সাফল্য হিসাবের খাতায় নয়, তার প্রভাব দেখা যাবে কৃষকের মাঠে।