গ্যাসের সরবরাহ ফিরতে শুরু করেছে, কিন্তু এরইমধ্যে শিল্পের ‘বড় ধরনের’ ক্ষতি হয়ে গেছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাত্র ১৬ দিনের গ্যাস সংকটে কোথাও উৎপাদন বন্ধ হয়েছে, কোথাও আবার কারখানায় ছুটি দিতে হয়েছে, আবার কোথাও চাকরি হারিয়েছে শত শত শ্রমিক।
সাভারের আশুলিয়ার একটি কারখানাতেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে ছুটির ফাঁদে ফেলে। চট্টগ্রামে বন্ধ হয়েছে একটি গ্রুপের ৯টি কারখানা।
সবমিলে শিল্পে গ্যাস সংকটের ক্ষতির চিত্র শুধু উৎপাদন কমে যাওয়ার মধ্যে আটকে থাকেনি। বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে অন্যত্রও।
এরইমধ্যে স্বস্তির খবর, ২১এ জুলাই আগুনের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালটি বৃহস্পতিবার থেকে ক্ষমতার অর্ধেক গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে।
এতে প্রায় দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।
তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়লেও গ্যাস সংকট কাটেনি। আর এই সংকট সহসাই কাটবে না বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।
ছাঁটাই ও বন্ধ কারখানায় শিল্পের ক্ষতির চিত্র
গ্যাস সংকটের ধাক্কায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় অ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডের ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর পেছনের কারণ হিসাবে ৬ই অগাস্ট দেওয়া এক নোটিশে কারখানা কর্তৃপক্ষ বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক মন্দা, ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।
শ্রমিকদের আইনি পাওনা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ বাড়লে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নিয়োগের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের একজন মো. জিয়ারুল হক জানান, ৫ই অগাস্টের ছুটিতে তিনি দিনাজপুরে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। ৬ই অগাস্ট রাত ১১টার দিকে মোবাইল ফোনে ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান। এরপর জানতে পারেন একই নোটিশ কারখানার গেটেও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস সংকটের কারণে ব্যবসায়িক মন্দার প্রভাবেই শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাইম আহমেদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ঢাকায় যখন এ অবস্থা তখন বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের ৯টি কারখানার উৎপাদন।
এক নোটিশে ৭ই অগাস্ট কারাখানাগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এ সম্পর্কে চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মহিউদ্দিন বিন মেজবাহ গণমাধ্যমকে বলেন, “সাম্প্রতিক সংকটে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে এবং সব কারখানায় সমানভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
তবে সংকট মোকাবেলায় বিপুলসংখ্যক শিল্পকারখানা ৫ই অগাস্টের ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ছুটি দেয়।
শিল্পমালিকেরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে সংকটের প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনেও।
বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়া ও চাকরিচ্যুতি নিয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন ‘দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)’ প্রশাসক মো. ফজলুল হক আলাপ-কে বলেন, “কোনো কারখানা নিয়ে স্পেসিফিকভাবে না জেনে মন্তব্য করা যাবে না। তবে এটা সত্য গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে। এতে চাপে রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।”
সরবরাহ বাড়লেও ঘাটতি এখনো বিশাল
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দুর্ঘটনার আগে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ২১এ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর তা নেমে আসে প্রায় ২১২ কোটি ঘনফুটে।
এখন সরবরাহ বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ দুর্ঘটনার পরের অবস্থার তুলনায় সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ঘাটতি এখনো প্রায় ১৪০ কোটি ঘনফুট।
তাই সরবরাহ বাড়লেও অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ এখনো ফেরেনি।
পেট্রোবাংলা ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ৬ই অগাস্ট ভোর ৩টা ১০ মিনিটে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। শুরুতে সরবরাহ ছিল ১১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। পরে তা বেড়ে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।
মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের ৫০ কোটি ঘনফুট।
এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লার দিয়ে এখন সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আনা হয়েছে। সব কাজ শেষ করে ১০ই অগাস্টের আগে এটি চালু করা সম্ভব নাও হতে পারে।
অর্থাৎ গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার শুরুটা হয়েছে, কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক দিন লাগবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন লাগবে।
তিনি বলেন, “স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।”
শিল্পে চাপ কতটা কমেছে, বোঝা যাবে ছুটির পর
ব্যবসায়ী ও শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক এবং বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক আলাপকে বলেন, বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ ছিল। তাই গ্যাসের চাপের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়নি।
তিনি বলেন, শনিবার ও রবিবার বোঝা যাবে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি কতটা। তবে সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান আলাপ-কে বলেন, “গত কয়েক দিনের তুলনায় গ্যাসের চাপ কিছুটা ভালো হয়েছে। তবে প্রকৃত উন্নতি বোঝা যাবে পরের দিনগুলোতে, যখন কারখানাগুলো পুরোপুরি চালু হবে। কারণ বেশিরভাগ কারখানায় ছুটি দিয়ে দিয়েছে।”
তার অভিযোগ, ১৫ পিএসআই চাপ ধরে বিল করা হলেও অনেক কারখানায় চাপ থাকছে মাত্র ১ থেকে ৫ পিএসআই। অথচ বিল কমছে না।
টার্মিনাল চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকট থাকছে
আপাত সমস্যার সমাধান হলেও পুরো শিল্পের গ্যাস সংকটের সমাধান শিগগিরই হবে বলে বলে মনে করেন না বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান।
তিনি আলাপ-কে বলেন, “টার্মিনাল যেটা বন্ধ হয়ে গেছে সেটা পুরোপুরি চালু হলে আমরা আগের অবস্থায় ফিরে যাব। কিন্তু শিল্পের গ্যাস সংকট তাতে কিন্তু কাটছে না। নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান হচ্ছে না এই গ্যাস সংকটের কারণে। আমার মনে হয় সরকার নতুন দুটি টার্মিনাল তৈরির যে সিদ্ধান্ত নিয়ে যেটা বাস্তবায়িত হলে সমস্যা কিছুটা কমবে।”
গ্যাস বাড়ার পর সংকট কেটেছে কী না জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “কালকের দিনটা দেখে বলতে পারব আসলে কতটা ইমপ্রুভ হয়েছে। কারণ গত কয়েক দিনে গ্যাসের চাপ ড্রাসটিক্যালি কমে গিয়েছিল।”
গ্যাস না পেলেও বিল কমছে বলে অভিযোগ করেন জায়ান্ট গ্রুপের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার ভাষায়, “১৫ পিএসআই হিসাব করে আমাদের বিল করা হয়। কিন্তু চাপ থাকে ১ থেকে ৫ পিএসআই। অথচ বিল কিন্তু কমছে না।”
একই কথা বলেছেন ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন ‘দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই)’ প্রশাসক এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশের (বিকেএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক আলাপ-কে বলেন, “বৃহস্পতিবার বেশিরভাগ কারখানাই বন্ধ ছিল। তাই গ্যাসের চাপ সেভাবে ছিল না। শনিবার ও রবিবার বোঝা যাবে চাহিদা ও যোগানের ঘাটতি কতটা। তবে আমার মনে হয় সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি।”
প্রসঙ্গত, মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (সিএনইই) প্রস্তাব জিটুজি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে সরকার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন টার্মিনাল চালু হতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বর্তমানে মহেশখালীতে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে—একটি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট পরিচালনা করছে।
রপ্তানি, বেতন ও ঋণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের ভাষায়, “দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিল্প খাতে ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।”
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস না থাকায় নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাকে সন্তুষ্ট রাখতে অতিরিক্ত খরচে এয়ার শিপমেন্ট করতে হতে পারে। তা না হলে ক্রেতারা ‘২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট’ চাইতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তার আরও বড় উদ্বেগ শ্রমিকদের বেতন ও ব্যাংকঋণ নিয়ে। উৎপাদন বন্ধ থাকলে মাসের শুরুতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কঠিন হবে। বেতন দিতে না পারলে শ্রমিক অসন্তোষের ঝুঁকি রয়েছে। আবার ব্যাংকের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিল্পমালিকদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
আসল সমস্যা আরও গভীরে
গ্যাস সংকটের বড় উদ্বেগের জায়গা শুধু এলএনজি টার্মিনাল নয়। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২১এ জুলাই দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক উৎপাদন ছিল ১৬৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। ৪ঠা অগাস্ট তা নেমে আসে ১৬৩ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুটে।
অর্থাৎ ১৪ দিনে দৈনিক উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট।
একসময় দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে দিনে প্রায় ২৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেত। এখন তা নেমে এসেছে প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুটে।
অর্থাৎ একদিকে চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন কমছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ দিয়ে সর্বোচ্চ প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। কিন্তু নতুন শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সংযোগের জন্য অর্থ জমা দিয়েও অপেক্ষায় আছে।
সাময়িক স্বস্তি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
গ্যাস সংকট নতুন নয় বলেই আলাপ-কে জানান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।
তিনি বলেন, “গ্যাস সংকট নতুন কিছু নয়। নব্বইয়ের দশক থেকেই সংকট সমাধানে নানা উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি।”
তার প্রশ্ন, নতুন এলএনজি টার্মিনাল হবে, বেশি দামে এলএনজি কেনা হবে—কিন্তু সেই বাড়তি জ্বালানি খরচে শিল্পপণ্যের উৎপাদন ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তাতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কীভাবে টিকে থাকবে?
তার মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শিল্পোদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ইজাজ হোসেনও মনে করেন, দেশের অর্থনীতি ও ডলার সংকটের কারণে আমদানিনির্ভর সমাধানের সুযোগ সীমিত। জ্বালানি খাত পুরোপুরি ঢেলে সাজানো, জ্বালানি-সাশ্রয়ী শিল্পে যাওয়া, দক্ষতা বাড়ানো এবং গ্যাস চুরি বন্ধ করার ওপর জোর দেন তিনি।
এদিকে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকে আইএসও কনটেইনারে এলএনজি আমদানির পরিকল্পনাও করছে সরকার। তবে সেটিও এখনো নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে।
২১এ জুলাইয়ের দুর্ঘটনার পর তীব্র গ্যাস সংকটের চাপ কিছুটা কমছে। কিন্তু ১৬ দিনের এই সংকটে ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই, ৯ কারখানা বন্ধ, উৎপাদন ও রপ্তানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে তাৎক্ষণিক সংকট কমতে পারে। তবে কমতে থাকা দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও বাড়তি চাহিদার হিসাব কীভাবে মিলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।