কোটি টাকার ক্ষতি, কিন্তু দায় নেবে কেউ না। তখনই সামনে আসে একটি আইনি পরিভাষা, ‘অ্যাক্ট অফ গড’। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বীমা আইনের এই পরিভাষা সাধারণত তখনই সামনে আসে, যখন কোনো ক্ষতির দায় কেউ নিতে চায় না।
ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, সুনামি কিংবা নজিরবিহীন বন্যার মতো মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ঘটনাগুলোকে আইনের ভাষায় বলা হয় ‘অ্যাক্ট অফ গড’। কিন্তু যখন একই জায়গায় বারবার পানি জমে, একইভাবে পণ্য নষ্ট হয়, তখন সেটি কি শুধু প্রকৃতির দায়, নাকি মানুষের প্রস্তুতির ব্যর্থতা?
এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনা ঘিরে।
দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই বন্দরে কয়েক দিনের জলাবদ্ধতায় শুধু পণ্যই নষ্ট হয়নি; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়, শিল্প উৎপাদনে, রপ্তানি সময়সূচিতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যেও।
এই বাস্তবতার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগাম দায় এড়িয়ে যাওয়ার এক নোটিস জারি করেছে। তারা বলছে, এটি একটি ‘অ্যাক্ট অফ গড’। তাই আইনের দৃষ্টিতে
ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের নয় এবং এ সংক্রান্ত সব ধরনের আইনি দায় থেকে তারা অব্যাহতি পাবে বলে দাবি করছে এবং দায়মুক্তিও ঘোষণা করেছে।
অর্থাৎ নিজেরাই নিজেদের ‘দায়মুক্ত ঘোষণা করছে’।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন ভিন্ন। তারা বলছেন, যদি প্রায় বর্ষাতেই একই জায়গায় পানি জমে, কনটেইনার ইয়ার্ড প্লাবিত হয় এবং পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সেটিকে কীভাবে প্রকৃতির খেয়াল বলে দায় এড়ানো যায়?
নাকি বারবার ফিরে আসা এই সংকট আসলে বন্দরের অবকাঠামো, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতির দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন?
ইতোমধ্যেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের নেতারা।
দুই পক্ষের বিতর্কের মাঝে প্রধান প্রশ্ন- চট্টগ্রাম বন্দরের এই অবস্থা সত্যিই ‘অ্যাক্ট অফ গড’ নাকি ‘অ্যাক্ট অফ নেগলিজেন্স?
ক্ষতির হিসাবের আগেই দায় অস্বীকার
কনটেইনার ইয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে এখনো জমে আছে কাদামাখা পানি। তার ওপর ভাসছে কার্টুনের টুকরো, প্লাস্টিকের মোড়ক ও ভেজা প্যাকেজিং সামগ্রী। কোথাও ফর্কলিফট দিয়ে সরানো হচ্ছে কনটেইনার, কোথাও শ্রমিকেরা খুলে দেখছেন ভেতরের পণ্যের অবস্থা। কিন্তু কারও মুখে স্বস্তি নেই। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি থামলেও পুরোপুরি নামেনি পানি।
ফলে এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, কোন কনটেইনারের কতটা পণ্য ক্ষতি হয়েছে, কোনগুলো ব্যবহারযোগ্য রয়েছে, আর কতটা একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।
এ দৃশ্য কোনো একক কনটেইনার ইয়ার্ডের নয়; দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত কয়েকটি বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতেও (আইসিডি) একই চিত্র দেখা গেছে।
গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ডে পানি জমতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, অনেক কনটেইনারের নিচ দিয়ে পানি প্রবেশ করে। আমদানিকারকদের অভিযোগ, আর্দ্রতায় সংবেদনশীল বিভিন্ন পণ্য ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার আলাপ-কে বলেন, “যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে কিছু ডিপোতে পানি প্রবেশ করেছিলো। তবে সেটি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়নি। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যায়। তারপরও কিছু পণ্যের ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না।”
তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসার আগেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, ৫ই জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় থাকা কোনো পণ্য, কনটেইনার বা কার্গোর ক্ষতির জন্য তারা দায়ী থাকবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর (কার্গো ও কনটেইনার) পরিচালনা বিধিমালা, ২০০১-এর ১৯৯(১৪) ধারা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর উল্লেখ করে বলা হয়, এটি একটি ‘অ্যাক্ট অফ গড’ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অনিবার্য ঘটনা। তাই এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো ক্ষতিপূরণের দায় নেই।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে বিজ্ঞপ্তির ভাষা নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছে, “টানা ভারী বৃষ্টি ও এরফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় আমদানি, রপ্তানি বা অন্য যেকোনো উদ্দেশ্যে রাখা সব ধরনের পণ্য, কনটেইনার ও কার্গোর ক্ষতি বা লোকসানের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ "কোনোভাবেই দায়ী থাকবে না এবং এ বিষয়ে কোনো জবাবদিহিও করবে না।"
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘অ্যাক্ট অফ গড’-জনিত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উদ্ভূত যে কোনো ক্ষতিপূরণের দাবি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান, অস্বীকার ও দায়মুক্ত ঘোষণা করছে।’
বিষয়টি নিয়ে সিপিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম বলেন, “আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য বন্দর দায়ী নয়। অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বন্দরের কনটেইনার ইয়ার্ডে সাময়িক জলাবদ্ধতার কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ কনটেইনারের ভেতরে কী ধরনের পণ্য রয়েছে, তা জানার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই।”
শুধু প্রকৃতির দায়, নাকি প্রস্তুতিরও ব্যর্থতা?
“ক্ষয়ক্ষতির কারণ অনুসন্ধান কিংবা ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের আগেই একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের এমন ভাষায় দায় অস্বীকার করা অস্বাভাবিক এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার শামিল,” আলাপ-কে বলেছেন ব্যবসায়ীদের পক্ষে পাঠানো চিঠিতে সই করা চার ব্যবসায়ী নেতার একজন মোহাম্মদ হাতেম।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এই সভাপতি আরও বলেন, “চট্টগ্রামে বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টি নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছরই জলাবদ্ধতার ঝুঁকি থাকে। সেই বাস্তবতা জেনেও যদি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরে এমন অবকাঠামো গড়ে না ওঠে, যাতে কনটেইনার ইয়ার্ডে পানি না ওঠে, তাহলে সেটি শুধু প্রকৃতির দায় হতে পারে না।”
দুর্যোগ ঠেকানো না গেলেও তার ক্ষতি কমানোর দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
পর্যাপ্ত শেড, উন্নত ড্রেনেজ, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিকল্প সংরক্ষণ ব্যবস্থা- এসবই একটি আধুনিক বন্দরের মৌলিক প্রস্তুতির অংশ। যেভাবে ঘাটতি রয়েছে বলে আলাপ-কে জানিয়েছেন রুহুল আমিন শিকদার।
ব্যবসায়ীদের পক্ষে পাঠানো চিঠিতে সই করা চার ব্যবসায়ী নেতার আরেকজন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকও মনে করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
তার ভাষায়, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়মুক্ত হয়ে যেতে পারে না। বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও পণ্য সুরক্ষায় পর্যাপ্ত শেড নির্মাণ বা কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি গড়ে তুলতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।”
এই বক্তব্যে মূলত একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে- যদি একই ধরনের বৃষ্টিতে বারবার একই ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে সেটি কি কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি প্রস্তুতির ঘাটতিরও প্রতিফলন?
'অ্যাক্ট অফ গড' আইন কী বলে?
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘অ্যাক্ট অফ গড’ শব্দটি।
বাংলাদেশের সাধারণ দেওয়ানি আইনে এ শব্দের আলাদা সংজ্ঞা না থাকলেও এটি ইংরেজি কমন ল থেকে আসা একটি স্বীকৃত আইনি নীতি। পরিবহন, বন্দর পরিচালনা, বীমা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বহু বছর ধরে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সাধারণভাবে এমন কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, যুক্তিসঙ্গত সতর্কতা নিয়েও প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় এবং যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অবহেলা নেই, সেটিকে ‘অ্যাক্ট অফ গড হিসেবে ধরা হয়।
“চুক্তিতে এ ধরনের ক্লজ থাকলে অবশ্যই সেটা ব্যবহার করা যায়। তবে এই নীতি সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় দায়মুক্তি দেয় না। আদালত সাধারণত বিবেচনা করেন, ক্ষতির একমাত্র কারণ প্রকৃতি ছিল, নাকি অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অবহেলা বা ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণেও ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে। মানে এখানে নেগলিজেন্স ছিল কী না?,” আলাপ-কে বলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পলাশ কান্তি দাস।
যদি দ্বিতীয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে আসে বলেও মনে করেন তিনি।
তবে সিপিএ বলছে, আইনই তাদের সুরক্ষা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের সমালোচনার জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসারেই অবস্থান নিয়েছে।
সিপিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম বলেন, “আইন অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য বন্দরকে দায়ী করা যায় না। অতীতেও এ ধরনের ঘটনায় বন্দর কোনো দায় স্বীকার করেনি, এবারও করবে না।”
অর্থাৎ বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা নতুন কোনো নীতি নেয়নি; বরং দীর্ঘদিনের প্রচলিত বিধিমালাই অনুসরণ করেছে।
তবে বিআইসিডিএ মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার জানালেন, আগে এ ধরনের নোটিস তিনি দেখেননি।
“আগে কখনো এ ধরনের নোটিস আমি দেখিনি। এখানে দুই পক্ষেরই যুক্তি রয়েছে তাই এটা তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া যেত,” বলেছেন তিনি।
ক্ষতিপূরণের দাবির বাইরেও বড় হচ্ছে সংকট
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ অবশ্য শুধু ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের মতে, জলাবদ্ধতার প্রভাব এখন পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং চট্টগ্রাম চেম্বার যৌথভাবে নৌপরিবহনমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বলেছে, আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক, প্যাকেজিং সামগ্রী ও খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ, চামড়াজাত ও কৃষিপণ্যের জাহাজীকরণ বিলম্বিত হওয়ায় অর্ডার বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং ব্যয়বহুল এয়ার শিপমেন্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তাদের মতে, ক্ষতির হিসাব শুধু পানিতে নষ্ট হওয়া পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে যোগ হবে ডেমারেজ, ডিটেনশন, স্টোরেজ ব্যয়, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ক্ষতি, নগদ অর্থপ্রবাহের সংকট এবং ঋণ পরিশোধের অতিরিক্ত চাপ।
সে কারণেই তারা শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, চার্জ মওকুফ এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
এই মুহূর্তে তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নয়। প্রশ্ন হলো, গত দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর কি সত্যিই এমন একটি দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছিল, যার কোনো প্রতিকার সম্ভব ছিল না? নাকি জলাবদ্ধতা প্রকৃতির হলেও ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে?