মাতারবাড়ির তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

দেশের অন্যতম বৃহৎ ও সুরক্ষিত পাওয়ারপ্ল্যান্ট মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে আবারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ কারণ এখনো জানা যায়নি। এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কেউ চুরি করতে দেয়াল টপকে ওই কেন্দ্রে ঢুকে। পরে আগুন দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। ২০০ জন আনসার সদস্য ও নৌবাহিনীর সদস্য সম্বলিত এত শক্তিশালী নিরাপত্তা থাকারও পরও এমন ঘটনা সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সোমবার রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুন লাগে। পুড়ে যায় প্রায় চার একর এলাকা। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় ৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।

২০২৩ সালে চালু হয় মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র। সুবিশাল প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সে বছরও একবার আগুন লাগে। 

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানের সহায়তার প্রায় ৫১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র। ১ হাজার ৬০৮ একর জমির ওপর স্থাপিত কয়লাভিত্তিক এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটটি সে বছরই ২৯ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়।

সোমবারের অগ্নিকাণ্ড নিয়ে মহেশখালির ফায়ার স্টেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল প্ল্যান্ট পর্যন্ত আগুন পৌঁছাতে পারেনি। তবে পরিত্যক্ত অনেক কিছুই পুড়ে গেছে।

নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

এই ঘটনায় ১ হাজার ৬০০ একরের বেশি জায়গা নিয়ে করা এত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মহেশখালি ফায়ার স্টেশন লিডার মো. সালাহউদ্দিন আলাপকে বলেন, ‘‘আমরা খবর পেয়ে ৫০ মিনিট পরে সেখানে পৌঁছাই। গিয়ে দেখি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের ১২ জন কর্মী কাজ করছেন।’’

আগুন কীভাবে লাগলো, জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে বলেন, ‘‘কয়েকজন টোকাই দেয়াল টপকে চুরি করতে ঢুকেছিল। পরে সিকিউরিটি তাড়া করলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।’’

এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও কীভাবে তারা ঢুকলো-এই প্রশ্নের জবাবে মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘‘সেটাই তো কথা। ২০০ জন সিকিউরিটি আছে সেখানে। কিন্তু এলাকার ছেলেপেলে বলে কিছু বলার নাকি সাহস পায় না।’’

তিনি জানান, ‘‘স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে রাখা পরিত্যক্ত রড, প্লাস্টিক এগুলো চুরি করে বিক্রি করার জন্য টোকাইরা আসে। কিন্তু নিরাপত্তা কেন দিতে পারে না, সে বিষয়ে বলতে পারি না। এর আগেও ২০২৩ সালে এখানে আগুন লেগেছিল।’’

একই কথা বলেন মহেশখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান। আলাপকে তিনি বলেন, ‘‘সেখানে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আছে। আনসার আছে ২০০ জনের বেশি, নেভি আছে। ব্যাপারটা তাদের নজরদারির বিষয়।’’

ঘটনার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোন অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা নিজেদের মত তদন্ত করছি। বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে অভিযোগ করা হবে। অভিযোগের পর আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’’

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুল আলাপকে বলেন, ‘‘আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলছি। অভিযোগ করা হবে। আগুন কোনভাবে লেগে গেছে। তবে মূল প্ল্যান্ট ঠিক আছে। সে বিষয়েও আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি।’’

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা

মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন চলমান আছে কি না জানতে চাইলে প্রকৌশলী মো. সাইফুল জানান, এটি চালু আছে। বিদ্যুৎ সরবরাহও নিয়মিত চলছে। এরই মধ্যে সোমবার রাতে পরিত্যক্ত ময়লা জিনিসপত্রের মধ্যে আগুন লেগে যায়।

টোকাইরা নাকি আগুন লাগিয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘‘এমন ঘটনাও হতে পারে। আমরা দেখছি।’’

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু থাকলেও কিছু সমস্যা আছে বলে জানায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বোর্ডের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সদস্য জহুরুল ইসলাম আলাপকে বলেন, “আমার জানামতে একটা মেশিন নষ্ট আছে। কয়েকটি মেশিনে সমস্যা রয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাতারবাড়ির মূল কেন্দ্রের দায়িত্বে যারা আছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।