জাতীয় পতাকায় মোড়া কফিন। লাল-সবুজে আচ্ছাদিত, এক রাজনৈতিক ইতিহাসের শেষ যাত্রা। দেশজুড়ে কোটি কোটি মানুষের নীরব ক্রন্দন।
চোখের জলে বিদায় নিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জিয়া উদ্যানে। স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই।
জানাজার পর মরদেহবাহী গাড়ি গিয়ে থামে লেক রোডে। সেখান থেকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কায়দায় কামানবাহী শকটে বয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কফিন।
কফিন থেকে কাফনে মোড়া মরদেহ কবরে নামান তারেক রহমানসহ খালেদা জিয়ার ঘনিষ্টজনরা। তারেক রহমান যখন উঠে এলেন, তখন তার অশ্রুসজল চোখ।
গিয়ে দাঁড়ালেন পরিবারের পাশে। কাছে ডেকে নিলেন কন্যা জাইমা রহমান ও দুই ভাতিজিকেও।
কবর দেওয়া শেষে তিনবারের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয় তিন বাহিনীর সম্মিলিত গান স্যালুট আর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন।
এর আগে দুপুর তিনটার দিকে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। মরদেহবাহী কফিন যখন সংসদ ভবনের পশ্চিম প্রান্তে রাখা হয়েছিলো, তখন জনস্রোত ছড়িয়ে গিয়েছিল জাহাঙ্গীর গেট, মিরপুর, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার, বিজয় স্মরণি, বাংলামোটর, মগবাজার পর্যন্ত।
তার জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের একাধিক সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ আরো অনেকে।
উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্পিকার, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। হাজির ছিলেন ঢাকায় দায়িত্বরত ৩২টি দেশ ও সংস্থার কূটনৈতিক মিশন ও সংস্থাপ্রধান।
জানাজার আগে তারেক রহমান সবার কাছে তার মায়ের কাছে দোয়া চান। বলেন, “উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় ওনার কোন ব্যবহারে ওনার কোন কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।”
এর আগে সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়।
এ সময় তার মরদেহবাহী গাড়িটি ছিল জাতীয় পতাকায় মোড়ানো।
সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা রাখা হয় খালেদা জিয়ার মরদেহ। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান স্বজন ও দলীয় নেতা কর্মীরা।
পরে বেলা ১২টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পৌঁছায় খালেদা জিয়ার মরদেহ।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। এ সময় জাতীয় পতাকা থাকবে অর্ধনমিত।