শনিবার ভোরে ১৮ পর্যটকের প্রায় সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে। ঘড়ির কাটায় তখন ৭টা। হঠাতই কান্নাকাটি, আর্তনাদ ও চিৎকার চেঁচামেচি। কারণ, তখন আগুনে পুড়তে শুরু করেছে টুপটুপ রিসোর্ট।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রিসোর্টে থাকা পর্যটকরা জানান, আগুন লাগার পর ধোঁয়া দেখতে পান তারা। একাধিক বিকট শব্দও শোনেন তারা।
মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন আতঙ্কিত পর্যটকরা। কয়েকজন জীবন নিয়ে বের হতে পারলেও বাকিরা আটকে পড়েন রিসোর্টের ভেতর।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন তারা।
সকাল ৯টার দিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন। পরে রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করা হয় দশজনের অগ্নিদগ্ধ লাশ।
আরো নয়জনকে উদ্ধার করা হয় আহত অবস্থায়। সাতজনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে, যাদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও ফায়িজান আহম্মেদ (৫)।
বাকি মরদেহগুলোর পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি। মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
টুপটুপ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, রেফ্রিজারেটরের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা।
রিসোর্টটির বেশিরভাগ অংশ ছিলো কাঠের তৈরি। ভবনের পেছনের অংশ ইট দিয়ে নির্মিত। প্রতিটি রুমে ছিলো এসি ও ফ্রিজ। সবকিছু মিলিয়ে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিলো বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেছেন, ঘটনায় কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।
শনিবার রাজধানী ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, টুপটুপ রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে কোনো লাইসেন্স গ্রহণ করেনি।
তিনি বলেন, গত জুন মাসে ফায়ার সার্ভিসের একজন পরিদর্শক রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন এবং এ বিষয়ে নোটিশও দিয়েছিলেন।
এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক।