রেকর্ড উচ্চতায় উঠলো বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম

বাংলাদেশে আরেক দফায় বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এর ফলে রেকর্ড উচ্চতায় বিক্রি হচ্ছে পেট্রল, অকটেন, ডিজেলসহ নানা ধরনের জ্বালানি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ২০এ সেপ্টেম্বর রাতে দামবৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর কয়েকঘণ্টা পরই রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয় নতুন দাম। প্রতি লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা করে। 

এর ফলে এখন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে অকটেন। প্রতি লিটারের দাম ১৬৫ টাকা। এছাড়া পেট্রোল ১৬০ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকায় এবং ডিজেল ১৩৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এই চার জ্বালানির দাম বাংলাদেশে রেকর্ড উচ্চতায় উঠলো।

অবশ্য দাম বাড়ানোর হারের ক্ষেত্রে এর থেকেও বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে অতীতে। এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম গড়ে বেড়েছে ১৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। উক্রেইন যুদ্ধ শুরুর পর তখন একলাফে বেড়েছিলো এর থেকেও বেশি। 

২০২২ সালের আগস্টে এক ধাক্কায় বিভিন্ন রকমের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিলো ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত। তখন অকটেনের দাম ওঠে প্রতিলিটার ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয় ১১৪ টাকা, যা ছিলো সেই সময়ের রেকর্ড দাম।  

এবার দেশে নতুন করে তেলের দাম বৃদ্ধি পেছনে দায়ী করা হচ্ছে অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজারকে। অবশ্য ইরান যুদ্ধের কারণে প্রভাবও পড়েছে। গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৫২ থেকে ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এতে বেড়েছে পরিবহন খরচও। 

সবমিলিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে জ্বালানি তেল এবং গ্যাস ও সার আমদানির জন্য মোটা অঙ্ক গুনতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জন্য ৮৯ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা ভর্তুকি ও প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ রাখা আছে। নতুন করে লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানোর ফলে প্রায় ১০ হাজার কোটি লোকসান কমানো সম্ভব বলে জ্বালানি বিভাগ মনে করছে। 

তবে আশঙ্কার দিক ভিন্ন জায়গায়। বাংলাদেশে এমনিতেই মূল্যস্ফীতির হার বেশি। নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে পণ্য উৎপাদন এবং পরিবহন ও সরবরাহ খরচ একযোগে বৃদ্ধি পাবে। এতে বাজার পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।