রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবসে উখিয়ায় সমাবেশ, প্রত্যাবাসন ও নাগরিকত্বের দাবি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার ৯ বছর উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়ায় সমাবেশ ও র‍্যালি করেছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা।

‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আর নাগরিকত্বের ফেরত পাওয়ার দাবি জানায় রোহিঙ্গা নেতারা।

মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ফুটবল মাঠে এই সমাবেশ হয়। মূল সমাবেশস্থলের বাইরেও জড়ো হন রোহিঙ্গারা।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইউসিআর-এর শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে তারা ২০১৭ সালের ২৫এ অগাস্ট হওয়া হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি তোলেন।

তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্য শুধু ২০১৭ সালেই নয়, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ২০১২, ২০১৭ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালেও তারা ধারাবাহিকভাবে বৈষম্য ও বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন।

রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বক্তারা।

তবে তারা আক্ষেপ করে বলেন, ৯ বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে থাকাও তাদের জন্য কষ্টকর।

এক নেতা বলেন, “আমরা আর এই রিফিউজি জীবনের বন্দিদশায় থাকতে চাই না। নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফিরে যেতে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।"

নেতৃবৃন্দ জানিয়ে দেন, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তাদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, নাগরিকত্ব এবং কেড়ে নেওয়া সম্পদ ও বসতভিটা পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাস্তুচ্যুত হওয়ার আগে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ঐতিহ্য ছিল।

সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা।

তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে।