ক্ষমতার প্রতীক সেই ভবনটি আজ থেকে ইতিহাসের জাদুঘর

ঠিক দুই বছর আগেও এটি ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত ঠিকানা। এখান থেকেই পরিচালিত হতো রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা। সাধারণ মানুষের প্রবেশ তো দূরের কথা, ভবনটির আশপাশেও ছিল কড়া নিরাপত্তা। দূর থেকে দেখা যেত, ছোঁয়া যেত না।

সেই গণভবনই এবার ৫০ টাকার টিকিটে খুলে যাচ্ছে সবার জন্য।

ক্ষমতার প্রতীক থেকে ইতিহাসের স্মারক গণভবনের এই রূপান্তরই এখন বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করার কথা রয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান, গুম-নির্যাতনের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের নানা দলিল-নিদর্শন নিয়ে সাজানো হয়েছে জাদুঘরটি।

তবে উদ্বোধনের আগেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জুলাই আন্দোলনের অনেক নিদর্শন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আলাপ-কে তিনি বলেন, “আমরা শুনেছি অনেক স্মারক সরানো হয়েছে। উদ্বোধনের পরদিন গিয়ে দেখব, জাদুঘরটি আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম সেভাবে হয়েছে কি না।”

জাদুঘর নির্মাণ প্রক্রিয়া ও ব্যয়

ক্ষমতার প্রতীক থেকে স্মৃতির ভাণ্ডারে গণভবনের এই রূপান্তর এসেছে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে। ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর জনতার দখলে যায় গণভবন। 

সেদিন হাজারো মানুষ ভবনে প্রবেশ করে। ভাঙচুর ও লুটপাটে ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন, ৬ই অগাস্ট, ভবনটির দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

এর এক মাসেরও কম সময় পরে, ২০২৪ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর, অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়। 

এরপর ২৪এ ডিসেম্বর ২০২৪ উপদেষ্টা পরিষদ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। 

পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। 

২০২৬ সালের ১০ই এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’ পাস হয়। আইন কার্যকর হওয়ার পর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ৯ই জুলাই ১৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়।

জাদুঘরটি এখন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। 

গণপূর্ত অধিদপ্তর ও জাতীয় জাদুঘরের মাধ্যমে প্রকল্পটির জন্য মোট ১২৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাদুঘর পরিচালনার জন্য ১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গণভবন থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সেই রেড টেলিফোন।

কী দেখবেন দর্শনার্থীরা

বুধবার সকাল ৯টায় জাদুঘরটি উদ্বোধন করার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

জাদুঘরটি শুধু একটি ভবন নয়, বরং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং তার আগের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দলিল সংরক্ষণের একটি স্থায়ী আর্কাইভ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।

এখানে রয়েছে আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, শহীদ ও আহতদের পোশাক, ব্যক্তিগত সামগ্রী, আলোকচিত্র, ভিডিও ফুটেজ, নথিপত্র এবং গণভবন থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন সামগ্রী।

জাদুঘরে তৈরি করা হয়েছে প্রতীকী 'আয়নাঘর', যেখানে গুম ও নির্যাতনের বয়ান তুলে ধরা হয়েছে। 

রয়েছে জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক, প্রতীকী কবর, গণ-অভ্যুত্থানভিত্তিক শিল্পকর্ম, মাল্টিমিডিয়া গ্যালারি এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের জন্য পৃথক থিয়েটার।

জাদুঘর এলাকায় নতুন ওয়াকওয়ে, সম্প্রসারিত লেক, জুলাই মঞ্চ, স্যুভেনির শপ, টিকিট কাউন্টার, ফুড কোর্ট, প্রার্থনাকক্ষ এবং দর্শনার্থীদের জন্য অন্যান্য সুবিধাও রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতেও নতুন নিদর্শন, তথ্য ও দলিল যুক্ত করে জাদুঘরটিকে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।

তবে এখানো আরও জিনিস যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

উদ্বোধনের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “উদ্বোধনের পরও নতুন নিদর্শন, তথ্য ও উপস্থাপনা যুক্ত করা হবে।”

কবে থেকে প্রবেশ

উদ্বোধনের প্রথম দিন জাদুঘরটি শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন।

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা আলাপ-কে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের জন্য জাদুঘর পুরোপুরি প্রস্তুত। উদ্বোধনের পরদিন থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।”

জুলাই জাদুঘরে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।

বিতর্ক ও যত অভিযোগ

গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই প্রশংসার পাশাপাশি বিতর্কও তৈরি করে। প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি, ক্রয়প্রক্রিয়া, ব্যয়, ঠিকাদারি, নিয়োগ প্রায় প্রতিটি ধাপেই প্রশ্ন ওঠে। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যাও দিয়েছে।

প্রথমেই আপত্তি ওঠে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনকে পাল্টে দেওয়া নিয়ে। এটা জাদুঘর হলে ঢাকায় প্রধামন্ত্রীর বসবাস উপযোগী বাসভবন তৈরির জায়গা পাওয়া কঠিন হবে বলেই মনে করেন অনেকে।

তবে শেষ পর্যন্ত জাদুঘরে পাল্টে ফেলারই সিদ্ধান্ত হয়। শুরুতেই অভিযোগ ওঠে এর টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েই। 

জাদুঘরটি দ্রুত চালু করার লক্ষ্য সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই দুটি প্রকল্প সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয়।

সরকারের যুক্তি ছিল, উন্মুক্ত দরপত্র করলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার জরুরি বিধান ব্যবহার করে কাজ শুরু করা হয়।

তবে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান তখন বলেন, “সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির ব্যবহার স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এ ধরনের প্রকল্পে এটি প্রযোজ্য কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে।”

জবাবে জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব তখন বলেন, “দ্রুত কাজ করতে গিয়ে পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, তবে তা নিয়মবহির্ভূত ছিল না।”

এ প্রকল্পে একটি প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যাদেশ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো, কোথাও লিখিত চুক্তি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন করা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নিয়ে অসঙ্গতি এবং ভাস্কর্য, প্রামাণ্যচিত্র, শিল্পকর্ম ও আপ্যায়ন ব্যয়ে অস্বাভাবিক খরচের অভিযোগ তোলে বিভিন্ন গণমাধ্যম। 

এছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিথি আপ্যায়নে ৩৭ লাখ টাকার বেশি ব্যয় নিয়েও সমালোচনা হয়। 

এমনকি জনবল নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।

জাদুঘরের চাকরি প্রবিধান অনুযায়ী নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও ৬ থেকে ২০ গ্রেডের ৯৬টি পদে শুধু মৌখিক ও দক্ষতা পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আবেদন করার সময়ও ছিল মাত্র সাত দিন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, জাদুঘর দ্রুত চালুর স্বার্থে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে লিখিত পরীক্ষার শর্ত শিথিল করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা শুরু হলে মৌখিক পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াই বাতিল করা হয়। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, সরকারি বিধি মেনেই ব্যয় হয়েছে। 

তবে শেষ পর্যন্ত জনবল ঘাটতি নিয়েই শুরু হচ্ছে জাদুঘরটির পথচলা। বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরের ১৮ জন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে জুলাই জাদুঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

ফিরে দেখা গণভবনের অর্ধশতাব্দী

আজ যে ভবনটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, তার ইতিহাস শুধু একটি ভবনের নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা, রাজনীতি এবং শাসনব্যবস্থারও ইতিহাস। যার শুরুটা কিন্তু পাকিস্তান আমলে।

১৯৫৯ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান ঢাকাকে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৬১ সালে বর্তমান শেরেবাংলা নগর এলাকায় প্রায় ২০৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। 

উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় পরিষদ ভবন, মন্ত্রী ও সচিবদের আবাসন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ভবন নিয়ে একটি প্রশাসনিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলা। এই মাস্টারপ্ল্যানের নকশা করেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান।

মাস্টারপ্ল্যানের নকশা করেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান।

প্রথম পরিকল্পনায় বর্তমান গণভবনের জায়গাটি রাষ্ট্রপতির বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ এটি শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে পরিকল্পিত ছিল না।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার যুদ্ধের কারণে পুরো প্রকল্পের কাজ থেমে যায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার একই মাস্টারপ্ল্যান ধরে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে রাষ্ট্রপতির বাসভবনের পরিবর্তে ভবনটিকে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়।  

১৯৭৩ সালে শেরেবাংলা নগরে প্রায় ১৭ দশমিক ৬৮ একর জমির ওপর নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

যদিও এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে, কিন্তু সেখানে কখনোই তার ওঠা হয়নি। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ৭৫-এর ১৫ই অগাস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

পরে রাষ্ট্রপতি শাসন ও সামরিক শাসনের সময়ও ভবনটির কাজ চলতে থাকে। ধাপে ধাপে এটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহ আজিজুর রহমান কিছু সময়ের জন্য সরকারি বাসভবন হিসেবে এটি ব্যবহার করেন বলে সরকারি ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রধানমন্ত্রীও এখানেই বসবাস করেন।

তবে গণভবনের সঙ্গে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক ছিল শেখ মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার। 

১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই তিনি গণভবনে ওঠেন। ২০০১ সালে ক্ষমতা হারানোর পর ভবন ছাড়তে হয়। 

২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছর এটিই ছিল তার সরকারি বাসভবন এবং কার্যত দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র।

এই সময়ে গণভবন শুধু প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনই ছিল না। এখানেই মন্ত্রিসভার বৈঠক, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সংবর্ধনা, কূটনৈতিক বৈঠক, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো। বিশাল কমপ্লেক্সটিতে ছিল লেক, কৃষিখামার, ফল ও সবজির বাগান, টেনিস কোর্ট এবং বিভিন্ন গৃহপালিত প্রাণী পালনের ব্যবস্থাও।

২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর গণভবনের ইতিহাস নতুন মোড় নেয়। প্রায় দুই বছরের সংস্কার, সংগ্রহ ও প্রস্তুতির পর ২০২৬ সালের ৬ই অগাস্ট থেকে সেই ভবনই নতুন পরিচয়ে মানুষের জন্য খুলে যাচ্ছে ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে নয়, ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে।