গাজার আর্তচিৎকার পৌঁছে দিলো ‘নাজা’

বর্তমানে পুরো দুনিয়ার সামনে যে নির্লজ্জ গণহত্যা চলছে, তারই মর্মভেদী, হতবিহ্বল করা এক তথ্যচিত্র দেখা হলো উৎসবের নবম দিন। ইয়ুভাল আব্রাহাম আর রেচেল সোর পরিচালিত তথ্যচিত্রটির নাম ‘নাজা’। প্রথমে ভেবে পাচ্ছিলাম না ‘নাজা’ শব্দের অর্থ কী। পরে ছবিটি শুরুর পর জানতে পারলাম ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনে সন্দেহভাজন কাউকে যখন হত্যা করে, তখন তার সাথে যে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মারা যায় তাদেরকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘নাজা’ নামে ডাকে। ধরুন একজনকে তারা লক্ষ্য করে হত্যা করলো, কিন্তু সেই সময় মারা গেলো আরো একশ লোক, তাহলে এই একশ মৃত মানুষ হলো ‘নাজা’। একজনের সঙ্গে বাকি একশ কেন মারা গেলো? কারণ ইসরায়েলি বাহিনী সন্দেহভাজন যখন বাসায় ঘুমোতে ঢোকে, তখন সেই পুরো ভবনটাই ড্রোনের সাহায্যে বা দূরনিয়ন্ত্রিত ক্ষেপানাস্ত্রের মাধ্যমে গুড়িয়ে দেয়। সেখানে শিশু-নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রাণ হারায় সকলে। এমনও হয়েছে, গোটা এলাকা ধুলোর সাথে মিশিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের এবারের আয়োজনে মূল প্রতিযোগিতায় থাকা ছবিটি নির্মাণ করা হয়েছে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একসময়ের কর্মী ও কর্তাব্যক্তিরা। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাদের মুখমণ্ডল গোপন রাখা হয়েছে। কিন্তু মানবতার কারণে, নিজের বিবেকের দংশনের জন্য তারা এসব সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন। 

নাজা ছবির পরিচালক ইয়ুভাল আব্রাহাম এবং রেচেল সোর

ছবির শুটিং করা হয় তেল আবিবের এক ভবনের ছাদে, রাতের অন্ধকারে। গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষদের পরিকল্পিতভাবে গণহত্যার পেছনে ইসরায়েল জঘন্য কিছু ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। যেমন, একটি ব্যবস্থার নাম ‘লেভেন্ডার’, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিচালিত এই লেভেন্ডারের মাধ্যমে তারা গাজার প্রত্যেক ভবনের প্রতিটি বাসিন্দার ওপর নজর রাখতে পারে। লেভেন্ডার শুধু ফোনালাপ নয়, সামাজিক মাধ্যম, প্রতিদিনের চলাফেরা সবকিছু বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকে চিহ্নিত ও হত্যার জন্য টার্গেট করতে পারে। এক সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলছিলেন, হামাস বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে লেভেন্ডারের সাফল্য ৮৫ শতাংশ। প্রশ্নকর্তা তখন প্রশ্ন করেন, বাকি ১৫ শতাংশ? ভুল হলে কি সাধারণ মানুষ মারা যায়? কর্মকর্তা বলেন, হ্যাঁ। তাতে ইসরায়েলি বাহিনীর কোনো অনুশোচনা নেই। বরং সব মৃতদেহকে তারা ওভাবেই দাফনহীন পড়ে থাকতে দেন। পরদিন লাশগুলো কুকুরে টেনে টেনে খায়। ইসরায়েলি সেনারা সেসব দেখে আনন্দ পায়। আরেকটি ব্যবস্থার নাম ‘বাবা কোথায়’, এটাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত। এটির মাধ্যমে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা পরিবারের সদস্যদের ভেতর তথ্য আদানপ্রদানের ধরন, বা ক্রস রেফারেন্স বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দেয় কবে, কখন, কোথায় টার্গেটের ওপর হামলা চালানো হবে।

একটি ঘটনা এখানে বলা হয়, একবার এক কিশোরীর তথ্য আদানপ্রদান থেকে তার বাবাকে টার্গেট করা হয়। পরে সেই মেয়েটির বাবাকে তো মারা হয়ই, মেয়েটিকেও মেরে ফেলা হয়। খুবই সুচারুভাবে ইসরায়েলি বাহিনির সদস্যদের শেখানো হয় ফিলিস্তিনি আরব মানেই তারা সন্ত্রাসী! আবালবৃদ্ধবনিতা সকলেই তাদের চোখে হত্যাযোগ্য। কাজেই তারা মানুষ মারে পাখির মতো। নির্দয়ভাবে। সাক্ষাৎকারে সাবেক কর্মকর্তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা তাদের জন্য ভিডিওগেম খেলার মতো মজা। তবে এক নারী কর্মকর্তা, তিনি বোধহয় নারী বলেই কিছুটা হৃদয়বান ছিলেন, তিনি বলেন, যখন কোনো ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি দেখতেন কেউ আহত হয়ে কাতরাচ্ছে, তখন তিনি আরেকটা বোমা মেরে তাকে পুরোপুরি মেরে ফেলতেন!

এইরকম এক হৃদয়বিদারক ছবি, ইসরায়েলি বর্বরতার দলিলচিত্র কেন বানাতে গেলেন পরিচালকদ্বয়, বিশেষ করে তারা নিজেরাই যখন ইসরাইলি? উত্তরে তারা বলেন, “আমরা এই ছবি তৈরি করেছি এক ধরনের দায়বদ্ধতা থেকে। ইসরায়েলি হিসেবে আমাদের যে অবস্থান, সেটিকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেখাতে চেয়েছি ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল, আর এটা দেখিয়ে দেওয়া আমাদের কর্তব্য।”

তিন বছর ধরে ছবিটির কাজ করেছেন দুই পরিচালক। আর তাদেরকে সহযোগিতা বরে যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। দুই পরিচালক বলেন, “আমাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে যতটা সম্ভব, তার চেয়েও গভীরে গিয়ে কিছু অনুসন্ধান করার সুযোগ দিয়েছে এই ছবি। শুধু কী বলা হচ্ছে তা নয়, কী বলা হচ্ছে না, সেই নীরবতাকেও দেখার সুযোগ দিয়েছে। সেই নীরবতা ভেঙে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার ছাড়াও দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক পুরোনো টিভি সাক্ষাৎকারও জুড়ে দেওয়া হয়েছে এতে। সেখানে দেখা যায় নেতানিয়াহুকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কী? উত্তরে তিনি বলেন, পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধভাবে যখন কোনো নিরস্ত্র মানুষের উপর হামলা করা হয়।

যৌবনে বলা নেতানিয়াহুর কথা দিয়েই তার কৃতকর্মের উত্তর দেওয়া হয়েছে এই ছবিতে। ছবিটির শেষভাগে দেখানো হয়েছে পরিকল্পনামাফিক ফিলিস্তিনি এক ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পরের দৃশ্য। উদ্ধারকারীরা এসেছে। হাহাকার, চিৎকার ধ্বনিত হচ্ছে চারদিকে। ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে মানুষের লাশ। এক পিতা তার সন্তানদের খুঁজে বেড়াচ্ছে আর আর্তচিৎকার করে ভারি করছে বাতাস। এখানেই শেষ হয় তথ্যচিত্রটি। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ, এমন এক শক্তিশালী চলচ্চিত্রকে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান করে দেওয়ার জন্য।

ছবি দেখে বের হয়ে দেখি জমে যাওয়ার দশা। সকাল থেকেই মেঘের পরে মেঘ জমে ছিলো। মাঝে বৃষ্টি হয়ে গেছে। এখন কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস। আমি কাঁপতে কাঁপতে প্রেস এরিয়ায় এসে লিখতে শুরু করলাম। দুপুরের খাবারটাও লেখার মাঝেই সেরে নিলাম। এর পরের ছবি ‘লা মুলা’ ফরাসি দেশের, পরিচালনা করেছেন জেরোমি পিয়েরাত। ‘মুলা’র বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘ট্যাকা’। মানে টাকার প্রচলিত অপভাষা (স্ল্যাং টার্ম) যেমন ‘ট্যাকা’, মুলাও সেরকম। ছবিটি দেখার জন্য ‘পালাবিয়েনালে’র দিকে যাচ্ছি। মাঝে আবার দেখা হয়ে গেলো অনুরাগ কশ্যপের সাথে। আজ তার জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে ‘কাট টু সিনেমা’র অনলাইন সংস্করণে আমরা রাতেই একটা লেখা প্রকাশ করেছিলাম। ভোরে সেটি শুভেচ্ছাসহ পাঠিয়ে দিয়েছিলাম অনুরাগের মুঠোফোনে। দুপুরে দেখা হলে লেখাটির জন্য আরেক পশলা ধন্যবাদ জানালেন। এর পরের যে ছবিটি দেখবো, সেটি অনেকটা অনুরাগ-জনরার কাহিনি, অপরাধ জগত নিয়ে।

দেখতে বসলাম ছবিটি। কাহিনিতে দেখা যায় ফ্রান্সের বন্দর এলাকা মার্সেইতে এক সাংবাদিক জেরোমি পেশাজীবনে আর উন্নতি করতে পারছে না। সে একজন অনুসন্ধানী ক্রাইম রিপোর্টার। তো তার ছোটবেলার বন্ধু চার্লি আবার মাদক চোরাচালানের সাথে যুক্ত। জেরোমি চিন্তা করলো বন্ধু চার্লিকে বলে মাদক কারবারিদের গোপন ব্যবসার সবকিছু সে ভেতর থেকে উদঘাটন করবে। আর এতে তার কপাল খুলে যাবে সাংবাদিক হিসেবে। কিন্তু ভেতর থেকে কাজ করতে গিয়ে জেরোমি জড়িয়ে যায় এক জটিল হিসাবনিকাশে। জীবন চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

হাতে ধরা ক্যামেরা চরিত্রদের অনুসরণ করে। ক্যামেরা ধরা থাকে জেরোমির হাতেই। পরিচালক সাংবাদিকের চোখেই চলচ্চিত্রটি বানাতে চেয়েছেন। পরিচালক জেরোমি নিজেই মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি পেশাজীবনেও একজন ক্রাইম রিপোর্টার। নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে ছবিটি বানানো। সত্যি বলতে ছবিটি আমার বিশেষ সুবিধার লাগেনি। কিছুটা নিরীক্ষাধর্মী যদিও। এজন্যই ওরিৎজন্তি বিভাগে স্থান পেয়েছে ছবিটি। নির্মাণে নিরীক্ষা থাকলেও, গল্পটি আসলে গৎবাঁধাই মনে হয়েছে।

যাইহোক, কষ্ট করে ছবিটা শেষ করে বের হতেই দেখি প্রথমে টিপটিপ বৃষ্টি, তারপর ঝমঝমিয়ে আকাশ ভেঙে পড়লো। আগেরদিন কেনা ছোট্ট ছাতা দিয়ে কোনোরকম মাথা বাঁচালাম। ছবিটি যেহেতু দূরের ‘পালাবিয়েনালে’তে হচ্ছিল, তাই বৃষ্টির ভেতর অনেকটাই হাঁটতে হলো।

পরের ছবিটিও একই বিভাগের—অরিৎজন্তি। আরেক বাঙালি নারী পরিচালক অনুপর্ণা রায়ের ছবি—লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট। ‘সালা ভোলপি’ প্রেক্ষাগৃহটি পালাৎজো দেল ক্যাসিনো ভবনের নিচেই। ছোট্ট হলরুম। দেড়শ লোক বসার ব্যবস্থা রয়েছে। আর এই ভবনেই যেহেতু প্রেস এরিয়া, তাই লেখালেখি মোটামুটি গুছিয়ে আধঘন্টা আগে নিচে চলে এলাম। কী ঠাণ্ডা! কী ঠাণ্ডা! জানতে পারলাম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বৃষ্টির পরই নাকি ইতালিতে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। গরমের কাল শেষ। বৃষ্টির পর শৈত্যপ্রবাহ শুরুর তথ্য তো আমার কাছে ছিলো না। তো কোনোরকম এখন দ্রুত হলের ভেতর ঢুকতে পারলে বাঁচি। ওরা ঠিক পনেরো মিনিট আগেই হলের দরজা খুলল।

লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট ছবির একটি দৃশ্য

অনুপর্ণা রায়ের ‘লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট’ দেখলাম। আমি হতবাক হয়ে ছবিটি দেখেছি। মানে ছবির কাহিনি হলো বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে সহায়সম্বল হারিয়ে অনেক মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করেছে। মূল দুই চরিত্র করিম ও আমিনাও সেই ঢলের সঙ্গে আসা। তারা মুম্বাইয়ের এক বস্তিতে থাকে। করিম ইঁদুর মারার বিষ তৈরি করে আর ইঁদুর মারে। অন্যদিকে আমিনা একটি বারে ফোনে যৌনতা বিক্রি করে। এর ভেতর একদিন এক চোর সুক্কার সাথে পরিচয় হয় করিমের। আর বারে নতুন ছেলে ওমরানের সাথে পরিচয় হয় আমিনার। সুক্কার সাথে করিমের সমকামী প্রেম। আর ওমরানের সাথে আমিনার পরকীয়া প্রেম। এই হলো ছবির গল্প। মাঝে একটু বলে রাখি এই স্মার্ট ফোনের যুগে এমন কোন জায়গা আছে, যেখানে পাশাপাশি বুথ বানিয়ে পয়সার বিনিময়ে ল্যান্ড ফোনে ‘ফোন সেক্স’ করে লোকে? আমার জানা নেই। তবে এই ঘটনা ও দৃশ্যটি ভিম ভেন্ডার্সের ‘প্যারিস, টেক্সাস’ (১৯৮৪) ছবির অনুরণন মনে হলো। সেখানেও বুথ ও ফোনে কথ্য যৌনতা বিক্রির দীর্ঘ দৃশ্য রয়েছে। অনুপর্ণার ছবিতেও প্রায় একইরকম দৃশ্য দেখলাম।

সব মিলিয়ে ছবির সিনেমাটোগ্রাফি খুবই ক্লিশে। সংলাপ যারপরনাই দুর্বল। আর ছবির পুরো প্লট এতোটাই খেলো যে আমি হতবাক হয়ে ভাবছিলাম, এই অনুপর্ণাই কি না গতবার ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ওরিৎজন্তি বিভাগ থেকে সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছিলেন। ছবির অন্তর্নিহিত বক্তব্য যদি খতিয়ে দেখি তো এভাবে তর্জমা করা যায়—বাংলাদেশ থেকে লোক ভারতে গিয়ে অন্যদের শয্যাসঙ্গী বা সঙ্গীনি হয় কেবল। তাদের জীবনে অর্থকষ্ট নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই, আছে শুধু শরণার্থী জীবনের নস্টালজিয়া ও প্রেম। প্রেমের দৃশ্য ভারতীয় ছবিতে আর কতটুকু দেখানো সম্ভব, কাজেই ওই জায়গাতেও আশি-দশকীয় নীতিপুলিশের কথা মাথায় রেখে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ ধরনের চিত্রনাট্য রচনা করতে হয়েছে। আর নারী পরিচালকের হাতে পুরুষের সমকামকে বোঝা সহজ নয় বলেই বিষয়টি হাস্যকর হয়ে ওঠে। চরিত্ররা খুব সিরিয়াস। করিম যে কোনো মূল্যে সুক্কাকে পেতে চায়। সুক্কার মন ততদিনে ফিরে গেছে প্রেমিকা পিংকির দিকে, কারণ পিংকি গর্ভবতী। এতে বিরহে কাতর হয় করিম। তো করিম আর সুক্কার যে রসায়ন দেখানোর চেষ্টা হয়েছে ছবিতে, সেটিও করুণভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে। উল্টোদিকে আমিনার ভেতর প্রেম জেগে ওঠার ক্ষেত্রে কিছুটা যত্নের ছাপ পাওয়া গেছে। সেখানে বোঝা যায় নারী নির্মাতা নারীর প্রেমকে রচনা করছেন। সেটা ঠিকঠাক পেরে ওঠা গেছে। বাকিসব মিছে কলরবে পরিণত হয়েছে।

ছবি শেষ করে বের হওয়ার পর আক্ষরিক অর্থে আমার দাঁত কপাটি লাগার দশা। বৃষ্টির পর উৎসব লাগোয়া অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের বর্শাসম তীক্ষ্ণ শীতল হাওয়া যেন চামড়া ফুড়ে হাড়ে গিয়ে বিঁধছে। গরম জামা তো আনা হয়নি! দেশ থেকে দেখে এসেছি ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকবে তাপমাত্রা। এখন সেটা কমে ১৮-তে চলে এসেছে, তার ওপর এই তীব্র বাতাস। আবার জগিং করে শরীরে তাপ বাড়ানোর ব্যবস্থা করলাম। কোনোরকম বাস-লঞ্চ-বাস হয়ে নামলাম মিরানিস পিয়েমন্তে বাস স্ট্যান্ডে।

দেখি এখনো খোলা পুরান ঢাকার রাসেল ভাইয়ের পিৎজা ও কাবাবের দোকান। ঢোকার সাথে সাথে সেখানকার বাংলাদেশি কর্মচারীরা সাদরে আমন্ত্রণ জানালেন, বললেন আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি। বসলাম। টেবিলে এলো গরম গরম ‘পিয়াদিনা কাবাব’, এটা আসলে আমাদের দেশের শর্মার মতোই জিনিস, তবে সাইজে একটু বড়, এই যা। তো খেতে খেতে গল্পটল্প করলাম। বাঁধন প্রসঙ্গ এলো অবধারিতভাবে। রাসেল ভাই বললেন, প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে তারা খুবই লজ্জিত। বললাম, বিশ্বের যে কোনো দেশে গিয়ে আমরা প্রবাসী হতে পারি, কিন্তু ভালো ও মন্দের ভার কিন্তু শেষ পর্যন্ত জাতি ও রাষ্ট্রকেই নিতে হয়। রাত বাজে প্রায় বারোটা। ‘বুয়ানা নত্তে’ বলে বিদায় নিলাম।