ভেনিসের ভেলায় দুটি অসুখী ছবি

দ্বিতীয়দিনের মতো আমি যখন পিয়াৎজেল রোমা থেকে চল্লিশের মিনিটের জন্য আবার নৌকাভ্রমণ শুরু করলাম, ভেনিসের এই উপহ্রদগুলোর দুই কূলে বেধে রাখা সারিসারি গন্ডোলা দেখে মনে পড়ে যাচ্ছিল ভূ-পর্যটক বিমল দে’র কথা। তিনি গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভেনিসে এসে এরকম এক গন্ডোলায় দিনের পর দিন থেকেছেন। বিনা পয়সায়। বিনিময়ে গন্ডোলার মালিকের সাথে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করে দিয়েছেন। বাকি সময়টা ঘুরেছেন ভেনিসের ওলিগলি। আমাদের পুরোনো ঢাকার মতোই ওসব ওলিগলি। পার্থক্য শুধু এই এখানে সেসব ওলিগলি পানিতে থৈথৈ। জলযান ছাড়া ভেনিসবাসীর জন্য বিকল্প হলো পায়ে হাঁটা। খালের ওপর ধনুকাকৃতির সাকোঁ আছে। সেসবের ওপর দিয়ে মানুষ এপার থেকে ওপারে যায়। তবে আমার ওলিগলিতে যেতে হয় না, বড়খাল বা গ্র্যান্ড ক্যানাল দিয়েই আমাদের যেতে হয় এড্রিয়াটিক সাগরের দিকে। কারণ লিডো দ্বীপ হলো সেই প্রাকৃতিক দেয়াল, যা এডিয়াট্রিক সাগরকে আলাদা করেছে ভেনিশীয় লেগুন থেকে। লেগুনকে ঘিরেই ভেনিসের মানুষের জীবন আবর্তিত। এই আবর্তনের বয়স কিন্তু কম নয়।

ভেনিশীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন হয় খ্রিস্টপূর্ব দুই হাজার বছর আগে। ‘ভেনিস’ শব্দটি ইন্দো-ইউরোপীয়, এর অর্থ ‘সজ্জন’ বা নোবেল ম্যান। এই শহরের ইতিহাস পুরোপুরিভাবে পাওয়া যায় খ্রিস্টপূর্ব একশ বছর থেকে। সেসময় শহরটি দখলে নেয় রোমানরা। শহর হিসেবে ভেনিস শহরের গোড়াপত্তন হয় ৪৫১ খ্রিস্টাব্দে। শহরটি রোমানদের অধীনে থাকে প্রায় ৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। যদিও ভেনিস কখনো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিলো না, যতটা না ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে ছিলো। সপ্তম শতাব্দীতে ভেনিস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ভেতর দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে এবং শাসনকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় একজন ডিউক বা ডজকে। এরপর থেকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে ধীরে ধীরে চোখে পড়ার মতো অবদান রাখতে থাকে ভেনিসের ডিউক।

শুধু তাই নয়, ভেনিস হয়ে উঠেছিল নৌবিদ্যায় অসম্ভব পারদর্শী। পুরো দুনিয়া থেকে লোকজন এখানে আসত নৌযান বানানোর কৌশল শেখার জন্য। ভেনিস গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হয়ে ওঠায় চীন থেকে এখানে আসত সিল্ক, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে আসতো মশলা, আফ্রিকা থেকে স্বর্ণ ও আইভরি। ভেনিস থেকে উৎপাদন হতো গ্লাস, কাপড় ও শৌখিন পণ্য। একারণেই ভেনিস ধনদৌলতে সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল।

পঞ্চদশ থেকে সপ্তদশ শতকের ভেতর ভেনিস পরিণত হয় গোটা ইউরোপের অন্যতম শিল্পসংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রে। তাই একাধিকবার আক্রমণের ঘটনাও ঘটে। ১৭৯৭ সালে ভেনিস পুরোপুরি দখল করে নেন নেপোলিয়ন। এখানকার শিল্প ও শহরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নেপোলিয়ন এই রাজ্যকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি ভেনিসকে বলেছিলেন ‘স্বর্গরাজ্য’। না বলে উপায় কী, ভেনিস হলো টিশান, টিনটোরেটো, পাওলো ভেরোনেজে, জিওভানি বেলিনির মতো চিত্রশিল্পীদের জন্মস্থান। এদের ভেতর ছোটবেলায় শুনেছিলাম টিনটোরেটোর নাম, সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা উপন্যাসের কল্যাণে— “টিনটোরেটোর যীশু”।

যাহোক, নেপোলিয়নের পর ভেনিস চলে যায় অস্ট্রিয়ান শাসকদের অধীনে। এরপর ১৮৬৬ সালে এটি ইতালির অংশ হয়ে ওঠে।

ভেনিস ফিল্ম ফেসটিভাল

ইতালির উত্তরাঞ্চলে, এড্রিয়াটিক সাগর ঘেষে, অগভীর হ্রদের ওপর শতাধিক দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ভেনিস গঠিত। এই মুহূর্তে ভেনিসের আওতাধীন রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির ১১৮টি দ্বীপ। দ্বীপগুলো সংযুক্ত আবার গ্র্যান্ড ক্যানাল আর ছোট ছোট খাল দিয়ে। ছোট খালকে এরা বলে ‘রী’। হিসাব বলছে গ্র্যান্ড ক্যানাল সহ ছোট ছোট খালের মোট পরিমাণ ১৭০টি। এসব মহাখাল ও সরুখালের ওপর দিয়ে বানানো চার শতাধিক সেতুর মাধ্যমে দ্বীপগুলো সংযুক্ত। অবশ্য লোকজন এসবের ওপর দিয়ে বেশিরভাগ সময় হেঁটে হেঁটেই পার হয়। ভেনিসে গাড়ি তেমন একটা চোখে পড়ে না। বাসই বেশি। আর আছে পানির বাস (ভ্যাপোরেত্তি), পানির ট্যাক্সি ও গন্ডোলা নামের একধরনের নৌকা, যেটিকে বলা যেতে পারে ময়ূরপঙ্খী নাও। ভেনিসে গড়পরতা গত কয়েক বছর ধরেই জনসংখ্যা পঞ্চাশ হাজারের মতো। কিন্তু ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই শহরে ঘুরতে আসে লাখ লাখ মানুষ। এই লাখো মানুষের আসার পেছনে যেমন শহরের সৌন্দর্য রয়েছে, রেনেসাঁ যুগের স্থাপত্যকলা ও শিল্পকর্ম রয়েছে, তেমনি রয়েছে চলচ্চিত্র। কারণ চলচ্চিত্রপ্রেমী ও চলচ্চিত্রকর্মীদের জন্য ভেনিস হলো চলচ্চিত্র উৎসবের জন্মস্থান। আমিও শেষোক্ত কারণেই ভেনিসে হাজির হয়েছি।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রথমেই স্নাত হলাম দ্রাক্ষারস দিয়ে। আক্ষরিকভাবে নয়, সিনেমার পর্দায়। ফ্রান্সে অবস্থিত বুরগুন্ডি অঞ্চলের দ্রাক্ষারস পৃথিবী বিখ্যাত। ছবির নামই ‘বুরগুন্ডি’ এবং ছবির কাহিনি গড়িয়েছে ওয়াইনকে কেন্দ্র করে। ফরাসি দেশের মাইকেল ডুয়েক ও গ্রেগরি কেরশো পরিচালিত এই ছবিতে শুধু যে ওয়াইনের স্বাদ-গন্ধ-বর্ণ নিয়ে আলাপ হয়েছে, তা নয়, এর পাশাপাশি দুই প্রজন্মের ফারাক ও আকাঙ্ক্ষার বিষয়টিও উঠে এসেছে। ফ্রান্সের সংস্কৃতিতে ওয়াইন শুধুমাত্র একটি পানীয় নয়, এটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ছবিতে দেখা যায় এই ওয়াইনকে উপলক্ষ্য করে প্রবীণ মানুষেরা নবীনের হাতে তুলে দিতে চাইছে সংস্কৃতির ঝাণ্ডা।

ছবিতে দেখি এক তরুণী দ্রাক্ষারস বিশেষজ্ঞ হতে চায়। পশ্চিমের রেস্তোরাঁতে এমন ওয়াইন বিশেষজ্ঞ থাকে, তাদের বলে ‘সমেলিয়্যার’। বিশেষজ্ঞের অধীনে থেকে দ্রাক্ষারসের বয়স, স্বাদ ও অনুভূতি শিখলেই চলে না, পরিবেশনেও থাকতে হয় বিশেষ দক্ষতা। এটা শুনে হয় তো কারো কারো উর্দু ও ফারসি শায়েরিতে পড়া ‘সাকী’র কথা মনে পড়ে যেতে পারে। যাহোক এই দ্রাক্ষারস নিয়ে প্রেমে মজে থাকা তরুণীর পরিচয় হয় জমিনে দ্রাক্ষা বা আঙুর ফলানো এক শ্রমিকের সাথে। তাদের পরিচয় প্রেমে পরিণত হয়। দুই নবীনকে ঘিরে থাকা দ্রাক্ষারস বিশেষজ্ঞরা আশা করতে থাকেন, তাদের শূন্যস্থান পূরণ করবে এই নতুনেরা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রেমীযুগল সংসার পাততে চায়। তাদের দরকার অর্থের।

টাকাপয়সার প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি করে তারা অনুভব করে যখন তারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বিখ্যাত ‘বনি অ্যান্ড ক্লিড’ (১৯৬৭) ছবিটি দেখে। আর্থার পেনের এই ছবি থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে বলিউডে বানানো হয়েছিল ‘বান্টি ওউর বাবলি’ (২০০৫)।  মানে এক জুটি পয়সার জন্য এমন কোনো অপরাধ নেই করে না। ব্যাংক ডাকাতি থেকে খুনোখুনি, সব। তো এই ছবিটি প্রভাব ফেলে বুরগুন্ডির প্রেমীযুগলের উপর। না, তারা কোনো অপরাধে যুক্ত হয় না, কিন্তু অর্থ উপার্জন যে জরুরি সেটা হাড়েহাড়ে টের পায় এবং দুজন দুদিকে চলে যায় আয়-রোজগারের জন্য।

ছবিটি যে আবার কেবল দুই প্রজন্মের চিন্তার ভিন্নতাকে নির্দেশ করে, তা নয়। অতীত যে বর্তমানকে সমৃদ্ধ করে, ওয়াইনের মতো, সেই সত্যের দিকেও ইঙ্গিত করে। ছবিটি টিপিকাল ইউরোপীয় আর্ট ঘরানার। অনেকের ভালো না-ও লাগতে পারে। তবে এধরনের ছবির ভেতর একটা প্রশান্তি ভাব থাকে। উৎসবে প্রতিযোগিতার বাইরে থাকা ‘ভেনিস ওপেন’ বিভাগে স্থান পেয়েছে ছবিটি।

মনের ভেতর শান্তিভাব নিয়ে বেরিয়ে দেখি হাতে মোটামুটি অনেকটা সময় আছে। প্রেস এরিয়াতে গিয়ে বসলাম। এখানে একসাথে একশোরও বেশি সাংবাদিক কাজ করতে পারে। তিনটি ভাগে ভাগ করে তাদের বসার ব্যবস্থা করা। মাঝের হলরুমটা বেশ সুন্দর। দেয়ালে বিশাল ফ্রেস্কো। এখানে টেবিলের উপর উৎসবের পক্ষ থেকেই সারিসারি ল্যাপটপ রাখা। সাংবাদিকরা শুধু আসবেন, বসবেন, কাজ করে চলে যাবেন। আর শুরুর জায়গাটি সাংবাদিকদের নিজেদের যন্ত্র নিয়ে কাজ করার জন্য। শেষের অংশটি আলাদা কক্ষে। জানালা খোলা থাকে। বোঝাই যাচ্ছে যারা মুখাগ্নি (সিগারেট ফুকতে ফুকতে) করতে করতে কাজ করতে চান, জায়গাটি তাদের জন্য। আমি প্রথম অঞ্চলে গিয়ে নিজের ল্যাপটপ বের করে লিখলাম কিছুক্ষণ। এরমাঝেই ফোন এলো দেশের চ্যানেল ওয়ান থেকে। আমার দুই এক মিনিটের একটা মন্তব্য নিতে চায় ওদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে। সরাসরি সম্প্রচার হবে। ওরা সময় মতো যোগাযোগ করলো। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ভেনিসে প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হওয়া নিয়ে কথা বললাম।

পরবর্তী ছবির জন্য প্রতিক্ষার সময়টাতে আমার তিন পুরোনো বন্ধুর সাথে দেখা। একজন তেরেসা ভিনা। সুইস চলচ্চিত্র সমালোচক ও সিনে-বুলেটিনের সম্পাদক। ওর পত্রিকায় আমি লিখেছি। পত্রিকাটি ফরাসি ও জার্মান ভাষায় বেরোয়। দেখলাম তেরেসা ও তার আরেক সহকর্মী এসেছেন যে ছবি দেখতে আমিও সেই ছবি দেখার জন্যই বসে আছি প্রেস এরিয়ায়। ওদের বিদায় দিয়ে বসতে না বসতেই দেখি আমার টেবিলের দিকে আসছে স্পেনের ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট মারিওনা বরুল যাপাতা। স্পেনে পডকাস্ট ও টিভি অনুষ্ঠানে ও পরিচিত মুখ। বলল, ও ভীষণ চাপে আছে লেখা পাঠানো নিয়ে। এখনো শেষ করতে পারেনি।

আমি বললাম, ভালো, আমার লেখা আমি সকালেই পাঠিয়ে দিয়েছি। হিংসা, হিংসা বলে ও আবার ওর কাজে চলে গেলো। এবার দেখি বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে আমার সাথে জুরি ছিলেন, ইতালির চলচ্চিত্র সমালোচক ও ‘কুরিয়ার দেল্লা সেরা’র শিল্পসংস্কৃতি পাতার সম্পাদক সারা দাসেঞ্জো ফোনে কথা বলতে বলতে ভেতরে ঢুকে গেলো। আমাকে খেয়াল করেনি। সাথে সাথে ফোন দিলাম। ফিরে এসে আমাকে দেখে তো অবাক। আমিও খুশি হলাম ওকে দেখে। বার্লিনে আমরা জুরি কলিগ হিসেবে সিনেমা নিয়ে অনেক আলাপ করেছিলাম। সারাও বসবে কাজ করতে। পরে তেরেজা ও তার সহকর্মীসহ আমরা তিনজন ঢুকলাম ‘সালা ক্যাসিনো’তে। দেখবো অগাস্ত বার্নার্ড কুয়েমো ইয়াংগু পরিচালিত ‘লা মেইজো দ্যু ভঁ’ (হাউজ অব দা উইন্ড)। পরিচালক মূলত ক্যামেরুনের, কিন্তু দুই দশক ধরে ফ্রান্সেই থাকেন। ফরাসি নাগরিক হয়েছেন। তার মা ক্যামেরুনেই থাকতেন। আর পরিচালকের সব ভাইবোন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়ে থিতু হয়েছেন। ছবিতেও তিনি এই গল্পটাই বলেছেন।

আশি বছরের এক বৃদ্ধা মা, যিনি ক্যামেরুনের এক ছোট্ট শহরে একা থাকেন। আর সার্বক্ষণিক ইন্টারনেটে যোগাযোগ রাখেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সন্তানদের সাথে। ছবিতে গল্প মোড় নেয় যখন বৃদ্ধার সাথে পরিচয় হয় এক সারা নামের এক তরুণীর। তরুণীটি তার বাসায় এসে ওঠে। তারপর তাদের ভেতর বন্ধুত্ব হয়। বুড়ো মা যেন আবার তার কোনো সন্তানকে ফিরে পেলো। তবে এই সম্পর্কে চিড় ধরে। সবশেষে দেয়াল ভাঙার ভেতর দিয়ে নতুন সম্ভাবনার কথা বলে ছবিটি। সারা মেয়েটি মাঝে রাগ করে ফ্রান্সে চলে যায়। অনেক বছর পর সে ফিরে আসে, ক্যামেরুনের সেই ছোট্ট শহরেই সে তার কাজটা চালিয়ে যেতে চায়। এটা এক ঘরে ফেরার গল্প, এক মায়ের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার গল্প। দেশ যেন মা, আর ছিটকে পড়া নাগরিকেরা তার সন্তান।

এই ভেনিসে শতশত মানুষ দেখি বাংলাদেশ থেকে এসেছে। প্রায় সকলেই এখানে শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের দেশমাতৃকা তাদের জীবন ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে পারেনি, তাই সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে এসে এখানে কষ্ট করে আয়রোজগার করছে। কে পরিবার পরিজন ছেড়ে বিদেশে কষ্টের জীবন কাটাতে চায়? দেশ আমাদের যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিতে না পারলেও, সফলভাবে বের করে দিচ্ছে দেশ থেকে। এ যেন  ক্যামেরুনের সেই মায়ের বিপরীত। আমাদের দেশ আমাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণই করে আসছে চিরকাল।

স্বল্প বাজেটের চমৎকার ছবিটি যখন শেষ হলো তখন ঘড়িতে সোয়া নয়টা। বাংলাদেশে তখন রাত সোয়া একটা। ঘুমে চোখ জ্বালা করছে। কিন্তু কিছু করার নেই। বাসে করে লিডোর লঞ্চঘাটে এসে ভেলায় চড়লাম। রোমাতে নেমেই একটা স্যান্ডুইচ কিনে বাসে উঠে গেলাম। শুকনো স্যান্ডুইচ চিবুতে চিবুতে ভাবলাম জীবন বড় বিচিত্র। চলচ্চিত্রের মতো। কেউ তার জীবন নিয়ে সুখী নয়। ‘বুরগুন্ডি’র সেই ছেলেমেয়েগুলো নয়, ‘হাউজ অব দা উইন্ডে’ থাকা ক্যামেরুনের ওই মা বা তার সন্তানেরাও নয়। মানবজীবনে দুঃখটাই আসলে স্থায়ী। সুখ এক ভ্রম মাত্র।