‘ছি ছি, গভর্নমেন্ট এইগুলা করবে!’ আরও যা যা বললেন শফিকুল আলম

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৫ এএম

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা এবং মব সন্ত্রাসের পেছনে সরকারের ‘একটা অংশ’ জড়িত আছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এছাড়া দেশে বিরাজমান ভয়ের সংস্কৃতি, নির্বাচনি অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি।

আলাপ-এর ‘কথা চলুক’ পডকাস্টে সরকারের ব্যাখ্যা ও অবস্থান তুলে ধরেন প্রেস সচিব।

গত ১৮ই ডিসেম্বর রাতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ব্যাপক হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশের রাজনীতিকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে।

একই রাতে হামলার শিকার হয় দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট, পরদিন হামলা হয় উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর কার্যালয়ে। হামলা চলে ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।  

গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক পরিসরে এমন সমন্বিত আক্রমণকে অনেকেই দেখছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর প্রচারের পরপরই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় কয়েক ঘণ্টা ধরে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাট চলে।

খুলনায় গুলি করে হত্যা করা হয় এক সাংবাদিককে। ময়মনসিংহে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ‘সরকার ব্যর্থ’ হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি সরকারের একটা অংশ ‘হামলায় জড়িত’ বলছেন অনেকে।

উদ্বেগ বাড়ছে দেশজুড়ে ‘মব তাণ্ডব’ নিয়। প্রশ্ন উঠছে, আইনের শাসন কি জিম্মি হয়ে পড়ছে? ‘মবের মুল্লুক’ থেকে রাষ্ট্র কবে মুক্তি পাবে?

সহিংসতার এই আবহে জাতীয় নির্বাচন নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদৌ ভোট আয়োজন সম্ভব কি না, সেই আলোচনা এখন প্রকাশ্যে হচ্ছে।

একইসঙ্গে ইতিহাসের অন্যতম শীতলতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, যা কূটনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দুশ্চিন্তা আরও বাড়াচ্ছে।

দেশের শীর্ষ দুটি গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা ঠেকাতে না পারার বিষয়ে নিজের ‘অসহায়ত্বের’ কথা আগেই স্বীকার করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এবার আলাপ-এর ‘কথা চলুক’ পডকাস্টে আহারার হোসেন এর মুখোমুখি হয়ে তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতা, রাষ্ট্রের সীমাবদ্ধতা, নির্বাচন ও আঞ্চলিক সম্পর্ক, সবকিছু নিয়েই কথা বলেছেন।