হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবল দুই জাহাজ, নাবিক নিহত

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

হরমুজ প্রণালির কাছে আলাদা দুই ঘটনায় একটি কনটেইনার জাহাজ ও একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর দিয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটি হলো সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’।

জাহাজ দুটির মধ্যে ‘জিএফএস প্রাইড’ থেকে ২১ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে  ‘কেপ দাও’ পণ্যবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। পরে এটি ডুবেও যায়। এ ঘটনায় কেউ আহত হননি। জাহাজটির ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

বারবুডার পতাকাবাহী কেপ দাও জাহাজটি ২৩এ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার জাহাজটি ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। আইএমও জানিয়েছে, আগের হামলায় একজন নাবিক নিহত হন। অন্য নাবিকদের তখনই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিলো।

রয়টার্স বলছে, এ বছরের ২৮এ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজডুবির ঘটনা ঘটল। গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালির আশপাশে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও বেড়েছে।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের হামলা অযৌক্তিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখনও ঝুঁকি আছে। এ হুমকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারে সীমাবদ্ধ নয়, কনটেইনার ও পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির মুখে পড়ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায়  পাঁচ ভাগের এক ভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এই পথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দর অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে হামলা জোরদার করার কথা জানিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে দেশটি।

এর আগে গত মার্চ মাসে মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘সাফিন প্রেস্টিজ’ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর হরমুজ প্রণালির উত্তর পাশে ডুবে যায়। এপ্রিলে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কনটেইনার জাহাজ ‘এমএসসি ফ্রান্সেস্কা’ জব্দ করে।