ভেঙে দেওয়া হলো বিসিবি, আপাত প্রধান তামিম

সংবাদ সম্মেলনটা হচ্ছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে, তবে এই হাওয়া মিরপুর পর্যন্ত গড়িয়েছে এটুকু নিশ্চিত। একদম সরাসরি মেট্রোর যোগাযোগ তো রয়েছেই, সাথে ছিল অনেক দিনের গুঞ্জন ও নাটকীয়তা।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ভবনের ভেতরে যেন জমে উঠেছিল অদৃশ্য এক চাপা উত্তেজনা। কয়েক সপ্তাহ ধরেই গুঞ্জন, বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন কি সত্যিই স্বচ্ছ ছিল? নাকি পর্দার আড়ালে চলেছে অন্য কোনও খেলা?

অবশেষে পর্দা উঠল, তবে তার জন্য অপেক্ষা করতে হলো আরও এক পালাবদলের। সেই ২০২৪ এর উত্তাল জুলাই অগাস্টের পর বাংলাদেশের ক্রিকেট আর স্থির নেই, দুইজন সভাপতি বিভিন্ন মেয়াদের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের নিয়ে ছিল নানা কানাঘুষা, অভ্যন্তরীণ গল্প। 

এরই মাঝে বাংলাদেশের একটা গোটা বিশ্বকাপ খেলাও বাদ হয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আবহ ছিল আলাদা, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এর পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল এহসান যখন ২৭ মিনিটের লিখিত বক্তব্য পড়ছিলেন, তখন প্রতিটি শব্দ যেন একের পর এক দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে যাচ্ছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডকে।

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, এমন একটি দলিল উঠে এসেছে যেখানে আছে অনিয়ম, কারসাজি আর প্রভাব বিস্তারের এক বিস্তৃত চিত্র।

১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ক্ষমতা নেওয়ার পরে, এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক-এর অনুমোদনে। নেতৃত্বে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। তাদের অনুসন্ধান যেন একের পর এক অস্বস্তিকর সত্য উন্মোচন করেছে।

রিপোর্টে উঠে এসেছে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিম মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া-এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হস্তক্ষেপের নানা দৃষ্টান্ত। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিসিবির সভাপতি হওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুল-এর বিরুদ্ধেও দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর যা ঘটল, তা ছিল অনেকটাই এক চেনা নাটকের ক্লাইম্যাক্স। সেই বহুল অনুমেয় নামই এলো সবার সামনে, যাতে ২০২৪ সালের ৩রা অগাস্ট দেখা গিয়েছিল গণভবনে, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টের পরে আসিফ মাহমুদের সঙ্গে, ২০২৫-২৬ সাল জুড়ে বিএনপির সকল ইভেন্টেই ছিল তার পদচারণা- তামিম ইকবাল। 

এনএসসি নীতিমালা ২০১৮-এর ২১ ধারা অনুযায়ী ভেঙে দেওয়া হলো পুরো পরিচালনা পর্ষদ। যেন এক ঝটকায় বদলে গেল ক্রিকেট প্রশাসনের দৃশ্যপট। সঙ্গে সঙ্গে ঘোষণা করা হলো ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি, একটি অন্তর্বর্তী দল, যাদের কাঁধে এখন পুরো ব্যবস্থার ভার।

এই নতুন অধ্যায়ের নেতৃত্বে আনা তামিম ইকবাল-কে। তার সঙ্গে রয়েছেন ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, আতহার আলি খান, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং রাশনা ইমাম।

তাদের সামনে সময় খুব কম, মাত্র তিন মাস। এই সময়ের মধ্যেই আয়োজন করতে হবে নতুন নির্বাচন। পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে দেশের ক্রিকেটের প্রতিটি কার্যক্রম যেন এক মুহূর্তের জন্যও থেমে না যায়।

এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল-কে। এখন সবার চোখ একটাই দিকে, এই নতুন কমিটি কি পারবে আস্থা ফিরিয়ে আনতে? নাকি বাংলাদেশের ক্রিকেটে আরও বড় কোনো অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে?