জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও ৩-১ গোলের সহজ জয়ই পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আগের দুটি ম্যাচেও তারা একরকম দাপট দেখিয়েই জিতেছে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু গ্রুপপর্ব শেষে কোচ লিওনেল স্কালোনি সাংবাদিকদের বলেছেন, শেষ ৩২ এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচটা সহজ হবে না তাদের জন্য।
আর্জেন্টিনা কোচ কী শুধু কথার কথা হিসেবেই কথাটা বলেছেন, নাকি সত্যিই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে মাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশ কেপ ভার্দে? এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম চমক হয়ে ওঠা দলটি গ্রুপ পর্বের কোনো ম্যাচেই জয় পায়নি, তবে সবগুলো ম্যাচ ড্র করে তারা উঠে এসেছে নকআউটে।
স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই ড্র করে তারা। এর মধ্যে সৌদি বাদে বাকি দুটি ম্যাচেই লো ব্লক ডিফেন্স করে সফল হয়। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তাদের তেমন ফুটবলই খেলার কথা। এমন ‘লো ব্লক’ ডিফেন্স ভাঙতে এই ৫টি কাজ করতে পারে আর্জেন্টিনা…
পজিশন ধরে রাখার সঙ্গে খেলার গতিটাও বাড়াতে হবে
‘লো ব্লক’ রক্ষণকে ভেঙে ফেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিজেদের মধ্যে দ্রুত বল দেওয়া–নেওয়া করা। পাসিংয়ের ক্ষেত্রে গতি না থাকলে ডিফেন্ডাররা সহজে নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে পারেন, পজিশন পরিবর্তন করার সুযোগও পান তারা। এই সুযোগটি তাদের দেওয়া যাবে না। কিন্তু দ্রুতগতির এক বা দুই–টাচের পাস ডিফেন্ডারদের অপ্রস্তুত করে দিতে পারে। কেপ ভার্দেকে তাই গুছিয়ে নেওয়ার আগেই দ্রুত আক্রমণে উঠে আসতে হবে আর্জেন্টিনাকে।
প্রতিপক্ষের অর্ধে ফাঁকা জায়গা খুঁজে বেড়ানো
মাঝমাঠ দিয়ে বারবার আক্রমণের সঙ্গে ফাঁকা জায়গায়ও খুঁজতে হবে আর্জেন্টিনাকে। কেবল ক্রসের ওপর নির্ভর না করে, আর্জেন্টিনাকে ‘হাফ-স্পেস’গুলোকে (প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাক এবং ফুল–ব্যাকদের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা) লক্ষ্য করতে হবে। লিওনেল মেসি যখন এই ফাঁকা জায়গায় বল পান, তখন তিনি ভীষণ বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। তাঁর গোল পাওয়াটাও সহজ হয়ে যায় তখন।
ওভারলোড তৈরি করা
জমাট রক্ষণ ভাঙার অন্যতম সেরা উপায় হলো মাঠের একপাশে বেশি খেলোয়াড় জড়ো করে ‘ওভারলোড’ তৈরি করে দ্রুত বলটি বিপরীত প্রান্তে পাঠিয়ে দেওয়া। মেসি, রদ্রিগো ডি পল ও নাহুয়েল মলিনা যদি ডানপ্রান্তে একসঙ্গে আক্রমণে ওঠেন, তবে কেপ ভার্দেরই রক্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বলের দিকে সরে আসবে। ঠিক তখনই একটি দ্রুত ডায়াগনাল পাস বামপ্রান্তের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করতে পারে, যেখানে আর্জেন্টিনার ফুল-ব্যাক বা উইঙ্গার অনেক বেশি সময় ও জায়গা নিয়ে আক্রমণে যেতে পারেন।
‘থার্ড-ম্যান’ কম্বিনেশনের ব্যবহার
খেলোয়াড়ে ঠাসা জায়গায় সরাসরি পাস দেওয়ার পরিবর্তে আর্জেন্টিনার ‘থার্ড-ম্যান’ কম্বিনেশন তৈরি করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মেসি একজন মিডফিল্ডারের কাছে পাস দিতে পারেন, যিনি সঙ্গে সঙ্গে বল রক্ষণভাগের পেছনের দিকে ছুটে যাওয়া আলভারেজ বা অন্য কোনো রানারের উদ্দেশ্যে বাড়িয়ে দেবেন। এই ধরনের দ্রুতগতির পাসিং সিকোয়েন্স ট্র্যাক করা ডিফেন্ডারদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। এতে সহজেই গোলের সুযোগও তৈরি হয়।
অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট
‘লো ব্লক’ ভাঙতে হলে বল ছাড়া খেলোয়াড়দের অনবরত মুভমেন্টের প্রয়োজন হয়। বলের জন্য দাঁড়িয়ে না থেকে, আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ডায়াগনাল রান, আন্ডারল্যাপিং রান ও ডিফেন্ডারদের চোখের আড়ালে মুভমেন্ট করতে হবে; যেন ডিফেন্ডাররা নিজেদের পজিশন ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়। আলভারেজ এই ধরনের মুভমেন্টে অত্যন্ত পারদর্শী, তবে এর কার্যকারিতা বাড়াতে তাঁর সতীর্থদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
তবে এসব ট্যাকটিক্যাল কাড়িকুড়ির বাইরেও এ ধরনের ম্যাচে ‘ম্যাজিক মোমেন্ট’ তৈরি করতে হয়। ফুটবলারদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচটা মুহূর্তেই বেরিয়ে আসতে পারে। আর্জেন্টিনার হয়ে তা করার জন্য ‘দ্য লিটল ম্যাজিক ম্যান’ মেসি তো আছেনই — ‘ম্যাজিক মোমেন্টের’ জন্য নিশ্চিতভাবেই তার দিকে তাকিয়ে থাকবে আলবিসেলেস্তেরা।