স্পেনের বিশ্বকাপ দলে এবার সবচেয়ে বড় চমক রেয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়ের জায়গা না পাওয়া। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত স্পেনের দলে নেই রেয়াল মাদ্রিদের কোনো প্রতিনিধি।
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বৃহস্পতিবার ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেন। সেই দলে চোটে থাকা সত্ত্বেও জায়গা পেয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। তবে রেয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার ডিন হাউইসেন এবং অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালকে রাখা হয়নি।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল গত ২২ এপ্রিল বার্সেলোনার হয়ে খেলতে গিয়ে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান। ওই চোটের কারণে মৌসুমের শেষ এক মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও তাকে বিশ্বকাপ দলে রেখেছেন দে লা ফুয়েন্তে। একইভাবে হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগলেও দলে জায়গা পেয়েছেন অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস।
রেয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়কে দলে না রাখার বিষয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্পেন কোচ বলেছেন, খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো ক্লাবকে আলাদা গুরুত্ব দেন না।
দে লা ফুয়েন্তের ভাষায়, “আমি কোনো একটি ক্লাবকে আলাদাভাবে দেখি না। সমর্থকদের মতো আমার কোনো আঞ্চলিক পক্ষপাত নেই। আমি বিষয়টিকে সামগ্রিকভাবে দেখি। আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়রা যেন জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্ব অনুভব করে।”
রেয়ালের খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতির পেছনে ক্লাবটির হতাশাজনক মৌসুমও একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুরো মৌসুমে কোনো শিরোপা জিততে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা। লা লিগায় তারা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার চেয়ে আট পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে মৌসুম শেষ করেছে।
বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোও। গত রোববার প্রিমিয়ার লিগের শেষ ম্যাচে মাঠে ফেরেন তিনি। পায়ের হাড়ে চিড় ধরার কারণে প্রায় চার মাস মাঠের বাইরে ছিলেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার।
স্পেনের বিশ্বকাপ দলে মোট সাতজন প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলার রয়েছেন। তাদের মধ্যে আর্সেনালের ডেভিড রায়া, মিকেল মেরিনো ও মার্তিন সুবিমেন্দি, টটেনহ্যামের পেদ্রো পরো, চেলসির মার্ক কুকুরেয়া, ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রি এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের ইয়েরেমি পিনো উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া বার্সেলোনার ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া এবং অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের ডিফেন্ডার মার্ক পুবিলও দলে জায়গা পেয়েছেন। চলতি মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে তাদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে স্পেন শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি নেই। চোটে থাকা কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়েও আশাবাদী কোচ।
দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “আমরা খুবই নিশ্চিন্ত। নতুন কোনো সমস্যা না হলে প্রথম ম্যাচ থেকেই সবাইকে পাওয়া যাবে।”
স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৫ জুন। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া কেপ ভার্দের। এরপর ২১ জুন সৌদি আরব এবং ২৬ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে তারা। এই তিন দলকে নিয়েই গঠিত হয়েছে গ্রুপ এইচ।
তবে বিশ্বকাপের আগে একটি দুঃসংবাদও পেয়েছে স্পেন। বার্সেলোনার মিডফিল্ডার ফারমিন লোপেজ পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। গত সপ্তাহেই তার বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আগামী ১১ জুন শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আর সেই আসরে শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে স্পেনের দল নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে রেয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড়ের না থাকা।