সময়টা ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের দিকে উড়ে গেলো স্যাটার্ন ফাইভ রকেট। ভেতরে তখন নীল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স।
চার দিন পর ঈগল ল্যান্ডারে করে যখন চাঁদে নামলেন আর্মস্ট্রং এবং অলড্রিন, তখন ধুলোমাটির পৃথিবীর মানুষের ইতিহাসের পাতায় যোগ হলো এক মহান অধ্যায়।
মহাজাগতিক কৌতূহলের প্রথম পাঠ শুরু হয়েছিল যে চাঁদকে দেখে, সেই চাঁদের ধূসর ধুলোয় পা রেখে নীল আর্মস্ট্রং বললেন,“এটি একজন মানুষের জন্য ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রযাত্রা।”
মহাকাশ অভিযান: মানবজাতির সামর্থ্যের দলিল
মানুষের চন্দ্র বিজয় কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নতি ছিল না। এটি ছিলো বৃহত্তর মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। চন্দ্র বিজয় মানুষ একটি গ্রহে বন্দী জীব থেকে পরিণত করেছে মহাবিশ্বের এক মহা অভিযাত্রীতে।
মহাকাশ জয়ের এই গৌরব কোনো নির্দিষ্ট দেশের নয়। এটি সকল দেশের, সকল মানুষের। এটি শেখায় যে, একতাবদ্ধ হলে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। মহাকাশে যাওয়ার মাধ্যমে মানুষ মূলত নিজেদের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে নিজেদের অবস্থান নতুন করে বুঝতে শিখেছে।
চাঁদে যাওয়ার দ্বৈরথ
মানুষের চাঁদে যাওয়ার ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে দুই পরাশক্তির রাজনৈতিক দ্বৈরথের ইতিহাস। প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ 'স্পুটনিক' উৎক্ষেপণ করে ১৯৫৭ সালে বিশ্বকে চমকে দেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন। এর চার বছর পর প্রথম মানুষ হিসেবে ইউরি গ্যাগারিন মহাকাশ ভ্রমণ করলে এই ‘যুদ্ধে’ পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ঘোষণা করেন, দশক শেষ হওয়ার আগেই মানুষ চাঁদে যাবে।
ভূরাজনৈতিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মহাকাশ প্রযুক্তির বিকাশে নিয়ে আসে অভাবনীয় গতি। চাঁদে যাওয়ার লড়াই ছিল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধে কে প্রযুক্তিতে শ্রেষ্ঠ, তা প্রমাণের এক বিজ্ঞানসম্মত যুদ্ধ।
চাঁদ থেকে পৃথিবী ও পৃথিবীর রাজনীতি
চাঁদ থেকে ফিরে আসার পর অ্যাপোলো ১১ এর অভিযাত্রীদের মনোজগতে দেখা দেয় এক আমূল পরিবর্তন।
মহাকাশের অতল অন্ধকার আর চাঁদের নিস্প্রাণ ধূসরতার দাঁড়িয়ে, দিগন্তে ভাসতে থাকা নীল পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে, মানুষের তৈরি কৃত্রিম সীমানা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং জাতিভেদকে এক নিমেষে অর্থহীন মনে হয় তাদের কাছে। মনোবিশেষজ্ঞরা যার নাম দেন 'ওভারভিউ ইফেক্ট'।
চাঁদ থেকে ফিরে আসার পর জীবনের ব্যক্তিগত সাফল্য বা জাগতিক প্রাপ্তিগুলো গৌণ হয়ে পড়ে অভিযাত্রীদের কাছে। সবরকম প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সরিয়েঈ এক নিভৃতচারী জীবন বেছে নেন নীল আর্মস্ট্রং। মানবতার ঐক্য এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের প্রসারে নিজেকে উৎসর্গ করেন বাজ অলড্রিনও।
মহাবিশ্বের বিশালতার তুলনায় পৃথিবীর ক্ষুদ্রতা দেখে এক অখণ্ড মানবিক ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বাকি জীবন পার করেছেন চাঁদের ধুলো স্পর্শ করে আসা এই মানুষগুলো।
একই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গিয়েছিলো অ্যাপোলো ১৪ এর নভোচারী এডগার মিচেলের মধ্যেও। অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে বলেছিলেন, চাঁদ থেকে তাকালে আন্তর্জাতিক রাজনীতিকে ক্ষুদ্র, তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয়, কোন এক রাজনীতিবিদের ঘাড় ধরে আড়াই লক্ষ মাইল দূরে নিয়ে এসে পৃথিবীকে দেখিয়ে বলি, ‘দেখ ওই দৃশ্যটার দিকে, ইউ সান অফ আ বিচ।’
সৌরজগতের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সাগানের অনুরোধে শেষবার পৃথিবীর দিকে লেন্স ঘোরায় ভয়েজার-১। তোলে পৃথিবীর সবচেয়ে দূরবর্তী ছবি। পৃথিবী থেকে ৬০০ কোটি কিলোমিটার দূর থেকে তোলা অতি ক্ষুদ্র, ঝাপসা নীল বিন্দুর মত পৃথিবির সেই ছবি পরিচিতি পায় ‘পেল ব্লু ডট’ নামে।
ধূলিকণার মত ক্ষুদ্র সেই পৃথিবীর ছবি দেখিয়ে কার্ল সাগান বলেছিলেন, এই বিন্দুর দিকে তাকাও। ওটাই আমাদের ঘর। ওখানে আপনি যাকে ভালোবাসেন, যাকে চেনেন, প্রতিটি মানুষ যারা কখনো এই পৃথিবীতে জন্মেছে, তারা সেখানেই তাদের জীবন কাটিয়েছে।
আমাদের সমস্ত আনন্দ আর যাতনার সমষ্টি, হাজারো আত্মবিশ্বাসী ধর্ম, মতাদর্শ আর অর্থনৈতিক তত্ত্ব, প্রতিটি শিকারি আর শিকার, প্রতিটি বীর আর কাপুরুষ, সভ্যতার প্রতিটি স্রষ্টা আর ধ্বংসকারী, প্রতিটি রাজা আর প্রজা, প্রতিটি প্রেমিক যুগল, প্রতিটি মা আর বাবা, আশাবাদী শিশু, উদ্ভাবক আর পরিব্রাজক, প্রতিটি নৈতিকতার শিক্ষক, প্রতিটি দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, প্রতিটি 'সুপারস্টার', প্রতিটি 'পরম নেতা', আমাদের প্রজাতির ইতিহাসের প্রতিটি সাধু আর পাপি- সবাই বাস করেছে ওখানে। সূর্যের আলোয় ভেসে থাকা এক কণা ধূলির ওপর।
জিনি সার্ননের ‘শেষ বিদায়’
অ্যাপোলো ১৭ অভিযানের মাধ্যমে ১৯৭২ সালে শেষবারের মতো চাঁদে পা রাখে মানুষ। শেষ অভিযাত্রী জিনি সার্নন চাঁদ ছাড়ার সময় বলেছিলেন, ‘আমরা যেভাবে এসেছিলাম, সেভাবেই ফিরে যাচ্ছি এবং ঈশ্বরের ইচ্ছায় আমরা আবারও ফিরে আসবো, সারা মানবজাতির জন্য শান্তি ও আশা নিয়ে’।
কিন্তু তারপর কেটে গেছে অর্ধশতাব্দী। মানুষ মঙ্গলে রোভার পাঠিয়েছে, বৃহস্পতি, শনির বলয় পর্যবেক্ষণ করেছে, কিন্তু চাঁদে আর ফিরে যায়নি। চাঁদে না যাওয়ার প্রধান কারণ ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং আকাশচুম্বী খরচ। স্নায়ুযুদ্ধ শেষ হলে কমে যায় চাঁদে যাওয়ার তাড়না। নাসা তখন বেশি মনোযোগ দেয় স্পেস শাটল এবং ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের দিকে।
আর্টেমিস ২: ঘরে ফেরার পালা
পাঁচ দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও এক মহাজাগতিক রোমাঞ্চের মুখোমুখি মানবজাতি। কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে চাঁদের দিকে ছুটে যায় আর্টেমিস ২। এবার যাত্রী চারজন। রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোক এবং জেরেমি হ্যানসেন। আর্টেমিস ২ চাঁদে না নামলেও এই অভিযানের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী।
এবার কেবল চাঁদে গিয়ে ফিরে আসতে চায় না নাসা। বরং চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি এবং কক্ষপথে 'লুনার গেটওয়ে' নামক মহাকাশ স্টেশন তৈরি করতে তারা শুরু করেছে আর্টেমিস প্রোগ্রাম। আর্টেমিস ২ সেই অবকাঠামো তৈরিরই প্রথম ধাপ।
এই প্রোগ্রামের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চাঁদকে 'বেস ক্যাম্প' হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে নাসা। চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষ কতদিন টিকে থাকতে পারে, তা জানাও এই মিশনের উদ্দেশ্য।
আর্টেমিস ২ এর দেখানো পথে পরিচালিত হবে আর্টেমিস ৩ মিশন। সেবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামবে মানুষ। সেই চূড়ান্ত অভিযানের আগে মানুষের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও ছিল আর্টেমিস মিশনের কাজ।
নিজের কাজ যথাযথভাবেই সমাধা করেছে আর্টেমিস। চারজন নভোচারীকে নিয়ে নিরাপদে মহাশূন্যে পাড়ি দেওয়ার পরীক্ষা ভালভাবেই উতরে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেটে চাঁদের দিকে যাওয়া ওরায়ন মহাকাশযান।
ভ্রমণ করেছে পৃথিবী থেকে কখনো দেখা না যাওয়া চাঁদের দূরবর্তী অংশে। নভোচারীদের অক্সিজেন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে ওরায়ন। গভীর মহাকাশে থাকার সময়েও পৃথিবীর সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষায় পাশ করেছে যানটি।
কাজ শেষে চাঁদের মায়া কাটিয়ে তীব্র বেগে ধেয়ে আসে আদি নিবাস, এই নীল গ্রহের দিকে। আর তখনই ওরায়নকে দিতে হয় তার অন্তিম পরীক্ষা।
সেকেন্ডে ১১ কিলোমিটার বেগে যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ওরায়ন, বাতাসের সাথে ঘর্ষণের কারণে ক্যাপসুলের বাইরে তাপমাত্রা পৌঁছায় কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বন্ধ হয়ে যায় পৃথিবীর সাথে সমস্ত রেডিও যোগাযোগ।
কয়েক মিনিটের রুদ্ধশ্বাস অনিশ্চয়তার পর যখন আকাশে দেখা গেলো ওরিয়নের বিশালাকার প্যারাসুট, তখনই লেখা হলো মানুষের অদম্য জেদ আর শ্রেষ্ঠত্বের এক নতুন ইতিহাস। এই অভিযান প্রমাণ করলো, ৫৪ বছরের সেই বিরতি ছিল মহাকাশযাত্রায় এক বড় পদক্ষেপের প্রস্তুতি।
চাঁদ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং বিজ্ঞানের জয়
বিজ্ঞানের বিস্ময়কর সব সাফল্যের এই যুগেও মানুষের চাঁদ জয় নিয়ে সংশয়ের মেঘ কাটেনি অনেকের মন থেকে। একদল মানুষ আজও দাবি করেন, চাঁদের মাটিতে নামার সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যগুলো হলিউডে ধারণ করা।
তবে তাদের সেইসব সংশয় বা যুক্তির বিপরীতে আছে অকাট্য এবং রোমাঞ্চকর সব বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
সংশয়বাদীদের সবচেয়ে বড় তর্কের বিষয় হলো, বাতাসহীন চাঁদে পতাকা উড়ার দৃশ্য।
তবে এর উত্তর লুকিয়ে আছে পদার্থবিজ্ঞানের এক সহজ পাঠে। চাঁদের সেই পতাকাটিকে মেলে ধরার জন্য ওপরের অংশে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি অনুভূমিক রড। নভোচারীরা যখন পতাকাটি চাঁদের মাটিতে পুঁতছিলেন, তাঁদের হাতের মোচড় আর ঘর্ষণের কারণে যান্ত্রিক কম্পন তৈরি হয় পতাকার কাপড়ে।পৃথিবীতে বাতাসের বাধার কারণে এই কম্পন দ্রুত থেমে গেলেও বায়ুশূন্য চাঁদে সেই কম্পনকে থামানোর কিছু ছিলো না। ফলে অনেকক্ষণ ধরে দুলতে দেখা যায় পতাকাটিকে।
চাঁদের আকাশে তারাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। একটি আদিগন্ত কালো আকাশ, অথচ সেখানে নেই কোনো উজ্জ্বল নক্ষত্র। এই দৃশ্যটি স্টুডিও শ্যুটিংয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেন কেউ কেউ।
যদিও এই ছবির আসল রহস্য লুকিয়ে ছিল ক্যামেরার কারিগরিতে। সূর্যের আলোয় চাঁদের পৃষ্ঠ ছিলো অত্যন্ত উজ্জ্বল। সেই উজ্জ্বল মাটিতে নভোচারীদের স্পষ্ট ছবি তোলার জন্য ক্যামেরার 'এক্সপোজার টাইম' কমিয়ে রাখতে হয়েছিল। আর ঠিক এই কারণেই নক্ষত্রদের ক্ষীণ আলো সেই ছবিতে ধরা পড়েনি।
ষড়যন্ত্র তত্বে বিশ্বাসীদের আরেকটি বড় যুক্তির জায়গা হলো 'ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্ট'। বলা হয়, পৃথিবীকে ঘিরে থাকা এই ভয়াবহ বিকিরণ বলয় পার হয়ে মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব।
বিজ্ঞানীরা অত্যন্ত যৌক্তিক সমাধান দিয়েছেন এই সমস্যারও। অ্যাপোলো মহাকাশযানটি 'ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্ট' অতিক্রম করেছিল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। পুরো বলয়টি পার হতে সময় লেগেছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এছাড়াও মহাকাশযানের বিশেষ ধাতব দেয়াল এবং নভোচারীদের বিশেষ ধরণের পোশাক এই অল্প সময়ের বিকিরণ ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট মোটা ও কার্যকর ছিল।
চাঁদ নিয়ে বিতর্কের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দিয়েছে নাসার 'লুনার রিকনেসান্স অরবিটার' নামক মহাকাশযানটি। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাঁদের পৃষ্ঠের অত্যন্ত উচ্চ রেজোল্যুশনের ছবি পাঠিয়েছে। আর সেই ছবিগুলোতে আজও পরিষ্কার দেখা যায় অ্যাপোলো অভিযানের ল্যান্ডারগুলো এবং দশকের পর দশক ধরে অক্ষত থাকা নভোচারীদের সেই ঐতিহাসিক পদচিহ্ন। মহাকাশে বায়ুমণ্ডল না থাকায় সেই পদচিহ্নগুলো আজও চাঁদ নামক রূপালি গোলক জয়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে।
মানুষের মহাকাশ জয় কেবল একটি বৈজ্ঞানিক প্রকল্প নয়, এটি মানবজাতির সামগ্রিক সক্ষমতার এক মহাকাব্যিক প্রমাণ। মানুষ ধুলোর পৃথিবীতে জন্মেছে, কিন্তু তার চোখ নক্ষত্রের দিকে। আজ থেকে কয়েকশ কিংবা কয়েক হাজার বছর পর মানুষ হয়তো অন্য কোনো গ্রহে বসতি গড়বে, সেদিনও চাঁদ জয়ের ঘটনাকে মনে রাখা হবে মানব সভ্যতার নবজাগরণের সূচনা হিসেবে। অসীম অন্ধকার মহাকাশে পৃথিবী নামের এই ছোট গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে ছড়িয়ে পড়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে।