মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য কি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সাধন করা, নাকি শিল্প-সাহিত্য ও সংগীত চর্চা করা? এর উত্তর পাওয়া যেতে পারে আদিমকালের মানুষের মাঝে। মানুষ চাকা আবিষ্কার করেছিলো ৪-৬ হাজার বছর আগে। এই আবিষ্কার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনে যুগান্তকারী পরিবর্তন। কিন্তু স্পেনের গুহার দেয়ালে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন ৬৫ হাজার বছর পুরনো পেইন্টিং। জার্মানির গ্লাইসেনক্লোস্টারলা অঞ্চলের গুহায় বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন ৪০ হাজার বছর পুরনো বাঁশি, যা তৈরি করা হয়েছিলো পশুর হাড় দিয়ে। অর্থাৎ, সহজে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কীভাবে যাবে, তা নিয়ে মাথাব্যথা হওয়ার অনেক আগেই মানুষ ছবি আঁকা ও সংগীত সৃষ্টির উপায় খুঁজে বের করতে ব্যস্ত ছিলো।
পাখিদের সহজাত চরিত্র যেমন ওড়া, মৌমাছির সহজাত চরিত্র যেমন মধু সংগ্রহ করা, তেমনি মানুষের সহজাত চরিত্র কি গান গাওয়া, কবিতা লেখা ও ছবি আঁকা? এআই জেনারেটেড কনেটেন্টের যুগে আজকাল প্রায়ই এই প্রশ্ন শোনা যায়, মানুষ যদি তার সহজাত বৈশিষ্ট্য প্রযুক্তির হাতে তুলে দেয়, তাহলে কি শিল্পের আর কোনো মূল্য থাকবে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানুষের এই সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে, নাকি হ্রাস করে দেয়? গবেষকরা বলছেন, দু’টিই সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে লেখা আছে, “সৃজনশীলতা মানুষের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন এলএলএম মানুষকে নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে তার সৃজনশীলতা বাড়াতে পারে, আবার এআই-এর তৈরি আইডিয়ার ওপর নির্ভরশীল করে তার সৃজনশীলতা হ্রাস করতে পারে।”
তবে অনেকেই বলেন, কষ্ট ও সাধনার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করার পর একজন শিল্পীর তৈরি করা শিল্পের বিপরীতে কিবোর্ডের কয়েকটি বোতাম চেপে প্রম্পট লিখে তৈরি করা উপাত্তকে শিল্প হিসেবে ধরা যেতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জার্নাল মিডিয়াম-এর এক বিশ্লেষণে লেখা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত গতিতে ছবি ও অন্যান্য উপাত্ত তৈরির সক্ষমতার কারণে মানুষের তৈরি শিল্পের মূল্য কমে যেতে পারে। এই প্রতিবেদনের শেষে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মানুষ যদি শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টির জন্য প্রযুক্তি ও কম্পিউটার প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে এক সময় যেই শিল্প মানুষ নিজের হাত ও চোখ দিয়ে তৈরি করতো, তার সাথে কি আর আমাদের কোনো যোগসূত্র থাকবে?
এখানে আসে আরেক প্রশ্ন। শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে প্রতিস্থাপন করবে কিনা তা নিয়ে ভাবার আগে ভাবতে হয় - এআই আদৌ মানুষের মতো কন্টেন্ট জেনারেশনে পারদর্শী হচ্ছে কীভাবে? এআইকে প্রশিক্ষণ দিতে কোম্পানিগুলো যে ডেটা সংগ্রহ করে, তা কি বৈধ ও নৈতিক উপায়ে করা হয়? এ নিয়েও আছে বিতর্ক।
এআই-কে প্রশিক্ষণ দিতে কি মেধাস্বত্ব চুরি করা হচ্ছে?
গত বছর মার্চ-এপ্রিলের দিকে ফেইসবুকে ঢুকে থাকলে কারো না কারো প্রোফাইল পিকচারে নিশ্চয়ই ‘ঘিব্লি’ স্টাইলের ছবি দেখেছেন। এআই দিয়ে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টুডিও ঘিব্লির আঁকার তরিকায় নিজেদের জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত কার্টুনে রূপান্তরিত করে প্রোফাইল পিকচার বা কভার ফটোতে রাখার চল ছড়িয়ে গিয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। ওপেন এআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানও নিজের প্রোফাইল পিকচার বদলে একটি ঘিব্লি-স্টাইলের ছবি বসান।
এই চল শুরু হয়েছিলো চ্যাটজিপিটির মূল কোম্পানি ‘ওপেন এআই’ এর ‘ফোর-ও ইমেজ জেনারেশন’ ফিচার বের হওয়ার পর। এই ফিচার অনুযায়ী, কেউ কোনো ছবি চ্যাটজিপিটির কাছে আপলোড করলে চ্যাটবটটি সেই ছবিকে যেকোনো আর্ট স্টাইলে রূপান্তর করে দিতে পারে। এটি ব্যবহার করেই অনেকে স্টুডিও ঘিব্লির স্টাইলে নিজের কোনো বিশেষ ছবি বা বন্ধুবান্ধব ও আপনজনদের সাথে বিভিন্ন বিশেষ মূহুর্তকে ঘিব্লি মুভির দৃশ্য বানিয়ে তা সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করছিলেন।
নির্দিষ্ট এক ধরনের শিল্পের প্রতি সাবলীল ভক্তি কিংবা ট্রেন্ড অনুসরণ করার সরল ইচ্ছা থেকে বেশিরভাগ মানুষ এধরনের ছবি জেনারেট করে থাকলেও এ নিয়ে বিতর্কের জন্ম হয়। এই ট্রেন্ডের জের ধরে স্টুডিও ঘিব্লির প্রতিষ্ঠাতা বিখ্যাত জাপানি শিল্পী হায়াও মিয়াজাকির এক পুরনো ভিডিও আবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট হতে দেখা যায়।
‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে,’ ‘গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস’ ও ‘মাই নেইবর তোতোরো’র মতো পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের নির্মাতা মিয়াজাকিকে ভিডিওতে বলতে শোনা যাচ্ছিলো - “আমি কখনোই আমার কাজে এই ধরনের প্রযুক্তি যোগ করতে চাইবো না। আমি তীব্রভাবে বোধ করি যে এটি জীবনের প্রতি একটি অপমান।”
তবে বিতর্কটি শুধু এআই-এর বিরুদ্ধে হায়াও মিয়াজাকির মনোভবেই থেমে থাকেনি, এসেছে আরও গভীর একটি উদ্বেগ - স্টুডিও ঘিব্লির যদি এআই দ্বারা শিল্পকর্ম তৈরিতে আপত্তি থাকে, তাহলে তাদের সেই আঁকার তরিকায় চ্যাটজিপিটি আদৌ কীভাবে প্রশিক্ষিত হলো? এর উত্তর দিতে চেয়েছিলেন ওপেন এআইয়ের এক সাবেক কর্মী।
২০২৪ সালের ২৩এ অক্টোবর নিউ ইয়র্ক টাইমসে সুচির বালাজি নামের এক ব্যক্তির সাক্ষাৎকার ছাপা হয়। সুচির বালাজি চার বছর ধরে ওপেন এআইয়ে গবেষক হিসেবে কাজ করছিলেন। এসময়ে তিনি চ্যাটজিপিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় ডেটাও জোগাড় করতেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে বলছে, তখন বালাজি এই কাজের আইনি প্যাঁচগুলো বুঝতেন না। তবে ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি লঞ্চ হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে তার মনে হতে থাকে যে ওপেন এআই-এর ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে।
সেই বছর অগাস্টে তিনি ওপেন এআই-এর চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তিনি এমন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে অবদান রাখতে চান না, যা তার মতে “সমাজের জন্য লাভের চেয়ে বেশি ক্ষতি নিয়ে আসবে।”
“আমি যা বিশ্বাস করি তা যদি আপনিও বিশ্বাস করেন, তাহলে চাকরি ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই,” নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন বালাজি। একই সময় লন্ডনের এআই কোম্পানি “স্টেবিলিটি এআই” এর ভাইস প্রেসিডেন্টও তার কোম্পানির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে চাকরি ছেড়ে দেন।
ওপেন এআইয়ের বিরুদ্ধে বালাজি খোলাখুলিভাবে এসব অভিযোগ আনার আরও আগে থেকেই এআই-কে প্রশিক্ষণ দিতে মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগ এনে একাধিক মামলা করা হয়েছিলো ওপেন এআইসহ বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব মামলার সংবাদ প্রকাশ হয়।
২০২২ সালে এআই-কে প্রশিক্ষণ দিতে সম্মতি ছাড়াই ইন্টারনেট থেকে নেওয়া কম্পিউটার কোড ব্যবহারের অভিযোগ এনে ওপেন এআই, মাইক্রোসফট ও গিটহাবের বিরুদ্ধে মামলা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রোগ্রামার ম্যাথিউ বাটারিক।
২০২৩ সালে তিনজন শিল্পী - সারা অ্যান্ডারসেন, কেলি ম্যাকার্নান এবং কার্লা ওরিটজ সম্মতি ছাড়াই এআই-এর প্রশিক্ষণের জন্য শিল্পীদের কাজ ব্যবহার করার অভিযোগ এনে স্ট্যাবিলিটি এআই, মিডজার্নি ও ডেভিয়ান আর্টের বিরুদ্ধে মামলা করেন। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘অথোর্স গিল্ড’ লেখকদের সম্মতি ছাড়াই তাদের বই ব্যবহার করে এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ এনে ওপেন এআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করে।
২০২৪ সালে সনি, ইউনিভার্সাল ও ওয়ার্নার ব্রাদার্সের মতো কোম্পানিদের সাথে মিলে বিভিন্ন রেকর্ড লেবেল কোম্পানি সম্মতি ছাড়া কপিরাইট করা গান দিয়ে এআই-কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ এনে ‘উডিও’ এবং ‘সুনো’ নামের দু’টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে। একই বছর সম্মতি ছাড়া সংবাদ প্রতিবেদন ব্যবহার করে এআই -কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ওপেন এআই ও মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা করে যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি সংবাদপত্র।
একজন হুইসেলব্লোয়ারের মৃত্যু
এমন একটি মামলা করেছিলো নিউ ইয়র্ক টাইমসও। ২০২৪ সালের ১৮ই নভেম্বর নিউ ইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা সম্ভাব্য সাক্ষী হিসেবে সুচির বালাজির নাম আদালতে নথিভুক্ত করেন।
২২এ নভেম্বর থেকে বাবা-মার ফোন কল ও মেসেজে সুচির বালাজি সাড়া দিচ্ছিলেন না। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে স্যান ফ্র্যান্সিস্কো পুলিশকে জানান বালাজির বাবা-মা। ২৬এ নভেম্বর পুলিশ সুচির বালাজির ফ্ল্যাটে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পায়। তার মাথায় ছিলো একটি গুলির ক্ষত। ময়নাতদন্তের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, বালাজি আত্মহত্যা করেছিলেন।
তবে স্যান ফ্র্যান্সিস্কোর এবিসি সেভেন নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুচির বালাজির বাবা-মা আত্মহত্যার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, এবং পুনরায় তদন্তের ডাক দেন। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তারা সুচির বালাজি যেখানে ভাড়া থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের মালিকের বিরুদ্ধেও মামলা করেন।
২০২৫ ও ২৬ সালেও বিভিন্ন এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন ভঙ্গ ও মেধাস্বত্ব চুরির অভিযোগে অনেকগুলো মামলা হয়েছে, যার অনেকগুলোই এই প্রতিবেদন লেখার সময় চলমান। এর মধ্যে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিট্যানিকা ও মেরিয়াম ওয়েবস্টার বনাম পারপ্লেক্সিটি, কনকর্ড মিউজিক গ্রুপ বনাম অ্যান্থ্রপিক, স্টুডিও ঘিব্লি বনাম ওপেন এআই, ডিজনি বনাম মিডজার্নি, নিউ ইয়র্ক টাইমস বনাম পারপ্লেক্সিটি, সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং বনাম ওপেন এআই ও টাইমস অফ ইন্ডিয়া বনাম ওপেন এআই উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চলমান মামলা। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায়, বিভিন্ন মামলার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট দিয়ে অব্যহতি পেতে হয়েছে বিভিন্ন এআই কোম্পানিকে।
ফোর্বসের ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, গবেষণা থেকে জানা যায়, বিভিন্ন শিল্পীদের কাজের বড় অংশই কোনো ধরনের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন এলএলএম (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল) এর প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলোকে ‘রিমিক্স’ করে এআই-এর ভোক্তাদের কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে, শিল্পীদের কোনো কৃতিত্ব বা প্রতিদান দেওয়া ছাড়াই, এমনটি বলা হয়েছে ফোর্বসের প্রতিবেদনে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির (এমআইটি) প্রকাশনা এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ’র এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “এআই কোম্পানিগুলো তাদের প্রযুক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো ডেটা পাওয়ার জন্য ইন্টারনেটকে লুট করেছে।” যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাকেন্দ্র সেন্টার ফর ইকোনমিক পলিসি রিসার্চের (সিইপিআর) এক গবেষণাপত্রে লেখা হয়েছে, “এআই মডেল তৈরি করতে ব্যবহৃত ট্রেনিং ডেটার মধ্যে অনেক সময়ই কপিরাইট করা বই, প্রতিবেদন ও অনলাইন মিডিয়া থাকে।”
তাহলে শিল্প সাহিত্যের কী হবে?
দিনে দিনে বিভিন্ন কোম্পানি ছবি, ভিডিও, অ্যানিমেশন, কার্টুন, ইলাস্ট্রেশন, লেখালেখি, ইত্যাদির জন্য এআইয়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করছে। এই অবস্থায় মানুষের মনে উদ্বেগ দেখা যায় - প্রযুক্তি কি মানুষের বানানো শিল্পকে প্রতিস্থাপন করবে?
অনেকে মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সৃজনশীলতা বাড়াবে, কষ্ট কমাবে, এবং এআই জেনারেটেড কন্টেন্টের ছড়াছড়ি হয়ে গেলে মানবসৃষ্ট শিল্পের মূল্য বাড়বে। আবার অনেকে মনে করেন, সবাই সহজেই এআই দ্বারা ছবি-সংগীত-সাহিত্য তৈরি করে নিতে পারলে আর নিজে থেকে কেউ এসব দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করবে না। কেউ আবার বলেন, এটি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের স্বাভাবিক ধারা।
বিবিসির এক বিশ্লেষণে লেখা হয়েছে, “নতুন প্রযুক্তি এসে মানুষকে তাদের পুরনো সৃজনশীল সীমা থেকে মুক্ত করার নজির ইতিহাসে আছে। ১৯ শতকে ফটোগ্রাফির উদ্ভাবনকে উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়।” এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যামেরা আবিষ্কারের পর অনেকে তাকে চিত্রশিল্পের শত্রু হিসেবে দেখলেও, পরে তা নিজেই আলাদা একটি শিল্পের ধারায় রূপান্তরিত হয়।
একসময় মানবজাতির গর্বই ছিলো পেইন্টিং, ভাস্কর্য, সংগীত সৃষ্টির সক্ষমতা। এখন যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে কিছুক্ষণ পরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি কন্টেন্ট দেখতে হয়, যখন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাচাই করতে হয় যে তাদের শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া লেখা কতটা আসলে তারা নিজেরা লিখেছে, তখন মনে পড়ে যাত এআই নিয়ে স্টুডিও ঘিব্লির প্রতিষ্ঠাতা হায়াও মিয়াজাকির এক উক্তি। এআই জেনারেটেড ‘শিল্প’ দেখে তিনি বলেছিলেন, “আমার মনে হয় আমরা শেষ সময়ের দিকে এগোচ্ছি। মানুষ তার নিজের ওপর বিশ্বাস হারাচ্ছে।”