এনসিপি: জোটে জায়গা পেলেও ভোটযুদ্ধে এগিয়ে থাকা হবে কঠিন

বারোই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এনসিপির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন ভোটের মাঠে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করা।

শুরুতে ১২৫ আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা দিলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে দলটি শেষ পর্যন্ত থেমেছে মাত্র ৩০ আসনে। 

কিন্তু সমস্যা হলো, এই ৩০টি আসনের প্রায় সবকটিতেই ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর ভোটভিত্তি দুর্বল। কোথাও প্রায় অস্তিত্বহীন।

বিশ্লেষকদের মতে, যেসব আসনে জামায়াত নিজেই কখনো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি, সেসব আসন এনসিপির জন্য বড় কোনো ফল এনে দেওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত।

বরং জোট রাজনীতির হিসাব-নিকাশে এনসিপি আদৌ কতটা লাভবান হচ্ছে তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সার্জিস আলম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হান্নান মাসউদ, সারোয়ার তুষার সবাই নির্বাচনে লড়ছেন।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের হয়ে এই ৩০ আসনে নির্বাচনে লড়ছে এনসিপি। তবে এর মধ্যে শুধুমাত্র নাটোর-৩ আসনে একবার জয় পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। ১৯৯১ সালে আবু বক্কর শেরকোলী জিতেছিলেন ওই আসনে। 

এরপর কোনো নির্বাচনেই সেখানে জামায়াতে ইসলামী জেতেনি। 

আর বাদবাকি ২৯টি আসনের একটিতেও জামায়াত কখনোই সংসদ নির্বাচনে জয় পায়নি।

শরিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব

জামায়াতের শরিকদের মধ্যেও দ্বন্দ্ব বেশ স্পষ্ট। প্রকাশ্যে এর প্রভাব পড়ছে এনসিপির মধ্যেও।

৩০ আসনে এককভাবে দলটির নির্বাচন করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা হয়নি। এসব আসনের মধ্যে বেশ কয়েকটি আসনে শরিকরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার-৪ আসনে এনসিপির প্রীতম দাশের বিপরীতে শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদীকে রেখেছে। 

এ ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ-৪, ঢাকা-২০ ও রাজবাড়ী-২ আসনে খেলাফত মজলিস নিজেদের প্রার্থী বহাল রেখেছে।

সিরাজগঞ্জ-৬ ও ঢাকা-২০ আসনে শাপলা কলির সঙ্গে রয়েছেন শরিক দল আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রার্থীও।

সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে  নরসিংদী-২ আসনও। এখানে জামায়াতের জোট থেকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে এনসিপি নেতা সারেয়ার তুষারকে। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতের নেতা আমজাদ হুসেইনও।

তবে জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও বৃহত্তর জোটের স্বার্থে সারোয়ার তুষারকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয় দলটি।

ব্যালট পেপার থেকে জামায়াতের প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বাদ দেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদনও জানানো হয়। তবে নির্বাচন কমিশন সেই আবেদন গ্রহণ না করায় কারিগরি কারণে ব্যালটে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক থেকেই যাচ্ছে।

তবে শরিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কেটে যাবে বলে আশাবাদী এনসিপি। দলটির নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম আলাপকে বলেন, “জোটের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছে। আমরা প্রত্যাশা রাখছি, নির্বাচনের আগেই তার সমাধান হয়ে যাবে।”

লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, শরিক দল সমর্থন দিলেও এনসিপির শতভাগ জয়ের নিশ্চয়তা কম।

এনসিপির নিজস্ব ভোট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তাদের হয়তো  ১-২ পারসেন্ট ভোট আছে। ওরা মূলত যে ত্রিশ আসন পেয়েছে সেখানে জামাতের ভোটই ভরসা। কিন্তু জামায়াতের ফুল ভোট ট্রান্সফার হবে কি-না তা তো নিশ্চিত না। সাধারণত জোট করলেই কিন্তু একদলের ভোট অন্য জায়গায় যায় না।” 

জোটে থেকে লাভবান হবে এনসিপি? 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন পরিস্থিতিতে এনসিপি ভোটের মাঠে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, “এসব সিটগুলোতে আসলে সম্ভাবনা খুব কম দেখছি। যেসব আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট বাড়েনি সেখানেই এনসিপিকে সিট দিয়েছে জামায়াত।”

অধ্যাপক সাব্বির বলেন, “আসনগুলোতে যদি জামায়াতের ভোট উল্লেযোগ্য হারে বেড়ে থাকে, উইনিং পার্সেন্টেজ বাড়ে তাহলে সম্ভাবনা আছে, নাহলে তো কোনো সম্ভাবনা নেই।”

আলাপকে তিনি বলেন, জামাতের রাজনৈতিক লাভ হচ্ছে, জুলাই অভ‍্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিল সেই, গ্রুপটাকে তারা তাদের সাথে রাখতে পারল। কিন্তু ভোটের মাঠে লাভ হবে না।

তিনি মনে করেন, এনসিপির উচিত ছিল একাই নির্বাচন করা, তাহলে তাদের রাজনৈতিক লিগ্যাসি থাকতো।

“এনসিপির এই জোটে থেকে ভালো করার সুযোগ কম।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলছেন, এবারের ভোট আলাদা। আগে থেকে অনুমানের সুযোগ কম।

তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনের ফল কি হবে তো কোন ডেটা দিয়ে আমরা বিচার করব। পনেরো বছর তো দেশে নির্বাচন হয় নাই, ফলে সেই অর্থে বিশ্বাসযোগ্য কোনো ডেটা নেই। নির্বাচনের জয়-পরাজয় সম্পর্কে কিছু অনুমান করারই সুযোগ নাই।”

অনুমান করতে বড় ধরনের জরিপ করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জামায়াত অতীতে কত পেয়েছে, সেটা দিয়ে এবারের নির্বাচনে তাদের জোটের ফল বলা যাবে না।”

জামায়াতের ভোট পেলেও এনসিপি জিততে পারবে কি-না তা নিয়ে সংশয় আছে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের।

আলাপকে তিনি বলেন, “অতীতে জামায়াত দেশে প্রধান দল ছিল না এবং দ্বিতীয় প্রধান দলও ছিল না। এবার হয়তো জামায়াতের ভোট বেড়েছে, সে অনুযায়ী এনসিপি ভোট পাবে। ফলাফল কী হবে এটা বলা মুশকিল।”

তবে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী এনসিপি। দলটির নির্বাচনি মিডিয়া উপকমিটির প্রধান মাহবুব আলম আলাপকে বলেন, “মানুষ এখন দশ দলের প্রতি আস্থা রাখছে। এখানে ৭১ এর পক্ষের শক্তিও যেমন আছে, ২৪ এর মানুষও আছে। এটা একটা কমপ্লিট প্যাকেজ হয়েছে। ফলে মানুষ এখন এই জোটের প্রতি আগ্রহী।”

এসব আসনে ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত জিততে না পারলেও এনসিপি এখন ভালো করবে বলেই মনে করছেন এই নেতা। তিনি বলেন, “একটি বড় দল পুরোনো চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্ম করছে। নিজেরা মারামারি করছে। এই অবস্থায় দশদলীয় জোটের প্রতিই মানুষ আস্থা রাখছেন।”

“বারবার পরিবর্তনের কথা বলছে। দলীয় জোটে কোনো চাঁদাবাজি নেই, ঋণখেলাপি নেই। সবাই শিক্ষিত। মানুষ তাই মার্কা দেখে না, প্রার্থী দেখে এবার ভোট দেবে”, যোগ করেন তিনি।

ভোটের মাঠে এনসিপি 

হাসনাত আব্দুল্লাহ

হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ থেকে নির্বাচনে লড়ছেন এনসিপির শীর্ষ নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। এই আসনে বিএনপির কেউ লড়ছেন না। তবে বিএনপির জোট শরীক গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এই আসন থেকে ৫ বার জয় পেয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ ৪ বার, জাতীয় পার্টি থেকেও দুইজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তবে জামায়াতে ইসলামী কখনো জয় পায়নি।

সবশেষ ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়তের প্রার্থী মাত্র ৭ হাজার ২৪৭টি ভোট পেয়েছিল। ৪৬ হাজার ভোট পেয়ে সেই নির্বাচনে জয় পেয়েছিল বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।

এবারের নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান মনে করেন, আগে জামায়াত না জিতলেও হাসনাত আব্দুল্লাহর একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে। আর তার প্রতিপক্ষ জসিম উদ্দিন খুব সুবিধাজনক অবস্থানেও নেই।

আলাপকে তিনি বলেন, “জসিম উদ্দিনকে কেউ বিএনপির মনে করছে না। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে সমর্থন দিলে হয়তো ধানের শীষ ভালো অবস্থানে থাকতো। এই পরিস্থিতিতে হাসনাত আব্দুল্লাহই এগিয়ে আছেন।”

একই রকম পর্যবেক্ষণ টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির কুমিল্লা জেলার প্রধান আলমগীর খান। আলাপকে তিনি বলেন, “বিএনপি সেই অর্থে মাঠে নেই। আবার হাসনাত আব্দুল্লাহ শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এই পরিস্থিতি যদি পরিবর্তন না হয়, তবে হাসনাতের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।”

আব্দুল হান্নান মাসউদ

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ আসন্ন নির্বাচনে তার নিজের এলাকা নোয়াখালী-৬ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তার মূল প্রতিপক্ষ বিএনপির মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীও তানভীর হোসেনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়ছেন আসনটিতে। এছাড়া জামায়াতের জোটসঙ্গী এলডিপিরও একজন প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন।

এই আসন থেকেও জামায়াতে ইসলামী কখনো জয় পায়নি। ৫ বার জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি ৩ বার, জাতীয় পার্টি থেকেও দুইজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

সবশেষ জামায়াত এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৯৯৬ সালে। সেবার মাত্র ১২৫০ ভোট পেয়েছিলেন জামায়াত প্রার্থী মো. আবুল হোসেন।

নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি বখতিয়ার শিকদার আলাপকে বলেন, হান্নান মাসউদ নতুন নেতা, কিন্তু মানুষ তাকে গ্রহণ করছে না। বিশেষ করে তার বক্তব্যে নোয়াখালীবাসী সন্তুষ্ট না।

তিনি বলেন, “এই আসন দ্বীপ অঞ্চল। দ্বীপের মানুষরা যার শক্তি বেশি তার পেছনেই দাঁড়িয়ে যায়। বিএনপি বড় দল, তাদের প্রার্থীর পেছনেই এখন জনসমর্থন বেশি।” ভোটেও তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন এই সিনিয়র সাংবাদিক।

সার্জিস আলম

সার্জিস আলম

পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির হয়ে লড়ছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সচিব সার্জিস আলম।

এই আসনে বিএনপির হয়ে লড়ছেন মুহাম্মদ নওশাদ জমির। তিনি সাবেক স্পিকার ও বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে।

জমিরউদ্দিন সরকার এই আসন থেকে তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এছাড়া জাসদের নাজমুল হক প্রধানও এই আসন থেকে এবার লড়ছেন। তিনিও এই আসনের সাবেক এমপি।

এই আসন থেকে আপাতদৃষ্টিতে সার্জিস আলমের জয়ের সম্ভাবনা কম বলে মনে করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সাব্বির আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক মনে করেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের ছেলে নওশাদ জমির এখানে ভালো অবস্থানে থাকবেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সাধারণ পরিবারের ভোট পরিবারেই থাকে। আমরা তেমনটাই দেখে আসছি।” 

আখতার হোসেন

এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতা আখতার হোসেন দাঁড়িয়েছেন রংপুর-৪ আসনে। এই আসন থেকেও জামায়াতে ইসলামী কিংবা এমনকি বিএনপিও কখনো জয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

এই আসনে জাতীয় পার্টি তিনবার জয় পেয়েছে। সবশেষ তিন নির্বাচনে এখান থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

জামায়াতের জোট থেকে এই আসনে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন দাঁড়ালেও জোটের আরেক শরিক খেলাফত মজলিসও প্রার্থী দিয়েছে। আবু সাহ্‌মা এই আসন থেকে আখতারের প্রতিপক্ষ হিসেবে লড়ছেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ঢাকা-৮ থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার প্রতিপক্ষ বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা আব্বাস। এই আসন থেকে জামায়াত কিংবা তাদের জোটের শরীকরা কখনোই জিততে পারেনি।

এর আগে সবসময়ই এই আসন থেকে হেভিওয়েটরা জয় পেয়েছে। সবশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাহাউদ্দিন নাসিম জয় পেয়েছিলেন, তার আগের তিনবার ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন জয় পেয়েছিলেন। 

এছাড়াও ছিলেন আওয়ামী লীগের হাজী সেলিম, বিএনপির মীর শওকত আলীও এই আসন থেকে জয় পেয়েছিলেন। 

নাহিদ ইসলাম

নাহিদ ইসলাম

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়েছেন ঢাকা-১১ থেকে। তার প্রতিপক্ষ হিসেবে এখানে আছেন বিএনপি প্রার্থী ডা. এম. এ. কাইয়ুম।

বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা থানা নিয়ে গঠিত এই আসনেও কখনো জামায়াত কিংবা তাদের জোটসঙ্গীদের কেউ জয় পায়নি।

এর আগে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছয়বার করে জয় পেয়েছে।

সারোয়ার তুষার

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তার প্রতিপক্ষ হিসেবে আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।

এই আসন থেকে মঈন খান চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে তিনজন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। জাতীয় পার্টিও একবার জয় পেয়েছিল এই আসনে।

তবে বিএনপি নেতা ছাড়াও এনসিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকই। কারণ এই প্রতীকে নির্বাচন করছেন জামায়াতের আমজাদ হোসেন। 

আরো যত আসনে এনসিপি

শীর্ষ নেতারা ছাড়াও যে আসনগুলোতে এনসিপি নির্বাচন করছে সেগুলোতেও ঐতিহাসিকভাবে জামায়াত কখনো সফল হয়নি। শুধুমাত্র নাটোর-৩ আসনে জামায়াত জয় পেয়েছিল ১৯৯১ সালে।

এই আসনে এনসিপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এসএম জার্জিস কাদির । বিএনপির পক্ষ থেকে লড়ছেন মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এই আসনে ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী নির্বাচনে জয় পান আওয়ামী লীগের জুনাইদ আহমেদ পলক। পরের তিন ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনেও জিতেছিলেন তিনি। তবে তার আগে এই আসনটি বিএনপিরই দখলে ছিল। চারবারই জিতেছিল বিএনপি মনোনিত প্রার্থী।