সারা দুনিয়াতেই সবচাইতে সহজলভ্য, অপেক্ষাকৃত সস্তা এবং নির্ভেজাল প্রোটিনের উৎস হচ্ছে ডিম। বিজ্ঞানের তেলেসমাতিতে মুরগির এমন এক জাত আবিষ্কার হয়েছে, যার নাম ‘লেয়ার’ বা ‘ডিমপাড়ানী’। এই মুরগির জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে পৃথিবীর আট বিলিয়ন মানুষের নৈমিত্তিক পুষ্টির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জীবনভর ডিম পেড়ে যাওয়া।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডিমের বাজার সরগরম। ভোটের বাজারের আলাপের শীর্ষে আণ্ডাবাজি।
ঢাকা-৮ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটের দল এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে চারদিনের মাথায় দ্বিতীয়বারের মতো।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাদপ্রদীপের আলোয় আসা ছাত্রনেতারা ডিমের লক্ষ্য এই প্রথম নন।
গত বছরের বাইশে সেপ্টেম্বরের ঘটনা আপনাদের হয়ত মনে থাকবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ সভায় যোগ দিতে গেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে প্রতিনিধিদলের সাথে যখন বেরিয়ে আসছিলেন নবগঠিত জেনজি পার্টি এনসিপির নেতা আখতার হোসেন, তখন তার পিঠে এসে পড়তে থাকলো একের পর এক ডিম। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেল নির্বিকার আখতার হেঁটে যাচ্ছেন, তার পিঠ বেয়ে গড়িয়ে নামছে হলদেটে কুসুম।
বরিশাল বিভাগের কোন কোন অঞ্চলে ডিমকে বলা হয় ‘বয়জা’। আখতারকে বা হাসনাতকে লক্ষ্য করে যে বা যারা ডিম ছুঁড়েছেন, ধরে নিচ্ছি তারা ‘বয়জামারানী’।
আখতারের বয়জামারানীরা নিঃসন্দেহে ছিলেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পতিত সরকারের ভক্ত-সমর্থক। বিদেশ বিভুঁইয়ে বসেও তারা তাদের পছন্দের সরকারের পতনকারীদের একজনকে একহাত দেখে নেয়ার সুযোগ ছাড়তে চাননি।
আণ্ডাবাজির বাড়বাড়ন্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই বয়জামারানীদের বাড়বাড়ন্ত আরো কয়েকমাস আগে থেকে। সম্প্রতি চব্বিশের অভুত্থানকারীদের যদিও ডিমের লক্ষ্য হতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিরাই বয়জামারানী হয়ে উঠেছিলেন অভ্যুত্থানের পরপর।
পতিত আওয়ামী লীগের মন্ত্রী এমপিদের যখন ধরে ধরে একের পর এক আদালতে পাঠানো হচ্ছিল, তখন তারা বয়জামারানীদের শিকার হচ্ছিলেন - এই বয়জামারানীরা বিএনপির, ছাত্রদলের, জামায়াতের, শিবিরের, এনসিপির সমর্থক, কর্মী, নেতা।
তাদের ধারাবাহিক ডিম বর্ষণের শিকার হয়েছেন শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, সাবেক পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক আইনমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এনটিএমসির সাবেক প্রধান ও বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান প্রমুখরা।
যে বয়জামারানীরা এইসব মানুষদের উপর টার্গেট প্রাকটিস করেছেন তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য - যাদের অধিকাংশই পরে হয়েছেন এনসিপির সদস্য।
এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি লক্ষ্য করেও গণ ডিম নিক্ষেপ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল একবার।
গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে এই কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্র অধিকার পরিষদ। এই সংগঠনটি বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের নেতা নুরুল হক নূর - যিনি ভিপি নূর নামে অধিক পরিচিত - তার দল গণ অধিকার পরিষদের সহযোগী ছাত্র সংগঠন।
এই আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল, নিউইয়র্কে এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর ডিমবর্ষণের প্রতিবাদ করা।
যদিও শাপলাকলির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম্ববর্ষণকে ভালো চোখে দেখেননি দলের প্রধান নাহিদ ইসলাম।
তিনি মনে করেন, এই বয়জামারানী হলেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস।
মঙ্গলবার সন্ধ্যাবেলায় সংবাদ সম্মেলন করে মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তিনি বোঝেনওনি আজকে তিনি কী অপরাধটা করে ফেলছেন!”
“এক দলের প্রার্থীদের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হলে অন্য দলের প্রার্থীদেরও ওপরও ডিম পড়বে।”
“আমরা কোনো ভিকটিম কার্ড প্লে করতে আসি নাই। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে আসছি, হুঁশিয়ারি দিতে আসছি, যদি আঘাত আসে তাহলে পাল্টা আঘাত আসবে। যদি নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করে, যদি পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে যা করণীয় আমরা করব", বলেন এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম।
এই ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করে অনেকেই লিখেছেন, “নাহিদ অন ফায়ার’।
ফায়ার বা আগুন ব্যবহার করে তৈরি বয়েল্ড বা ওমলেট থেকে যে প্রোটিন মেলে তাকে বলা হয় ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’।
একজন মানুষের শরীর তার প্রয়োজনীয় ৯ ধরনের জরুরি এমিনো এসিড নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না। মুরগি কিংবা হাঁসের একটি ডিমে এই ৯ ধরনের এমিনো এসিডই রয়েছে।
বলা হয় প্রতিটি মানুষের দৈনিক অন্তত একটি ডিম খাওয়া উচিত।
আর ছ-সাতটি ডিম খেয়ে মানবদেহের দৈনিক প্রোটিন বা আমিষের চাহিদাও মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। তবে ডিমে এমন আরো কিছু খাদ্যগুণ আছে যে একদিনে ছ-সাতটা ডিম মানবদেহে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই ডিম দিয়ে প্রোটিনের চাহিদা মেটানো খুব একটা ভাল সিদ্ধান্ত হবে না।
তবে পৃথিবীতে যে তিন ধরনের খাদ্যকে খুবই পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর বলে মানা হয় তার একটি হচ্ছে ডিম - বাকি দুটি হচ্ছে মধু এবং দুধ।
এর মধ্যে মধু ও দুধে ভেজাল মেশানো সহজ হলেও ডিমে ভেজাল মেশানো সহজ নয়, বরং অসম্ভব।
ডিম্বার্থনীতি
চব্বিশের জুন-জুলাই মাসে যখন ঢাকা ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল তখন গভীর রাতে ঢাকার অপেক্ষাকৃত ফাঁকা হয়ে যাওয়া সড়কগুলোতে ঘুরে বেড়াতাম।
প্রায় রাতেই আমার সঙ্গী থাকতেন আব্দুল্লাহ আল মুঈদ। তিনি একজন উন্নয়নকর্মী, কাজ করেন জাতিসংঘে, অর্থনীতির একজন সাবেক ছাত্র।
ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গভীর রাতে আমরা বিচ্ছিন্ন হতাম ফার্মগেইটের আনন্দ সিনেমার সামনে থেকে।
সেই সময় সেখানে রাতভর কয়েকটি দোকানে বিক্রি হতো সেদ্ধ ডিম। বিদায়ের আগে আমরা খেয়ে নিতাম একটি কিংবা দুটি হাফবয়েল বা ক্রিমবয়েল।
এসব ডিমের খদ্দের মূলত রাতে কাজ করা মানুষ - রিকশাওয়ালা, সিএনজি চালক কিংবা কারওয়ান বাজারকেন্দ্রীক মুটে-মজুর।
ধীরে ধীরে আমরা আবিষ্কার করতে থাকলাম, ডিম বিক্রেতাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একরাতে পুরো হাওয়া। তারপর বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে আমরা আর কোনো ডিম বিক্রেতার সন্ধান পেলাম না।
সেইরকম একসময় আব্দুল্লাহ আল মুঈদ প্রসব করেন তার ‘ডিম্বার্থনীতি তত্ত্ব’। মুঈদের ভাষায়, মানুষের যখন সংগতি কমে যায়, রোজগারে হাত পড়ে, তখন দৈনিক পুষ্টি সংগ্রহের নিদান হিসেবে তার পথচলতি ডিম খাওয়া কমে যায়। দোকানগুলো উধাও মানে, তাদের বিক্রিবাট্টা কমে গেছে, তার মানে নিম্ব আয়ের মানুষের আয় আরো কমে গেছে।
এই তত্ত্বের কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই, কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্য উপাত্ত নেই। কিন্তু বহুদিন আমরা নিজেদের মধ্যে ডিম্বার্থনীতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এবং সত্যিকার অর্থেই তখন মানুষের আয় কমছিল। ঢাকা এবং বাংলাদেশ ক্রমেই উত্তাল হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের দিকে। এরকম সময়ে সবচাইতে সহজলভ্য এবং সস্তা পুষ্টির উৎস ডিম নিম্নআয়ের মানুষ তার প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় যোগ করতে পারলো কি পারলো না সেটা দেখার সময় কই কর্তাদের?
এই ডিমের দাম বাড়া নিয়ে কি কম কথা হয়েছে? কাঁচা বাজারে এখন প্রতিটি ফার্মের মুরগির দাম ১২ টাকা।
অনেকে বলেন অনেক দাম। আসলে কি অনেক দাম?
এই শতকের গোড়ার দিকে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি, তখন হলের ক্যান্টিনে প্রতিটি ওমলেটের দাম ছিল ৫ টাকা। তখন ক্যান্টিনে এক বেলার খাবারের দাম দশ টাকা। যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসি তখন ক্যান্টিনে এক বেলার খাবারের দাম পঁচিশ। কিন্তু ডিমের দাম তখনো পাঁচ।
পঁচিশ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে এখন প্রতিটি ওমলেটের দাম পনেরো টাকা।
২০০০ সালে যখন ডিমের দাম পাঁচ টাকা তখন সোনার ভরি সাত হাজার টাকা।
আজ এই লেখা যখন লিখছি তখন সোনার ভরি দুই লাখ সত্তর হাজার টাকা। পঁচিশ বছরে সোনার দাম বেড়েছে চল্লিশ গুণ। ডিমের দাম বেড়েছে মোটে তিনগুণ। আমার মতে বাংলাদেশের বাজারে ডিমের দামই সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল। বাড়ে, তবে মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় সেটা সহনীয় পর্যায়েই হয়।
প্রতিবাদে-প্রত্যাখ্যানে ডিম
এই ভালো, সহজলভ্য, নির্ভেজাল এবং অপেক্ষাকৃত সস্তার খাবারটি কখন এবং কীভাবে হয়ে উঠলো প্রতিবাদের ভাষা?
যদিও প্রতিবাদ বা প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবে পঁচা ডিম বা খাদ্য ছুঁড়ে পাওয়ার বিবরণ পাওয়া যায় ইতিহাসে, কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই একথা মানবেন - পচা ডিমের চাইতে ভালো ডিম সহজলভ্য! তাই ধরে নেয়া যেতে পারে যেসব ডিম্বাবর্ষণের ঘটনা আমাদের সামনে আসে, সেগুলো পচা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
গবেষক ও লেখক আফসান চৌধুরী বলছেন, “সারা দুনিয়াতে ডিমটা খুব সহজে ভাঙে, গায়ে পড়ে, কাপড়চোপড় নষ্ট নয়, সারা দুনিয়াতেই এই ডিম ছোঁড়া হয়। রং, ডিম, পানি এগুলো সবসময় ছোঁড়া হয়। এ হতেই থাকবে।”
পুরো বিংশ শতাব্দী জুড়েই বিশ্বের বিভিন্ন অংশে প্রতিবাদ ও প্রত্যাখ্যানের ভাষা হিসেবে ডিম ছুঁড়ে মারার নজির খুঁজে পাওয়া যায়।
ব্রিটেনের নর্দাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক একাটারনিয়া গ্লাডকোভা লিখেছেন, খাদ্যদ্রব্য বহুকাল ধরেই প্রতিবাদের এক শক্তিশালী অস্ত্র।
আঠারোশ শতকের ‘ফুড রায়ট’ বা খাদ্য দাঙ্গার উল্লেখ পাওয়া যায় ঐতিহাসিক ই পি থম্পসনের লেখায়। ওই সময় ইংল্যান্ডের খাদ্যের উচ্চমূল্য কমানোর জন্য এই বিক্ষোভ হয়েছিল।
ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের প্রভাষক ইভান স্মিথ লিখেছেন, বিশ্বজুড়েই নৈতিক প্রত্যাখ্যানের প্রতীক হিসেবে খাদ্য, বিশেষ করে ডিম, টমেটো এবং অন্যান্য নরম এবং আঠালো খাদ্যদ্রব্যের ব্যবহার দেখা যায়।
১৯১০ সালে উইনস্টন চার্চিলকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মেরেছিলেন ব্রিটিশ নারী ভোটাধিকার আন্দোলনকারী এথেল মুরহেড। চার্চিল সেসময় ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল কারাবন্দি নারী ভোটাধিকার কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও অনশনকারীদের জোর করে খাবার খাইয়ে দেয়ার।
১৯৬০ সালে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট নিক্সন যখন শিকাগোতে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তখন তাকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়েছিল ডিম এবং টমেটো।
১৯৭৭ সালে এসেক্স ইউনিভার্সিটিতে গিয়ে ‘ময়দা বোমা’ ও ডিম হামলার শিকার হয়েছিলেন মার্গারেট থ্যাচারের পাঁড় সমর্থক স্যার কিথ জোসেফ।
ডিম হামলাকে ইংরেজিতে বলা হয় ‘এগিং’।
দশকের পর দশক ধরে এগিংয়ের শিকার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিবিদেরা।
অস্ট্রেলিয়ার কুখ্যাত এগিংয়ের ঘটনাগুলোর একটির শিকার হন প্রধানমন্ত্রী বিলি হিউস। কুইন্সল্যান্ডে এই ঘটনা ঘটে ১৯১৭ সালে।
১৯৭০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম ফ্রেজার বেশ কয়বার এগিংয়ের শিকার হন।
১৯৭৯ সালে একবার ফ্রেজারের দিকে ডিম ছুঁড়ে মেরে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিয়েছিলেন ‘বড়লোকদেরই খাওয়াও’।
১৯৮১ সালে ম্যাককোয়ার ইউনিভার্সিটির ছাত্ররাও ফ্রেজারকে লক্ষ্য করে ডিম ও টমেটো ছোঁড়েন।
বিগত দশকগুলোতেও এগিং অব্যাহত ছিল দুনিয়াজুড়ে। ২০০৯ সালে একটি সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে এগিংয়ের শিকার হন ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির নিক গ্রিফিন।
ফ্রান্সে ২০১৭ ও ২০২২ সালে এগিংয়ের লক্ষ্য হন ফ্রন্ট ন্যাশনাল পার্টির মেরিন লে পেন।
২০১৯ সালে ইংলিশ ডিফেন্স লিগের নেতা টমি রবিনসন, ইউকিপ প্রার্থী ও ইউটিউবার কার্ল বেঞ্জামিন এবং নাইজেল ফারাজ শিকার হন ‘মিল্কশেকিং’-এর। অর্থাৎ তাদের লক্ষ্য করে ছোড়া হতো দুগ্ধজাত পানীয় মিল্কশেক। এক পর্যায়ে এই নেতাদের সভামঞ্চের আশপাশে থাকা ম্যাকডোনালসগুলোতে মিল্কশেক বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে শুরু করে ব্রিটিশ পুলিশ।
কোন কোন বিশ্লেষক এসব হামলাকে সহিংস হিসেবে বর্ণনা করলেও ইভান স্মিথের চোখে এসব হামলা হচ্ছে প্রতিবাদের ‘অহিংস’ উপায়।
“এসব হামলার উদ্দেশ্য অবমাননা করা, আহত করা নয়", লিখেছেন ইভান স্মিথ।