ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের একক ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে নতুন করে স্থান পেয়েছে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি।
শেখ মুজিবের ছবি সরিয়ে ফেলা প্রসঙ্গে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমার ভাষ্যে, “২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টের পর ফ্যাসিবাদের সব আইকনের ছবি এখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাই এখানে রাখা হয়নি। আর ৭২-৭৫ সালের অংশে তো তার ছবি আছে।”
অনলাইন গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে রবিবার একথা বলেন তিনি।
১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল অংশে কেন নেই, এ প্রশ্নে জুমা বলেন, “ইচ্ছা হয়নি, তাই রাখিনি।”
বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানো, জিন্নাহর ছবি স্থান পাওয়া এবং জুমার মন্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল বিতর্ক।
প্রশ্ন উঠেছে, কারো ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর কি ইতিহাস পাঠ বা সংরক্ষণ নির্ভর করবে কিনা?
ছবি সরানো নিয়ে যা হয়েছে
কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদী হত্যার পূর্বাপর বেশ কিছু স্থিরচিত্র সেখানে স্থান পেয়েছে।
একইসঙ্গে পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায় সংগ্রহশালায়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ডাকসুতে গিয়ে জিন্নাহর ছবি সরিয়ে সেখানে সাঁটিয়ে দেয় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের একটি ছবি।
ছবিটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বায়তুল মোকাররমে ফিলিস্তিনের যুদ্ধে শহীদ দুই বাংলাদেশির জানাজা নামাজ পড়তে এলে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে জুতাপেটা করেন’।
এই ছবিটি সাঁটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী অর্ক বড়ুয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেন ছাত্রনেতা আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে বয়োজ্যেষ্ঠ ভিপি প্রার্থী ছিলেন।
আবু তৈয়ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি পদে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বয়স্ক প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনার বিষয়ে ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা তার ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘ডাকসু সংগ্রহশালায় হামলা করে ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে।’’
ছবি সরানো ও লাগানোর পেছনে যে রাজনৈতিক প্রশ্ন
১৯৯২ সালের ৭ই জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা ডাকসু এই সংগ্রহশালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। এ ধরনের সংগ্রহশালায় কোনো পরিবর্তন আনতে গেলে নিয়ম বা কিছু প্রক্রিয়া মেনে করতে হয় বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।
“যদি সংস্কার প্রয়োজন হয় সেটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, কী বাদ যাবে আর কোনটা যুক্ত হবে। সেটার জন্য একটা বাছাই কমিটি হওয়া নিয়ম। সেটা ডাকসুর একক এখতিয়ার নয়।”
তিনি আলাপ-কে বলেন, “ আমরা ওখানে সরেজমিনে গিয়েছিলাম। এখানে যেসব প্রক্রিয়া বা ধাপগুলো পালন করার কথা, সেসব প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়নি।”
তবে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরিয়ে জিন্নাহ’র ছবি লাগানো প্রসঙ্গে নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য বাকী বিল্লাহ আলাপ-কে জানান, তিনি জিন্নাহকে কোনো ‘অ্যাবসুলেট ভিলেন’ মনে করেন না। তবে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে, ইতিহাসের সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জিন্নাহ জামায়াতে ইসলামীর প্রিয়পাত্র ছিলো না উল্লেখ করে বাকী বিল্লাহ আলাপ-কে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলো। তারা এখন হয়তো ভাবছে জিন্নাহকে একটা আইকনিক চরিত্র হিসেবে দাঁড় করালে, তারা যে ইসলামি রাজনীতি করতে চায়, সেটা সহজ হবে।”
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখতে চান না। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রশ্রয়ে’ গত দুই বছরে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট অনেক কিছুই সরিয়ে ফেলা বা ধ্বংস করা হয়েছে।
“এসব কারণেই স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের অঙ্গ সংগঠন ছাত্র শিবির তাদের মতো করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেখানোর চেষ্টা করছে। স্বাভাবিকভাবে পাকিস্তান, জিন্নাহ, গোলাম আযম তাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।”
জিন্নাহকে রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হিসাবেও ডাকসুতে ছবি রাখা অন্যায় কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জোবাইদা বলেন, “জিন্নাহ ইতিহাসের অংশ হতে পারে। কিন্তু যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, তার ছবি প্রতিস্থাপন করে নয়।”
বাংলাদেশে ক্ষমতাবদল হলে ইতিহাসও বদলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পাঠ্যপুস্তকও বদলে যায়।
“একটা দেশের ইতিহাসকে দেখার এবং আপডেট করার স্কলারলি মেথডোলজি আছে, সেই প্রক্রিয়া ব্যবহার না করে ইতিহাস নামানো-উঠানো বা লেখা বা মোছা কোনোটাই উচিত নয়, ” অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন।
ছবি বিতর্কে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
বিতর্কের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ডাকসু কর্তৃক ‘ডিইউ ইভালুয়েশন’ নামে ওয়েবসাইট চালু, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের আলোচিত ছবি টানানোর ঘটনা তদন্ত এবং এসব বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার জন্য তদন্ত কমিটিগুলো গঠন করা হয় সোমবার।
এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়েও আছে দুই ধরনের মত। রাজনৈতিক ব্যর্থতার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বলতাও উঠে আসছে।
বাকী বিল্লাহ মনে করেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতার চেয়েও রাজনৈতিক সিস্টেমের ব্যর্থতা বেশি দায়ী।
তার মতে, ডাকসু নির্বাচনগুলো নিয়মিত হয়নি। যার কারণে ডাকসু “একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি।”
আর এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক পদ্ধতির সমস্যা হিসাবে দেখেন।
“ডাকসুর পূর্বের ইতিহাসের সঙ্গে এখন কোনো সংযোগ নেই, সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানকে মেরে ফেলা হয়েছে। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছি না, এটার দায় করাপ্ট পলিটিক্যাল সিস্টেমের।”
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার প্রসঙ্গ এনে জোবাইদা নাসরীন বলেন, “যখন এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তখন কর্তৃপক্ষ যদি ত্বরিৎ গতিতে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে সেটাই স্বাভাবিক।”
একদল শিক্ষার্থী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে আবার গোলাম আযমের ছবি লাগিয়েছে। সেক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিষয়টি হতে পারতো কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে সামিনা লুৎফা বলেন, “যারা ভাঙচুর করেছে, তারা তো প্রথম ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় করেছেন। তবে সেটাও অপ্রয়োজনীয় ছিলো। বরং যারা এ রকম ইতিহাস বিকৃত করেছেন তাদের আগে জবাবদিহি চাওয়া দরকার ছিলো।”
ড. সামিনার মতে প্রথম কাজটি নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভঙ্গ করে করা হয়েছে।
“এটা অনেকটা স্বৈরাচারি মনোভাবের মতো। আমার ক্ষমতা আছে, আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। ইচ্ছা হলো বলে ইতিহাস মুছে দেওয়া যায় না।”
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে না পারার পেছনে স্বাধীনভাবে কাজ করার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন বাকী বিল্লাহ। তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার ১৬ বছরের কর্তৃত্ববাদি সিস্টেম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মেরে ফেলেছে। তাই সে স্বাধীন নেই। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ডাকসু বা ছাত্র সংসদগুলোই বা চরিত্র কোথা থেকে পাবে?
ডাকসু সংগ্রহশালার প্রতিষ্ঠাকালীন কিউরেটর গোপাল চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আলাপ-কে বলেন, “আমি ২০১৪ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছি। তখন পর্যন্ত জিন্নাহর কোনো ছবি ছিলো না। তবে পাকিস্তান আমলের টাকা আছে সংগ্রহে, সেখানে জিন্নাহর ছবি আছে।”
তিনি আরও জানান, ডাকসু প্রতিষ্ঠাকালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য তখন সহযোগিতা করেছে। তারা কখনো কোনো কিছু চাপিয়ে দেননি। তারা সবসময়ই আমাকে বলেছেন, ইতিহাস ইতিহাসের জায়গায় রাখতে হবে।
ডাকসু সংগ্রহশালার কোনো বিধি-বিধান আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, উপাচার্য কর্তৃক নিয়ম আছে। সেটা মেনেই সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি এও মনে করেন, ডাকসু এবং তার সংগ্রহশালা বাংলাদেশের ইতিহাস। এটাকে সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন।
ডাকসু যা বলছে
জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় রাখার বিষয়ে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেছেন, জিন্নাহর ছবি রাখার উদ্দেশ্য তাকে গৌরবান্বিত করা নয় বরং বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে ইতিহাসের অংশ হিসাবে তুলে ধরা।
তিনি আরও বলেন, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে হয়নি। এর আগে ধারাবাহিকভাবে অনেকগুলো প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিলো। জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমরা সেই বক্তব্যের ক্যাপশনসহ তার ছবি দিয়েছি।
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘‘আমরা যদি জিন্নাহর ছবি না দিতাম, তখন বলা হতো—জিন্নাহ বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটা আমরা লুকিয়েছি। এখন ছবি ও ক্যাপশন দেওয়ার পর বলা হচ্ছে ছবি কেন রাখা হয়েছে।’’
তার দাবি, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার মাধ্যমে তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না। বরং তার বিতর্কিত ভূমিকা তুলে ধরতেই ছবির সঙ্গে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটি মনে করে, এটি ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।
সোমবার ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির উল্লেখ করেন, ১৯৪৮ সালের ২১এ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিল; যা পরবর্তীতে আমাদের রক্তক্ষয়ী ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তি গড়ে দেয়। যে ছাত্র সংসদ বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার, ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই বিতর্কিত নেতার ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি সরাসরি অবমাননা।