চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাচার করে দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে। চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ান।
এসআরবি জানিয়েছে, পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাদের রাশিয়ার হয়ে উইক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাঠানো হতো। শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলায় অন্তত ২০ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
এই পাচার চক্রের অন্যতম দুইজন জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
তারা জানায়, ২০২৬ সালের ৭ই মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই ৩০ জন বাংলাদেশি রাশিয়ায় যান। নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়।
সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। উল্টো তাদের রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তদন্তের এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
এসআরবি-১০ এর অধিনায়ক আরও জানান, যতজন বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে, তাদের কেউই যুদ্ধে যাওয়ার জন্য যাননি।
সংস্থাটি বলেছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্তের জন্য একধরনের টোপ বা ‘শিকার’ হিসেবে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হতো। তাদের ওপর ড্রোন হামলা করলে, রাশিয়ান সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করত।
যুদ্ধে অংশ নিতে গিয়ে প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় ১৭ জন মারা যান। পরে বিভিন্ন সময় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এসআরবি।
জীবিত ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে রাজন নামে একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনের আঘাতে তার কোমর ভেঙে যায় এবং শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। বুকের ওপর ভর দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি ক্যাম্পে পৌঁছান। বাকি আটজনের মধ্যে দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্য ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই মানব পাচারের সঙ্গে বাংলাদেশি চক্রের পাশাপাশি রাশিয়ার ইগর নামের এক ব্যক্তি ও কিরগিজস্তানের জুলিয়া নামের এক নারী যুক্ত ছিলেন। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা একইভাবে যুক্ত হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কেউ কেউ ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলেন। তাদের পরিবারের অনেকে স্বজনের মৃত্যুর খবর পেলেও মরদেহ দেখার বা দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছেন না।