বিদ্যুৎ বন্ধ করে গোলাগুলি, আহত সাধারণ মানুষ

রবিবার সন্ধ্যা সাতটা। হঠাৎ করেই যখন বিদ্যুৎ চলে গেল, গেন্ডারিয়ার করাতিটোলার এলাকাবাসী অন্যান্য দিনের মতোই এটাকে লোডশেডিংই মনে করেছিলো। রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো মানুষ, দোকানপাট সবই খোলা।

এমন সময়ই হঠাৎ করে গোলাগুলির তীব্র আওয়াজ। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন তিনজন। তাদের বুকে, মাথায়, পায়ে বিঁধেছে বুলেট। এলাকাবাসী বা কারোরই জানার কথা নয় যে, এটি কোনো লোডশেডিং ছিলো না। প্রকাশ্যে, নির্বিঘ্নে গুলি চালানোর জন্যই স্থানীয় মাদকব্যবসায়ীরা বন্ধ করে দিয়েছিলো বিদ্যুৎ সংযোগ। 

গুলিবিদ্ধ তিনজনই ছিলেন নিতান্ত সাধারণ মানুষ। তারা এখন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আশা আক্তার এবং সিয়াম যখন গুলিবিদ্ধ হন, তখন তারা রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। স্থানীয় চায়ের দোকানদার আলমগীর দেকানে বসা অবস্থাতেই গুলি খেয়েছেন মাথায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যাম্পের দায়িত্বপালকারী এক কর্মকর্তা মো. ফারুক জানান, তিনজনকে ঘটনার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

আহত আলমগীরের স্ত্রী আলাপ-কে জানান, ওই গোলাগুলির সময় তার স্বামী দোকানেই ছিলেন। তার কপালে গুলি লেগেছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

গুলিবিদ্ধ পথচারী আশা আক্তার বলেন, ওইদিকে দিয়ে যাওয়ার সময় মারামারি হতে দেখেন। কিছু বুঝে উঠবার আগে একটি গুলি তার পায়ে এসে লাগে।

ঘটনায় নাম উঠে এসেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার। এলাকাবাসীর কথা, সংঘর্ষের পেছনে রয়েছে মাদক ব্যবসা নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব। পুলিশ বলছে, ঘটনা গভীরে খতিয়ে দেখছে তারা।

কেন এই ঘটনা?

রবিবার ঘটনার পর পুলিশের ইনসিডেন্ট রিপোর্টে বলা হয়, মাদকদ্রব্যের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ৪০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. মনির হোসেন ও তার ভাতিজা অটো সজল গ্রুপের সঙ্গে বিবাদে জড়ায়। যদিও অটো সজল কারাগারে আছেন।

রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয়, মনির হোসেন তার লোকজনের সহযোগিতায় বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ সংযোগ। এরপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে তারা স্থান ত্যাগ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকাবাসী আলাপ-কে বলেন, এখানে মাদকব্যবসা চলে সেটা সবারই জানা। প্রভাবশালীদের সহায়তায় এখানকার একাধিক গ্রুপ অপ্রিরোধ্য হয়ে উঠেছে দিনে দিনে।

আরেকজন অভিযোগ করে বলেন,মাঝে মাঝে অভিযান চললেও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারাও এসব মাদকব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দিয়ে আসছে।

পুলিশের তৎপরতা

গেন্ডারিয়া থানার ওসি মনিরুজ্জামান খান বলেন, এখনো কোনো মামলা হয়নি। ভিকটিমদের পক্ষ থেকে কেউ মামলা করতে আসেননি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের ডিসি মো. আকতার হোসেন আলাপকে বলেন, আমরা কয়েকজনের নাম পেয়েছি, কিন্তু তদন্তের স্বার্থ এখনই তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং তা বিশ্লেষণ ও ঘটনা নিয়ে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।