চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে খুঁজছিলো পুলিশ। খবর ছিলো, তার এক সহযোগী ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার ভোর রাতে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি দল।
সেখানে সন্দেহ হয় কালো রঙের একটি গাড়িকে ঘিরে। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ইমনকে শনাক্ত করে। পুলিশের ভাষ্য, নিজের পরিচিত গোঁফ কেটে ফেলেছিলেন ইমন। ফলে প্রথম দেখায় তাকে শনাক্ত করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।
ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তার অভিযানের বর্ণনা এভাবেই আলাপ-কে দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
মাসুদ আলম বলেন, “পাঁচ সহযোগীসহ সন্ত্রাসী ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই শুটার।“
ইমন বিদেশে পলাতক আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ৩০এ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩এ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে।
তবে পুলিশের অভিযোগ, ইমনের কর্মকাণ্ড শুধু এসব মামলায় সীমাবদ্ধ ছিলো না। প্রকাশ্যে না থেকেও একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামজুড়ে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, নগরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করত ইমনের চক্র।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রের ভাষ্য, ইমন সরাসরি মাঠে না নেমে মোবাইল ফোন এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে চক্রটি পরিচালনা করতেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, ভাঙচুর এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।
নিরাপত্তার শঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী এসব ঘটনা প্রকাশ্যেও আনেননি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ইমন ও তার পাঁচ সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদে চট্টগ্রামে তাদের চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।