শাহজালালে ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ, বিমানের দাবি ‘সত্য’ নয় 

সৌদি আরব থেকে ফেরার পর ঢাকার হযরত শাহাজাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। 

ভুক্তভোগী একজনের স্বজন বলছেন, তার বাবার লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি তারা ‘গভীরভাবে পর্যালোচনা’ করছেন।

ঘটনা বুধবার ভোরের। জেদ্দা থেকে ৪১৯ জন হাজি নিয়ে ঢাকায় ফেরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩১০৪ ফ্লাইট। 

কিন্তু বিমান থেকে নেমে লাগেজ পাওয়ার পর তারা বুঝতে পারেন কেটে মালামাল চুরি করে নেওয়া হয়েছে। 

ওই বিমানে ছিলেন আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক কানাডা প্রবাসী মোস্তফা কামাল পলাশের বাবা। তার লাগেজ কেটেও মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

“আপনি কি জানেন যে আজ রাত ৩ টার সময় পবিত্র হজ্জ শেষে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যে ৪১৯ জন হাজি দেশে ফিরেছে তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জনের লাগেজ কেটে মালামাল বের করে নিয়েছে ঢাকা বিমান বন্দরের ইমানদার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা? এই ১৫০ জন হতভাগ্য হাজির মধ্যে আমার আব্বাও ছিল একজন,” ফেইসবুকে পোস্টে পলাশ লিখেছেন।

সৌদি আরব  থেকে ফেরা হাজিদের ‘‘লাগেজগুলো রক্ষার’‘ ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুরোধ করেন তিনি।

পলাশের পোস্টের পরই ওই ঘটনা ভাইরাল হয়ে যায়। তার পোস্ট দেখে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিমের একজন সদস্য তাকে ফোন করেন বলে পরে আরেক পোস্ট জানান তিনি। 

তিনি লেখেন, সৌদি আরবের অবস্থান করা ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদও তাকে ফোন করে ঘটনা শুনে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ও সেই সাথে হাজিদের লাগেজ চুরির দুঃসংবাদ শুনে খুবই লজ্জিত হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহজালাল বিমানবন্দরের একজন কর্মকর্তা আলাপ-কে বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। 

“সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হচ্ছে। যেই জড়িত থাক তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে,” নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন তিনি। 

তবে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ বলছেন, বেশ কিছু লাগেজ ‘ড্যামেজড’ অবস্থায় বিমানবন্দরে নেমেছে। 

“বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বেশ কিছু ব্যাগ কন্টেইনার থেকে ড্যামেজ অবস্থায় নেমেছে। অর্থাৎ যাত্রাস্থল থেকে এভাবেই এসেছে,” আলাপ-কে বলেন তিনি। 

রাগীব সামাদ বলেন, “তবে সব ব্যাগ এখনও চেক সম্পন্ন হয়নি। শেষ হলে ক্লিয়ারলি বলা যাবে। ব্যাগ সমূহে রেস্ট্রিকটেড আইটেম থাকলে অরিজিন থেকেই তা রেখে দেয়া হয়।” 

হাজিদের জন্য চেকড-ইন লাগেহে জমজমের পানি বহন করা নিষিদ্ধ বলে জানান তিনি।

আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের পোস্টে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা অস্বীকার করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফেসবুক পোস্টে ১৫০ জন যাত্রীর লাগেজ কাটার যে দাবি করা হয়েছে তার পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট অভিযোগ নেই। প্রকৃতপক্ষে, উক্ত ফ্লাইটে আসা ৮৩৬ পিস ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ জন যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের নিকট মৌখিকভাবে জানান। 

“সম্মানিত যাত্রীদের ব্যাগ থেকে মূল্যবান কোনো সামগ্রী খোয়া যায়নি। তবে একজন যাত্রী তাঁর ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন।” 

এতে আরও বলা হয়েছে, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ‘১৫০ জন হাজির লাগেজ কেটে মালামাল চুরি’-এর দাবিটি সত্য নয়।”  

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে।