আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা এক হাজারের বেশি আফগান নাগরিককে কঙ্গোতে পাঠানোর কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান এ খবর দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করে একটি অলাভজনক সংস্থার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে এই এগারোশ আফগানির এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাতারে আটকে আছেন।
তালেবানবিরোধী যুদ্ধে মার্কিনিদের সাহায্য করার কারণে তাদের জীবন ঝুঁকিতে ছিল। তাই নিরাপত্তা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধার করে কাতারে নিয়ে আসে।
কাতারে আটকে পড়া আফগানমিত্রদের জন্য দুটি পথ ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা চাইলে যুদ্ধবিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে চলে যেতে পারে অথবা তালেবানশাসিত নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
কঙ্গোতে কয়েক দশকের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে ৮২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৯০ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুনর্বাসন আলোচনা নিয়ে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে পুনর্বাসনসংক্রান্ত আলোচনা এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন ডনাল্ড ট্রাম্প উদ্যোগটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যার আওতায় মার্কিন যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী আফগানরা যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের জন্য আবেদনের সুযোগ পেতেন।
কাতারে আটকে থাকা আফগানিদের মধ্যে দোভাষী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের স্বজনও আছেন। এর মধ্যে চারশরও বেশিশিশু।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তান তালেবান নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের ফিরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আফগান শরণার্থী নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা 'আফগানইভ্যাক'-এর প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডাইভার দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন যে, তিনি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা পররাষ্ট্র দপ্তরের ভেতরে ও আশেপাশে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এই আলোচনাগুলোর বিষয়ে শুনেছেন।
ভ্যানডাইভার জানান যে, কাতারে থাকা ১,১০০ জন আফগান নাগরিকের মধ্যে ৯০০ জন যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের জন্য যোগ্য। বাকি ২০০ জন যারা যোগ্য নন, তাদের ব্যাপারে কঙ্গো ছাড়াও অন্য দেশগুলোর সাথে আলোচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
ভ্যানডাইভার আফগানদেরকে স্বাগতম জানিয়ে বলেন, “বাকিদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসা উচিত।” ভ্যানডাইভার আরও বলেন যে, এই আফগানদের মধ্যে ১০০ থেকে ১৫০ জন সক্রিয় সামরিক সদস্যদের পরিবারের সদস্য, আর ৭০০ জনের বেশি নারী ও শিশু।
ভ্যানডাইভার বলেন, “কেবল একটি নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই সবকিছুর সমাধান করা সম্ভব।”
তিনি জানান, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আটকে থাকা আফগানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারে, যারা ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছেন।
এমন শঙ্কাও আছে যে কঙ্গোর সাথে আলোচনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিবে না। ভ্যানডাইভার বলেন, আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া তাদের জন্য সম্ভবত নিশ্চিত মৃত্যু ডেকে আনা।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, তারা কাতারের ক্যাম্প আস-সাইলিয়াতে থাকা আফগানদের স্বেচ্ছায় পুনর্বাসনের বিকল্পগুলো খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন যে, এই দলটিকে তৃতীয় দেশে স্থানান্তরিত করা একটি ইতিবাচক সমাধান। মুখপাত্র আরও বলেন, “ক্যাম্প আস-সাইলিয়াতে থাকা আফগান নাগরিকদের বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে আসার মতো কোনো কার্যকর পথ বা সুযোগ নেই।”
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে, তারা পুনর্বাসন উদ্যোগের বিষয়ে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সাথে নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগ রাখছে, তবে এই আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে তারা আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করছে না।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে