আমেরিকা-ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলা শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিলো যে, দ্রুত জয়লাভ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের রেজিম চেইঞ্জ করে ফেলবেন এবং সেই বিজয়কে নিজের ‘কৃতিত্ব’ হিসেবে দেখাবেন।
নিখুঁত পরিকল্পনা এঁটে শুরু হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। যুদ্ধ কৌশল হিসেবে বেছে নেওয়া হয় ‘ডিসেপিটেশন স্ট্রাইক’ বা ‘শিরশ্ছেদমূলক আক্রমণ’। অর্থাৎ শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
তাই যৌথ হামলার প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেইনিসহ বিপ্লবী রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার, সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়।
ট্রাম্প সবসময়ই স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের পক্ষপাতী। এর আগে, গত জুনে ইরানে ১২ দিনের হামলা এবং এরপর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় রেখেছিলেন।
এছাড়া অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়েছিল, সেসবেরও কঠোর সমালোচনা করে বেড়ান ট্রাম্প।
স্বভাবসিদ্ধভাবেই স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শুরুতেই, শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে ইরানিদের ভড়কে দিতে দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তার ধারণা ছিল, এই ঘটনায় পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এরপর হয় রেজিম চেইঞ্জ হবে অথবা জনগণ বিদ্রোহ শুরু করবে।
কিন্তু ইরানের প্রতিরোধ সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা হাজির করে ট্রাম্পের সামনে। শীর্ষ নেতাদের হারানোর পর ইরানিরা তো দমে যায়ইনি, বরং পুরো অঞ্চলে পালটা আঘাত হেনে যুদ্ধের পরিসর ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে ফেলেন।
ইরানের মুহুর্মুহু হামলা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের ইরানের শত্রুরা। ইসরায়েলের অবিরাম হামলা চলতে থাকে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিও রক্ষা পায়নি।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যায়, তেল সরবরাহের বিঘ্ন ঘটায় পুরো বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্থির হয়ে ওঠে।
ইরানিদের প্রতিরোধের মুখে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। চাপ বাড়তে থাকে ট্রাম্পের ওপর।
অবশেষে নানা হুমকি ধামকি দিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সরে এসেছেন ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের বক্তব্য থেকেও।
ইরান দেখিয়েছে, তারা টিকে থাকতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ‘বড় ধরনের’ ক্ষতিও করতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, উচ্চ প্রযুক্তির সমরাস্ত্র ব্যবহার করা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে ইরান কীভাবে প্রতিরোধ গড়ে টিকে থাকলো?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে ইরানের গড়ে তোলা রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যেখানে ক্ষমতার কাঠামোকে বিকেন্দ্রীভূত করে ফেলা হয়েছে। শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে প্রক্সি যুদ্ধ, অসম লড়াইয়ে আমেরিকাকে ক্লান্ত করে ফেলেছে ইরান।
কিন্তু দশকের পর দশক অর্থনৈতিক অবরোধে থাকা ইরান কীভাবে ক্ষমতার কাঠামো বিকেন্দ্রীভূত করলো, যা বর্তমান পরাশক্তিদের ভাবিয়ে তুলেছে।
ইরানের প্রতিরক্ষার চার স্তম্ভ
নিরাপত্তাবিষয়ক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গবেষণা, বিশ্লেষণ, পূর্বাভাস ও কৌশল তৈরি করে নিউইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সুফান সেন্টার (Soufan Center)।
আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার পেছনে মূল চারটি স্তম্ভ কাজ করেছে বলে মনে করছে এই প্রতিষ্ঠানটি। এগুলো হলো:
- অসম যুদ্ধ কৌশল (asymmetry war)
- প্রক্সি ব্যবহার
- ক্ষেপণাস্ত্র
- এবং ‘মোজাইক ডিফেন্স সিস্টেম’ বা বিকেন্দ্রীকরণ
সুফান সেন্টারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশল: বিকেন্দ্রীকরণই স্থিতিস্থাপকতার মূল ভিত্তি’ শীর্ষক এক নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির চারটি মূল স্তম্ভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযানের বিরুদ্ধে টিকে থাকার কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”
নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য ইরান কম খরচে এমন এক কৌশল বের করেছে, যা মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমেরিকা ও ইসরায়েলের।
এটাকেই বলা হচ্ছে অসম যুদ্ধ কৌশল। এর সহ মানে হলো- হামলা বা প্রতিরক্ষার জন্য ইরান খরচ করবে কম। কিন্তু, শত্রুদের ব্যয় হবে অনেক বেশি।
সুফান সেন্টারের নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত হলো তাদের অসম যুদ্ধ কৌশল। তেহরান জানে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত যুদ্ধে জয় পাওয়া সম্ভব নয়। তাই তারা অনিয়মিত কৌশলের ওপর নির্ভর করে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে চায়।”
মূলত অর্থনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি এবং ব্যয়ের অসমতা কাজে লাগিয়ে এই কৌশল প্রয়োগ করা হয় ওই নিবন্ধে লেখা হয়েছে।
যেমন- একটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করছে ইরানের আনুমানিক খরচ হয় ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মতো। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ব্যবহার করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় একেবারেই সস্তা।
এর বিপরীতে, আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ‘প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টর’-এর প্রতিটি শটের খরচ প্রায় চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ব্যয়ের এই অসমতার কৌশল দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করে আসছে ইরান।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগর সংকটের সময় নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করেছে। সেখানে তুলনামূলকভাবে সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছিল।
নব্বইয়ের দশকে আট বছর ধরে চলা ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় কম ব্যয়ের যুদ্ধ কৌশল ব্যবহার করে তারা। ওই সময় রেভ্যুলিউশনারি গার্ডস ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার করে আক্রমণ চালিয়ে ইরাককে নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে।
সেই যুদ্ধ কৌশলের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সোয়ার্মিং ট্যাকটিকস’ (swarming tactics)। মানে ঝাঁকে ঝাঁকে আক্রমণ।
ইরাক-ইরান যুদ্ধে সফল প্রয়োগের পর ছোট ছোট নৌকা দিয়ে আক্রমণ করার কৌশল আরো উন্নত ও বিকেন্দ্রীকরণ করেছে ইরান। এর ফলে প্রচলিত নৌবাহিনী ধ্বংস হলেও আক্রমণের ক্ষমতা পুরোপুরি কমে যায় না।
এবারের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আকাশে আধিপত্য দেখালেও ড্রোন ও মিসাইল দিয়ে শত্রুদের ক্ষতি করতে পেরেছে ইরান। ড্রোন সস্তা, সহজে তৈরি করা যায় এবং যেকোনো স্থান থেকে ছোড়া যায়।
ইরানের কাছে ‘সস্তা’ শাহেদ ড্রোনের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কেউ কেউ বলে থাকেন, এই সংখ্যা হতে পারে ছয় থেকে ১০ হাজার।
ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের কাছে শাহেদ ড্রোনের মজুত রয়েছে ৮০ হাজার। রাশিয়ার সহায়তায় তারা প্রতিদিন উৎপাদন করতে পারে ৪০০ ড্রোন।
ড্রোন ছাড়াও ইরানের আরেক অস্ত্র হলো আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে ইরান সমর্থিত নানা বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
ইরানকে কিছু বলা মানে ওই সহযোগীরা নিজের ওপর আক্রমণ বলে গণ্য করে এবং প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রক্সি বাহিনীগুলোকে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে ইরান। তাদের “অ্যাক্সিজ অব রেজিসট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ হিসেবে আছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, প্যালেস্টাইনের হামাস এবং ইরাকভিত্তিক বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী।
এবার ইরানে হামলা শুরুর পরই হিজবুল্লাহ ও হুতি ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। ইসরায়েলকে একইসঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়।
ব্রিটিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং সাবেক সামরিক প্রশিক্ষক জন ফিলিপস মনে করেন, প্রক্সি যুদ্ধ হলো আমেরিকা ইসরায়েলকে চাপে ফেলার ইরানের আরেকটা কৌশল।
“মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হিজবুল্লাহ ও ইরানের অন্যান্য মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমের মাধ্যমে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে এবং পুরো অঞ্চলে ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে,” আল জাজিরাকে বলেছেন তিনি।
প্রক্সি যুদ্ধ কৌশলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইরানের ‘স্লিপার সেইল’ বা ‘গুপ্ত ইউনিট’ ছড়িয়ে রয়েছে বলে আলোচনা হচ্ছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো, “ইরান তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে বিদেশে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিতে পারে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক হামলার নির্দেশ দেন, তাহলে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুতে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে প্রতিশোধমূলক সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে ইরান, এমন উদ্বেগ তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
“এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনা শনাক্ত করা যায়নি। তবে “চ্যাটার” বা যোগাযোগের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখাচ্ছে, যে কোনো পর্যায়ে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় চলছে,” লেখা হয় নিউইয়র্ক টাইমসে।
এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন হিজবুল্লাহর অপারেশনাল ইউনিটের এক কর্মী, যিনি ছিলেন স্লিপার সেলের সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে তাকে সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিরাপত্তাবিষয়ক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান সুফান সেন্টারের নিবন্ধে লেখা হয়েছে, “সংঘাতের এই অস্তিত্বগত গুরুত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।”
“ডনাল্ড ট্রাম্পকে যখন এই হুমকি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি বলেন যে, আমেরিকানদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে কিছু ক্ষতি অনিবার্য হতে পারে।”
ইরানের আরেকটি অস্ত্র হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের কেন্দ্রীয় উপাদান হয়ে উঠেছে।
চার হাজার কিলোমিটার দূরের দিয়াগো গার্সিয়াতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরান উল্লেখযোগ্য চাপ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
ইরানের কাছে আড়াই হাজারের মতো ব্যালিস্টিক মিসাইলের মজুত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে এই সক্ষমতার কিছুটা ক্ষতি হলেও পরে উৎপাদন করে আবার মজুত বাড়ানো হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমাধ্যগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরান ওয়াচ নামের একটি ওয়েবসাইটে ২৬শে জানুয়ারির এক প্রতিবেদন লেখা হয়, ইরানের কাছে আনুমানিক ২,৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
অসম যুদ্ধ কৌশল, প্রক্সি যুদ্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারের সমন্বয় হয় বিকেন্দ্রীভূত ক্ষমতার মাধ্যমে। এটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মাধ্যমে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল
ইরানে যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সার্বিক সমন্বয়নের কাজ করে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। এখানে রয়েছেন- রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রীয় অভিজাতরা, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।
জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সব ধরনের নীতিমালা নির্ধারণের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে এই কাউন্সিল। সেটা পারমাণবিক ইস্যু হোক কিংবা সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়।
এই কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একত্রিত হয়ে পরামর্শ ও সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয় সুপ্রিম নেতার কাছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব ওপর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না। বরং সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেটাই বাস্তবায়ন করেন তিনি।
ক্ষমতার এই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ব্যবস্থার কারণেই যুদ্ধের শুরুতে খামেনিকে হত্যা করার পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থেকেছে বলে মনে করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিশেষজ্ঞ আশকান হাশেমিপুর।
ইগলসবার্গ আইডিয়াস প্লাটফর্মে এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কর্তৃত্ব কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এই ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যাতে এটি ব্যক্তিনির্ভর না হয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে কার্যকর থাকতে পারে।”
তাই খামেইনির মৃত্যুও এই ব্যবস্থার কার্যকারিতায় খুব বেশি পরিবর্তন আনেনি এবং তার পুত্র বা অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মৃত্যুতেও প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করেন আশকান।
ইসগলসবার্গ আইডিয়াসের নিবন্ধ উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কোনো একক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গঠিত নয়। এর প্রাতিষ্ঠানিক নকশা এমনভাবে তৈরি যে, এটি কোনো ব্যক্তির ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে না। এর মূল লক্ষ্য হলো পুরো ব্যবস্থাটিকে টিকিয়ে রাখা।
আশকান হাশেমিপুর মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য উদাহরণ থেকে ইরানের শাসনব্যবস্থা স্পষ্টভাবে ভিন্ন। যেমন: সাদ্দাম হোসেনের ইরাক, মুয়াম্মার গাদ্দাফির লিবিয়া কিংবা বাশার আল আসাদের সিরিয়া।
“এই শাসনগুলো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এবং বিভিন্ন মাত্রার বিদেশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ভেঙে পড়লেও, সবগুলোই ছিল গভীরভাবে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দামের বিরুদ্ধে স্থলবাহিনী পাঠানোর আগে সেখানেও ডিসেপিটেশন স্ট্রাইক চালিয়েছিল। গাদ্দাফিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা করেছিল ন্যাটো। আর আসাদ সিরিয়া ত্যাগ করার পর তার পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।”
ট্রাম্প সম্ভবত ইরানকেও একটি ব্যক্তি-কেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা হিসেবে দেখেছিলেন বলে মনে করেন আশকান।
“কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং শাসনব্যবস্থা টিকে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি চাপিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন প্রতিবেদনে (কয়েক সপ্তাহ আগে) বলা হয়েছে, ইরানে বড় আকারের যুদ্ধ করেও শাসন পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। কারণ ইসলামি প্রজাতন্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ভেঙে পড়া অত্যন্ত ব্যক্তি-কেন্দ্রিক স্বৈরশাসনের থেকে মৌলিকভাবে ভিন্ন।”
মোজাইক সিস্টেম বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ
অস্থির মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থার বিবেচনায়, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে মোজাইক প্রতিরক্ষা নীতি গ্রহণ করে এবং গত দুই দশক দেশটির দেমটির বিকশিত হচ্ছে এই নীতির মাধ্যমে।
এই কৌশলের মাধ্যমে কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ এমনভাবে করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ডিসেপিটেশন স্ট্রাইক বা নেতৃত্বকে নির্মূল করার লক্ষ্যে চালানো আঘাতের বিরুদ্ধেও ইরানের ব্যবস্থা টিকে রয়েছে।
আবার সামরিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে দেশটিকে সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাও কমে গেছে।
দেশটিতে সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ডস করপস রয়েছে সমান্তরালভাবে। এই দুই বাহিনীই সর্বোচ্চ নেতার অধীনে কাজ করে। তিনি থাকেন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনীর নাম হলো আরতেশ। এর অধীনে রয়েছে আরো চারটি বাহিনী। এগুলো হলো:
- ইসলামিক রিপাবলিক অব ইনার গ্রাউন্ড ফোর্সেস
- ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান নেভি
- ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ারফোর্স
- ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান এয়ার ডিফেন্স ফোর্স
আরতেশসহ এই পাঁচ বাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা ৬ লাখ ১০ হাজার।
এদিকে ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্স করপসের (আইআরজিসি) অধীনে রয়েছে আরো পাঁচটি বাহিনী। এগুলো হলো:
- আইআরজিসি গ্রাউন্ড ফোর্সেস
- আইআরজিসি নেভি
- আইআরজিসি এরোস্পেস ফোর্স
- আইআরজিসি কুদস ফোর্স
- আইআরজিসি বাসিজ (রিজার্ভ ফোর্স)
আইআরজিসিসহ এই ছয় বাহিনীর সদস্যসংখ্যা হলো ৬ লাখ ৪০ হাজার।
আরতেশ নেতৃত্বাধীন বাহিনীগুলো মূলত ভূখণ্ড প্রতিরক্ষা, আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রচলিত যুদ্ধের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। আর আইআরজিসির ভূমিকা শুধু প্রতিরক্ষা নয়, ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো রক্ষা করাও এর অন্যতম কাজ। আকাশসীমা ও ড্রোন অস্ত্রভাণ্ডারও নিয়ন্ত্রণ করে আইআরজিসি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমন জটিল সামরিক কাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাইরের ও ভেতরের (ক্যু) উভয় ধরনের হুমকি থেকে সুরক্ষিত থাকে ইরান।
মোজাইক ডিফেন্স মডেল ঘোষণা করা হয় ২০০৫ সালে। বিপ্লবী গার্ড করপসের জেনারেল মোহাম্মদ জাফরির তত্ত্বাবধানে এটা করা হয়।
মোজাইক মডেল হলো- বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে আইআরজিসির কমান্ড ও কন্ট্রোল কাঠামো ৩১টি পৃথক কমান্ডে পুনর্গঠিত হয়। এর ফলে আক্রমণ হলে দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ হয়।
এই কৌশলে সংকটের সময় আঞ্চলিকভাবে নিয়োজিত আইআরজিসির ইউনিটগুলোকে বাসিজ বাহিনীকে দ্রুত মোতায়েন করতে পারে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্দেশের জন্য অপেক্ষা না করেই শত্রু মোকাবিলায় বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে এবং দ্রুত সাড়া দিতে পারে।
৩১টি ইউনিটেরই নিজস্ব গোয়েন্দা সক্ষমতা, অস্ত্রভাণ্ডার এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ তাদের প্রতিটি কমান্ডের কাছে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক কাঠামো।
ইরাক, আফগানিস্তান এবং বলকান অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সীমাবদ্ধতাগুলো পর্যবেক্ষণ করে এই নীতির ভিত্তি গড়ে উঠেছে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ফর ইরান ম্যাথিউ ম্যাকনিস (Matthew McInnis)।
“এসব সংঘাতে দেখা গেছে, অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থার ওপর ডিসেপিটেশন স্ট্রাইক দ্রুত কার্যকর হলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চলে যায়,” সুফান সেন্টারকে বলেছেন তিনি।
বিকেন্দ্রীভূত ‘মোজাইক ডিফেন্স’ পদ্ধতির কার্যকারিতা ফুটে এবারের যুদ্ধে। তেহরানের হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মুরু হয় পালটা হামলা।
ইরান থেকে হামলা চালানো হয় ওমানে। কিন্তু সেটা ভুল ছিল বলে পরে বিবৃতিতে জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেন, “আমাদের সামরিক ইউনিটগুলো এখন বাস্তবে স্বাধীন এবং কিছুটা বিচ্ছিন্ন। তারা আগে দেওয়া সাধারণ নির্দেশনার ভিত্তিতে কাজ করছে।”
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে, উপর থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সীমিত যোগাযোগে পরিচালিত আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইউনিটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
মোজাইক প্রতিরক্ষার এই কাঠামোই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের জন্য ইরানে স্থল আক্রমণ বা স্থলযুদ্ধ জটিল করে তুলতে পারে বলেও মনে করেন সমরবিদেরা।
এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ইরান কতটা রক্ষা পেয়েছে তা উঠে এসেছে আয়ারল্যান্ডের মেনুথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা নিবন্ধে।
সেখানে লেখা হয়েছে, “৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব। যদিও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও মোজাইক ডিফেন্স নীতির কারণে তাদের পালটা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এটি এমন একটি বিকেন্দ্রীভূত কৌশল, যেখানে কেন্দ্রীয় কমান্ড ব্যাহত হলেও আঞ্চলিক কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালাতে পারেন।”
“ইরানের কৌশল হামলার পরিধি আরও বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণের দুই ঘণ্টার মধ্যেই ইরান ম্যাডনাম কৌশল গ্রহণ করে। যার ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের সূচনা ঘটে। এর মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করতে চায় যে, তারা ইসরায়েলের ধারণা অনুযায়ী কোনো কাগুজে বাঘ নয়।”
ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা চালানোর ঘটনা বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে বলেও ওই গবেষণায় লেখা হয়েছে।
আমেরিকা-ইসরায়েলের হামলার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে মেনুথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
“কোনো বিদেশি শক্তির হাতে কোনো নেতা নিহত হলে তা ‘র্যালি অ্যারাউন্ড দ্য ফ্ল্যাগ’ প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর একাংশের মধ্যে তিনি শহিদ বা জাতীয় নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। এই ঘটনা ইরানের ভেতরে ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী ঐক্যকে আরও জোরদার করেছে।”
“যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিছু কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে। কিন্তু ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেনি এবং আত্মসমর্পণের কোনো লক্ষণও দেখাচ্ছে না। শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, শিয়া ইসলামি আদর্শে পরিচালিত এই রাষ্ট্রে আত্মসমর্পণকে গুরুতর পাপ হিসেবে দেখা হয়।”
জোরপূর্বক কোনো পরিবর্তনের চেষ্টা ইরানে গৃহযুদ্ধ এবং সম্ভাব্য ভৌগোলিক অখণ্ডতা ডেকে আনতে পারে বলেও ওই নিবন্ধে লেখা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস করপসকে গড়ে তোলা হয়েছে স্থলযুদ্ধের জন্য মূলত গেরিলা কৌশলে।
শুরুর দিকে তাদের অনেক কমান্ডার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনে ক্যাম্পে, যা প্রভাবিত ছিলো ভিয়েতনাম যুদ্ধের গেরিলা কৌশল দ্বারা।
“এই ধরনের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি হারাতে না পারলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে টিকে থাকতে পারে। এটাই ইরানের জন্য এক ধরনের বিজয় হিসেবে গণ্য হবে। ইরাক যুদ্ধের মতো বড় আকারের স্থল অভিযান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তাদের পরাজিত করা কঠিন,” লিখেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান গবেষক আশকান হাশেমিপুর।
নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই মোজতবা খামেইনি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ না করা বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। সেই ঘোষণার পর ইরানের জনতা রাস্তায় নেমে ‘না আপস, না আত্মসমর্পণ-প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগানে মুখর করে তুলেছে।
ইরানের বিকেন্দ্রীকৃত ক্ষমতা কাঠামো, অপ্রচলিত সামরিক কৌশল, প্রক্সি যুদ্ধ, মিসাইল ভাণ্ডার এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতা- সব মিলিয়ে তাদের দ্রুত পরাজিত করা কঠিন।
ফলে এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বদলে দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও ক্ষয়ক্ষতির যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সমর কৌশলবিদেরা।