টানা ঊর্ধ্বগতির পর মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির পরই তেলের দাম কমা শুরু হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার মতো কিছু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত তাদের ওপর যা আঘাত করেছে, তার থেকেও বিশ গুণ শক্তি দিয়ে আঘাত করবে।”
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেলের দাম টানা বাড়তে শুরু করে। সোমবার ব্যারেল প্রতি দাম পৌঁছে প্রায় ১২০ ডলারে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর মঙ্গলবার এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুড ও নাইমেক্স লাইট সুইটের দাম ৬ শতাংশ কমেছে।
ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে আলাপ করেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই দাম কমে বলে আল জাজিরা-কে জানান রাশিয়ার এক সরকারি কর্মকর্তা।
ফ্লোরিডায় সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা একটি ছোট অভিযানে নেমেছি। কারণ আমাদের মনে হয়েছে, কিছু অশুভ শক্তি দূর করা দরকার। আমার মনে হয় অভিযান হবে স্বল্পমেয়াদের।”
“ট্রাম্পের মন্তব্য বাজারকে শান্ত করেছে। গতকাল দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। আর আজ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে,” আল জাজিরাকে বলেছেন ডিবিএস ব্যাংকের এনার্জি সেক্টর টিম লিড শুভ্র সরকার।
তবে তেলের দাম কমলেও এশিয়ায় শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা গেছে। জাপানে নিক্কেইয়ের সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ঢাকার শেয়ার বাজারের সূচকও বেড়েছে।
তবে তেলের দাম সোমবারের তুলনায় দাম কিছুটা কমলেও, ইরানে হামলার আগে যে দাম ছিল, তার চেয়ে এখনো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
একজন বাজার বিশ্লেষক বিবিসিকে বলেন, “ট্রাম্পের মন্তব্য শুনে মনে হতে পারে যে, যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। তবে প্রশ্ন হলো, যুদ্ধক্ষেত্রে আসলেই কোনো পরিবর্তন আছে কি না?”
তবে ট্রাম্পের কথায় চলমান যুদ্ধ শেষ হবে না বলে ইরান থেকে জানানো হয়েছে।
ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় ঠিক করবে ইরান। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এক লিটার তেলও বের হতে দেবে না তেহরান।”