জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়া ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে আবারও ব্যাপক বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফরাসি শ্রমিক ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মসূচির পাশাপাশি সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিতর্কিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ সরকারের জ্বালানি নীতিমালার প্রতিবাদে ২০১৮ সালে আন্দোলন করা ব্যক্তিদের বলা হয় ‘ইয়োলো ভেস্ট’। এই নামকরণ করা হয়েছিলো হলুদ রঙের ভেস্ট বা জ্যাকেটের নামানুসারে, যা ফ্রান্সের আইন অনুযায়ী প্রতিটি গাড়ির ড্রাইভারকে নিজের গাড়িতে রাখতে হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা অসন্তোষ ও ধর্মঘটের পর শনিবার আরেক দফা আন্দোলন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির তরুণেরা। তরুণদের প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমোদন দিলেও ‘ইয়েলো ভেস্ট’কে অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।
অনুমতি ছাড়াই ফ্রান্সের আইনসভার কাছে অবস্থিত ‘প্লাস দে লা কনকর্ড’-এ আলাদাভাবে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’। এই স্থানে বিক্ষোভ প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির প্রশাসন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ইয়েলো ভেস্ট সমন্বয় কমিটির সদস্য বেঞ্জামিন বল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দেশটিতে মোতায়েন করা হয়েছে ৭০ হাজার পুলিশ। দাঙ্গাকারী বা লুটপাটকারীদের মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ।
ফ্রান্সে চলমান আন্দোলনগুলো বেশিরভাগ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ৬০০ এর বেশি মানুষকে। পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ। এই নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে দেশটিতে।
অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে দেশের ন্যূনতম মজুরি, সার্বিক বেতন বৃদ্ধি এবং কর সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ইন্টার-ইউনিয়ন জোট। আন্দোলন থামিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে সোমবার ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তাদের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বড় এই অর্থনীতির ওপর আছে ঋণ কমানোর চাপ। তাই সরকারের পক্ষে আন্দোলনকারীদের সব দাবি রাতারাতি পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।