হরমুজ প্রণালির কাছে জলসীমায় নৌ টহল বাড়াচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি জলসীমায় নৌ টহল বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জলদস্যুতা দমনে নিয়োজিত চেওংহে ইউনিটের কার্যক্রম ওমানের দুকম বন্দরের কাছাকাছি জলসীমা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পার্লামেন্টে উত্থাপন করবে সরকার। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ও মন্ত্রিসভার সম্মতিও প্রয়োজন হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য চেওংহে ইউনিটের দায়িত্ব বাড়ানো হচ্ছে।”

তবে এই সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধবহির্ভূত। ইউনিটটি মিত্রবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় না করে স্বাধীনভাবে কাজ করবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “ওমানের দক্ষিণে উন্মুক্ত জলসীমায় ইউনিটটির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকবে। টহল বিমান ইরানের ভূখণ্ড, আঞ্চলিক জলসীমা কিংবা হরমুজ প্রণালির ভেতরে নজরদারি বা লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করতে পারবে না।”

হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে ওমানের দুকম বন্দর। ২০০৯ সাল থেকে এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে চেওংহে ইউনিট। দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবে মধ্যপ্রাচ্যে ইউনিটটির মোতায়েনের মেয়াদও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি তেলের আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশটির শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট তেল সরবরাহের ৭০ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এর বেশিরভাগই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার সমর্থন যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে চলতি গ্রীষ্মে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াও কমিয়ে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এতে দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।