ভারতের দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে।
১২ই অক্টোবর, সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিক্ষোভ মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। এদিকে, জন্তর মন্তরে নতুন করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কংগ্রেসের এই কর্মসূচির নেতৃত্বে রয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ‘চলো দিল্লি’ স্লোগানে আয়োজিত এই মিছিলের উদ্দেশ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো এবং ভোটার তালিকার সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের আপত্তি তুলে ধরা। বিরোধী জোটের নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্তের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে প্রধান বিচারপতি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন জানানো যেতে পারে।
কংগ্রেসের মিছিলকে কেন্দ্র করে ১২ই অক্টোবর সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সকাল ছয়টা থেকে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে মধ্য ও নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোতে যানজটের আশঙ্কা আছে। অফিসগামী মানুষ এবং বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে যাতায়াতকারীদের হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার কারণে সকাল ছয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দিল্লি মেট্রোর ছয়টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এসব স্টেশনে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন।
এদিকে, একই ইস্যুতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির সহ-সমন্বয়ক আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, সোমবার তারা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণের আবেদন করবেন। এ জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিক্ষোভের তারিখ জানানো না হলে সংগঠনটি নিজেরাই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে ১০ই অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। তবে দিল্লি পুলিশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে অনুমতি দেয়নি। ওই দিন বিক্ষোভের আগে সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হয় এবং শান্তি বজায় রাখার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।